ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:৩১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি ও তীব্র তারল্য সংকটের প্রভাবে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর একটি এস আলম গ্রুপ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ১১টি ভারী শিল্পকারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে এসব কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিককে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই এস আলম গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যাংক হিসাবগুলোতে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা না পাওয়া এবং মূলধনের অভাবে নতুন ঋণপত্র (এলসি) খুলে কাঁচামাল আমদানি সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করে কারখানা কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

বন্ধ হওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (এনওএফ), চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল মিলসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় ও কারখানা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে এসব কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার ছিলেন স্থায়ী এবং দেড় হাজার অস্থায়ী কর্মী। তবে অর্থনৈতিক সংকট ও কাঁচামালের ঘাটতির কারণে গত কয়েক মাসে ধাপে ধাপে শত শত শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কারখানার নোটিশ বোর্ডে চূড়ান্ত ছাঁটাইয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং শুক্রবার থেকে সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকদের অভিযোগ, নোটিশে জানানো হয়েছে ১ আগস্ট থেকে তালিকাভুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি শেষ হবে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

কারখানার ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ দায়িত্বে চলে যেতে বলা হয়েছে।

মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত প্রায় দুই বছর ব্যাংকিং সংকটের মধ্যেও শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দিয়ে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক খাতে গ্রুপের তারল্য শেষ হয়ে যাওয়া এবং কাঁচামাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় শিল্পকারখানাগুলো পরিচালনা করা আর সম্ভব হচ্ছে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ

অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ

আপডেট সময় ০১:৩১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সিএনএমঃ

ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি ও তীব্র তারল্য সংকটের প্রভাবে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর একটি এস আলম গ্রুপ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ১১টি ভারী শিল্পকারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে এসব কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিককে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই এস আলম গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যাংক হিসাবগুলোতে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা না পাওয়া এবং মূলধনের অভাবে নতুন ঋণপত্র (এলসি) খুলে কাঁচামাল আমদানি সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করে কারখানা কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

বন্ধ হওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (এনওএফ), চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল মিলসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় ও কারখানা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে এসব কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার ছিলেন স্থায়ী এবং দেড় হাজার অস্থায়ী কর্মী। তবে অর্থনৈতিক সংকট ও কাঁচামালের ঘাটতির কারণে গত কয়েক মাসে ধাপে ধাপে শত শত শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কারখানার নোটিশ বোর্ডে চূড়ান্ত ছাঁটাইয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং শুক্রবার থেকে সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকদের অভিযোগ, নোটিশে জানানো হয়েছে ১ আগস্ট থেকে তালিকাভুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি শেষ হবে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

কারখানার ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ দায়িত্বে চলে যেতে বলা হয়েছে।

মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত প্রায় দুই বছর ব্যাংকিং সংকটের মধ্যেও শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দিয়ে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক খাতে গ্রুপের তারল্য শেষ হয়ে যাওয়া এবং কাঁচামাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় শিল্পকারখানাগুলো পরিচালনা করা আর সম্ভব হচ্ছে না।