সিএনএমঃ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে ইজারা বন্ধের দাবিতে প্রতীকী গণঅনশন কর্মসূচি পালনকালে এমন হুঁশিয়ারি দেন। বন্দর রক্ষা কমিটির ব্যানারে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন সেলিম বলেছেন, ২০০৭ সাল থেকে এনসিটি সফলভাবে পরিচালিত হয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে। দেশের অর্থায়নে নির্মিত এই টার্মিনাল কোনো অবস্থাতেই বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। এ দাবি আদায়ে প্রয়োজন হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে মশাল মিছিল, বিক্ষোভসহ আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ইফতেখার কামাল খান বলেন, আজকের গণঅনশন প্রতীকী কর্মসূচি। সরকার যদি সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তাহলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রতীকী গণ-অনশনে বক্তারা জানিয়েছেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। তাই বন্দরের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ শুধু অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত।
এনসিটি ২০০৭ সাল থেকে সফলভাবে পরিচালিত হয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল রাজস্ব যোগ করেছে। বন্দরের নিজস্ব জনবল ও সক্ষমতা থাকায় বিদেশি অপারেটরের প্রয়োজন নেই। তাদের মতে এনসিটি ও সিসিটি দেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। তাই এগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের কোনো যৌক্তিকতা নেই।