কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় খাল পুনর্খনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সঠিক তদারকি ও পরিকল্পনার অভাবে প্রকল্পের লক্ষ্য পূরণ হয়নি, যার ফলে ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠাতে হয়েছে। জনস্বার্থে গ্রহণ করা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি এভাবে অসম্পূর্ণ রয়ে যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্প ও অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের দড়িগাঁও কাঠালিয়া নদী থেকে গঙ্গাপ্রসাদ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। অথচ নির্ধারিত সময়ে মাত্র ১ দশমিক ০৬৭ কিলোমিটার খাল খনন করেই দায় সেরেছে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ।
অর্থাৎ, প্রায় ৩ কিলোমিটারের লক্ষ্যের বিপরীতে অর্ধেকেরও কম কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের চরম দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতিকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রকল্পটির সার্বিক তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তিতাস উপজেলার সদ্য বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদর রহমান। প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনিক তদারকি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের পরেও কেন সময়মতো কাজ শেষ হলো না? প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রকল্পের আর্থিক হিসাব নিম্নরূপ:
১. সম্পন্ন হওয়া কাজের জন্য শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হয়েছে মোট ৩১ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
২. বাকি ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারার ব্যর্থতার দায় হিসেবে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই প্রতিটি টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব”। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করলেও, কেন নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হলো না—সেই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মেলেনি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন খালটি ভরাট থাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সঠিক সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা যে সুফল পেতেন, কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে তারা আজ সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে তদারকি জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হলেও, এবারের ব্যর্থতার দায় কে নেবে—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।