ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কী কারণে বিষক্রিয়ায় ভুগেছেন রুশ ধনকুবের?

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ ২০২২
  • ২৪১ বার পড়া হয়েছে

কিয়েভ-মস্কো সংঘাত বন্ধে ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তে চলতি মাসের শুরুতে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার সময় রুশ প্রতিনিধি দলের এক সদস্যকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো সন্দেহ করছে। রুশ প্রতিনিধি দলের ওই সদস্যের নাম রোমান আব্রামোভিচ। তিনি রাশিয়ার একজন ধনকুবের এবং ফুটবল ক্লাব চেলসি এফসির মালিক।

শান্তি আলোচনার পর আব্রামোভিচ কয়েকদিন চোখে ব্যথা ও অস্বস্তি এবং শরীরের চামড়া উঠে যাওয়ার মত উপসর্গ নিয়ে ভুগেছেন। তিনি এখন সেরে উঠেছেন। ইউক্রেনের দু’জন শান্তি আলোচকও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট অফিসের কর্মকর্তা জোভকাভা বিবিসিকে বলেছিলেন, তিনি যদিও আব্রামোভিচের সাথে কথা বলেননি, কিন্তু ইউক্রেনের আলোচক দলের সদস্যরা সবাই সুস্থ আছেন। অন্য আরেকজন এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছিলেন।

কিন্তু বিবিসির নিরাপত্তা সংবাদদাতা ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনার বলেছেন, এই যুদ্ধে কোনো পক্ষ বিশেষ করে রাশিয়া রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারে – এমন সন্দেহকে যুক্তরাষ্ট্র ধামাচাপা দিতে চাইবে। তার কারণ, সেটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার একটি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় যা তারা একেবারেই করতে চায় না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের উদ্ধৃত সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত ৩ মার্চ ওই ঘটনার পর রোমান আব্রামোভিচ এবং ইউক্রেনের শান্তি আলোচক দলের সদস্য দেশটির পার্লামেন্টারিয়ান রুস্তেম উমেরভের অবস্থার উন্নতি হয়েছে এখন। আব্রামোভিচের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছেন, তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

রোববার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আব্রামোভিচ তার দেশে রাশিয়ার হামলা সীমিত করতে তাকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ মাসের শুরুতে শান্তি আলোচনা আয়োজনের জন্য মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে কয়েকদফা আসা-যাওয়া করেছেন এই রুশ বিলিয়নিয়ার। সফরে তিনি জেলেনস্কির সাথে দেখা করেছিলেন, কিন্তু তিনি আক্রান্ত হননি এবং তার মুখপাত্র জানিয়েছেন ওই ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানেন না।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গ্রুপ বেলিংক্যাট বলছে, আব্রামোভিচ ও কয়েকজন আলোচক যেসব উপসর্গে ভুগেছেন, তা ‘রাসায়নিক অস্ত্রের বিষক্রিয়ার মতো’। বেলিংক্যাট বলছে, এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে, ‘চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া এবং চোখে তীক্ষ্ম ব্যথা’।

ওই ঘটনার ১০ দিন পর গত ১৪ মার্চ তেলআবিব এয়ারপোর্টে আব্রামোভিচকে প্রথম জনসমক্ষে দেখা যায়। এ মাসের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও তেলআবিব আব্রামোভিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যদিও ঘনিষ্ঠতার কথা বরাবর অস্বীকার করে এসেছেন আব্রামোভিচ।

তবে আব্রামোভিচের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তার বক্তব্য, মস্কোর সাথে শান্তি আলোচনায় আব্রামোভিচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

ক্রেমলিন বলেছে, শান্তি আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে আব্রামোভিচ ভূমিকা রেখেছিলেন, কিন্তু এ প্রক্রিয়া এখন কেবল দুই দেশের আলোচকদের হাতেই রয়েছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আজ দুই দেশের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে – দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর প্রথম দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

কী কারণে বিষক্রিয়ায় ভুগেছেন রুশ ধনকুবের?

আপডেট সময় ০১:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ ২০২২

কিয়েভ-মস্কো সংঘাত বন্ধে ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তে চলতি মাসের শুরুতে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার সময় রুশ প্রতিনিধি দলের এক সদস্যকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো সন্দেহ করছে। রুশ প্রতিনিধি দলের ওই সদস্যের নাম রোমান আব্রামোভিচ। তিনি রাশিয়ার একজন ধনকুবের এবং ফুটবল ক্লাব চেলসি এফসির মালিক।

শান্তি আলোচনার পর আব্রামোভিচ কয়েকদিন চোখে ব্যথা ও অস্বস্তি এবং শরীরের চামড়া উঠে যাওয়ার মত উপসর্গ নিয়ে ভুগেছেন। তিনি এখন সেরে উঠেছেন। ইউক্রেনের দু’জন শান্তি আলোচকও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট অফিসের কর্মকর্তা জোভকাভা বিবিসিকে বলেছিলেন, তিনি যদিও আব্রামোভিচের সাথে কথা বলেননি, কিন্তু ইউক্রেনের আলোচক দলের সদস্যরা সবাই সুস্থ আছেন। অন্য আরেকজন এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছিলেন।

কিন্তু বিবিসির নিরাপত্তা সংবাদদাতা ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনার বলেছেন, এই যুদ্ধে কোনো পক্ষ বিশেষ করে রাশিয়া রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারে – এমন সন্দেহকে যুক্তরাষ্ট্র ধামাচাপা দিতে চাইবে। তার কারণ, সেটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার একটি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় যা তারা একেবারেই করতে চায় না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের উদ্ধৃত সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত ৩ মার্চ ওই ঘটনার পর রোমান আব্রামোভিচ এবং ইউক্রেনের শান্তি আলোচক দলের সদস্য দেশটির পার্লামেন্টারিয়ান রুস্তেম উমেরভের অবস্থার উন্নতি হয়েছে এখন। আব্রামোভিচের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছেন, তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

রোববার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আব্রামোভিচ তার দেশে রাশিয়ার হামলা সীমিত করতে তাকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ মাসের শুরুতে শান্তি আলোচনা আয়োজনের জন্য মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে কয়েকদফা আসা-যাওয়া করেছেন এই রুশ বিলিয়নিয়ার। সফরে তিনি জেলেনস্কির সাথে দেখা করেছিলেন, কিন্তু তিনি আক্রান্ত হননি এবং তার মুখপাত্র জানিয়েছেন ওই ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানেন না।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গ্রুপ বেলিংক্যাট বলছে, আব্রামোভিচ ও কয়েকজন আলোচক যেসব উপসর্গে ভুগেছেন, তা ‘রাসায়নিক অস্ত্রের বিষক্রিয়ার মতো’। বেলিংক্যাট বলছে, এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে, ‘চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া এবং চোখে তীক্ষ্ম ব্যথা’।

ওই ঘটনার ১০ দিন পর গত ১৪ মার্চ তেলআবিব এয়ারপোর্টে আব্রামোভিচকে প্রথম জনসমক্ষে দেখা যায়। এ মাসের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও তেলআবিব আব্রামোভিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যদিও ঘনিষ্ঠতার কথা বরাবর অস্বীকার করে এসেছেন আব্রামোভিচ।

তবে আব্রামোভিচের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তার বক্তব্য, মস্কোর সাথে শান্তি আলোচনায় আব্রামোভিচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

ক্রেমলিন বলেছে, শান্তি আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে আব্রামোভিচ ভূমিকা রেখেছিলেন, কিন্তু এ প্রক্রিয়া এখন কেবল দুই দেশের আলোচকদের হাতেই রয়েছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আজ দুই দেশের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে – দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর প্রথম দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন।