জমি অধিগ্রহণের অর্থ ফুফুদের সাথে জালিয়াতি করে তুলে নেন প্রতারক চক্র
সিএনএমঃ
ঢাকার জেলার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানাধীন পশ্চিমদী এলাকার বাসিন্দা মরহুম আফতাব উদ্দিন ৩ দলিলে ৬১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তার মৃত্যুর পর ৫ মেয়ে ১ ছেলে ওয়ারিশ রেখে যান। ১ ছেলে আকবর আলী, ৫ মেয়ে রপবান বেগম,মরিয়ম বেগম,আমিনা খাতুন,জামিনা বেগম ও কামিনা বেগম।
ছেলে আকবর আলী আন রেজিস্টি না -দাবী নামা জাল দলিল করেন। সেই জাল না- দাবী দলিল দিয়ে আকবর আলীর মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা তাদের নিজ নামে নামজারী করে নেয়। জমিটি কেরানীগঞ্জ জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের জন্য জেলা প্রশাসক অধিগ্রহণ করে। পশ্চিমদী মৌজার আর,এস ১৩২৮ নং দাগের ৬১শতংশ জমি। চিঠি দেওয়ার পর মৃত আফতাব উদ্দিনের মেয়েরা লোক মারফত জানতে পারেন যে তার মৃত পিতার রেখে যাওয়া জমিটি তার ভাইয়ের ছেলেরা অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের বিল তাদের ৫ বোনকে বাদ দিয়ে তুলে নেওয়া জন্য চেষ্টা করছে।তখন তারা নামজারী বাতিলের জন্য কেরানীগঞ্জ এসিল্যান্ডে মিসকেস দায়ের করেন। এ বিষয়ে উচ্চআদালতে রিট ও দেওয়ানী মামলা চলমান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল,এ) আদালতে এল, এ কেস নং ০২.০৭.০২/২০১৮.২০১৯ অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো,আঃ হালিম গত ২১/০৭/২৫ ইং তারিখে শুনানি শেষে একটি আদেশ দেন।
চতুর্থ যুগ্ম জেলা জজ আদালত,ঢাকা দেওয়ানি মোকদ্দমা ২৫১/২০২৫ ও ভূমি আপিল বোর্ডে ১৪১ / ২০২৫ নং মিস রিভিশন মোকাদ্দমা চলমান থাকায় বাদী ও বিবাদীগণের নামে অধিগ্রহণকৃত ভূমি মালিকানার নিরুপন করা সম্ভব নয়।সেহেতু উক্ত মোকাদ্দমা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বিতরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখা যেতে পারে। পরবর্তীতে উক্ত মোকাদ্দমা ২ টির রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে এবং সে প্রেক্ষিতে আবেদনটি নতিজাত করা যেতে পারে।
গত ১২ ই জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে এল,এ শাখা -২ খোজ নিতে গেলে আইনজীবী দেখেন ডিসেম্বর মাসে এল,এ ২ এর অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো,আঃ হালিম ও সার্ভেয়ার সিরাজুল এর যোগসাজশে আকবর আলীর ছেলে প্রতারক হারুন অর রশিদ, ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, মেয়ের জামাই পারভেজ ও জয়নাল মিলে আপন ফুফুদের বাদ দিয়ে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের বিল প্রায় ২ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা জাল ভূয়া কাগজ দিয়ে তুলে নিয়ে গেছেন।
গত মঙ্গলবার (১৪ ই জুলাই) আদালতে বিচারাধীন বিরোধ এবং ২১/০৭/২৫ তারিখের আদেশ উপেক্ষা করে ক্ষতিপূরণের অর্থ অবৈধভাবে বিতরণ ও উত্তোলনের অভিযোগে উক্ত পুনরুত, সাটিফিকেট মামলা রুজু, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা -কর্মচারী ও সুবিধা ভোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমগ্র বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়ে ১৪ /৭/২০২৬ ইংরেজি তারিখে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল,এ) এর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন আমেনা খাতুন।
ভুক্তভোগী আমিনা খাতুন বলেন, আমার পিতার রেখে যাওয়া জমিটি অধিগ্রহণের টাকা আমাদের শেষ জীবনে বোন ও বাকী বোনের ওয়ারিশদের প্রাপ্ত অংশটুকু যেন পায় ।
ভুক্তভোগী আফতাব উদ্দিনের মেয়েরা বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।