সিএনএমঃ
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক এই দুটি অভিযানে সর্বমোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান- টেকনাফে কোস্ট গার্ড সদস্যদের দেখতে পেয়ে একটি সিএনজি ফেলে চালক পালিয়ে যায়। পরে ওই সিএনজি থেকে মিলল ৭০ হাজার ইয়াবা।
তিনি আরো জানান- শুক্রবার দিবাগত রাতে টেকনাফ থানাধীন হ্নীলার কোনাপাড়া সংলগ্ন এলাকায় অভিযানে যায় কোস্ট গার্ড। ওই অভিযানটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ উক্ত এলাকায় পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন একটি সন্দেহজনক সিএনজি অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সিএনজিটিতে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা ও সিএনজির বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
টেকনাফ সীমান্তে চোরাকারবারীদের সাথে গোলাগুলির পর ৬০ হাজার পিস মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার করেছে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)। শনিবার উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি জানায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা ৫ মিনিটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ জীম্বংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল ইশাকের ঘের নামক এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখে বিজিবি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ এবং ধাওয়া করে। একপর্যায়ে চোরাকারবারীরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা ফাঁকা গুলি চালায়। এতে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা পোটলা ফেলে রেখে দ্রুত মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে উক্ত স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। উখিয়া বিজিবির অধিনায়ক জানান, সংশ্লিষ্ট মাদক সরবরাহকারী ও চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম দমনে সফলভাবে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের মাদকবিরোধী যৌথ ও একক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনী দুটি।