ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

ভারতে বিাভন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে পাচারের শিকার শিশুসহ ৩৩ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে আনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বাড়ি রংপুর, ঠাকুরগাঁও, খুলনা, যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এদের মধ্যে ৮ জন নারী ও শিশু এবং ২৫ জন পুরুষ রয়েছেন।
ফেরত আসারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। সাজাভোগ শেষে বিভিন্ন সেফ হোমের হেফাজতে ছিলেন তারা। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ফিরিয়ে আনা হয়।
কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের নিকট উদ্ধারকৃত এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের হস্তান্তর করেন।
এ ছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত আসা ভূক্তভোগীরা জানান, ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ভারতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য করা হয়। দীর্ঘ কষ্টের পর দেশে ফিরে পরিবারের কাছে আসতে পেরে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’র কর্মী শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই বছর আগে উন্নত জীবনের আশায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর কেউ কারাগারে, আবার কেউ শেল্টার হোমে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। আইনি জটিলতার কারণে অনেককে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা হোসেন জানান, ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ আইনের আওতায় তারা দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সংস্থাটি ফেরত আসা এসব বাংলাদেশিদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ থেকে নিজেদের হেফাজতে গ্রহণ করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি

আপডেট সময় ০১:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

সিএনএমঃ

ভারতে বিাভন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে পাচারের শিকার শিশুসহ ৩৩ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে আনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বাড়ি রংপুর, ঠাকুরগাঁও, খুলনা, যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এদের মধ্যে ৮ জন নারী ও শিশু এবং ২৫ জন পুরুষ রয়েছেন।
ফেরত আসারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। সাজাভোগ শেষে বিভিন্ন সেফ হোমের হেফাজতে ছিলেন তারা। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ফিরিয়ে আনা হয়।
কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের নিকট উদ্ধারকৃত এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের হস্তান্তর করেন।
এ ছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত আসা ভূক্তভোগীরা জানান, ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ভারতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য করা হয়। দীর্ঘ কষ্টের পর দেশে ফিরে পরিবারের কাছে আসতে পেরে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’র কর্মী শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই বছর আগে উন্নত জীবনের আশায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর কেউ কারাগারে, আবার কেউ শেল্টার হোমে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। আইনি জটিলতার কারণে অনেককে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা হোসেন জানান, ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ আইনের আওতায় তারা দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সংস্থাটি ফেরত আসা এসব বাংলাদেশিদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ থেকে নিজেদের হেফাজতে গ্রহণ করেছে।