সিএনএমঃ
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পালাবার জায়গা পেয়েছে। তাদের পাশে একটা দেশ আছে। কিন্তু আপনারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে বা স্বৈরাচারের পথে হাঁটলে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকবে না।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বগুড়ার টিএমএসএস মহিলা মার্কেট (উত্তর) মিলনায়তনে ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতে এটিএম আজহারুল ইসলাম বগুড়ার সন্তান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, যাদের ত্যাগ ও কোরবানির মাধ্যমে আমি নিজে একটি মিথ্যা ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি এবং দেশের ১৮ কোটি মানুষ নতুন করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন এবং আয়নাঘরের যে নির্মম অধ্যায় চলেছে, বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো তার প্রতিবাদ করলেও ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী এক দফা আন্দোলনের মাধ্যমে গত ৫ই আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। দেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিজয়ী দল বিএনপি পরবর্তী সময়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে টালবাহানা শুরু করে। জনগণের দেওয়া রায়ের সঙ্গে এই ধরনের প্রতারণা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংসদ সদস্য পদে শপথ নিয়ে সংবিধান সংস্কার এড়িয়ে যাওয়া স্পষ্টত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।
সংসদের সাম্প্রতিক বিষয়াবলি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধে সরকার যে বিল এনেছে তা আগের চেয়েও খারাপ এবং গুমকে আরও উৎসাহিত করবে। তাই তারা সংসদে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছেন।
অর্পিত সম্পত্তি আইন সংশোধন ও উত্তরাঞ্চলের ১১টি অর্থনৈতিক জোন বাতিল প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, অর্পিত সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইদের অধিকার হরণের পাঁয়তারা চলছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলসহ পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোর ১১টি অর্থনৈতিক জোন বাতিল করে চরম আঞ্চলিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, নিত্যপণ্যের দাম কমানো ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের মানিক মিঞা এভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও টাঙ্গাইল হয়ে রংপুরে গিয়ে শেষ হবে। দাবি না মানলে আগামীতে ১১ দলীয় জোট আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
Reporter Name 





















