সিএনএম ডেস্কঃ
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের তেল রপ্তানি পথের ওপর চাপ কমাতে সমুদ্রপথে এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রিয়াদ।
সূত্রগুলো বলছে, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কিছু সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। একই সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথি হামলা ঠেকাতে একটি নৌ জোট গঠনের চেষ্টা করছে সৌদি আরব।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটকে সমর্থন জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
ইরানপন্থি হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেয়। তবে সব জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে তারা।
হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে তারাও অবরোধ তুলে নেবে। তাদের ভাষ্য, এই বিরোধ ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে, সরাসরি ইরানকে ঘিরে নয়।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারের পক্ষে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি আরব।
রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ইতালিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশকেও লোহিত সাগর নিরাপত্তা জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি নৌ নিরাপত্তা মিশন ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে কাজ করছে। তবে হুথিরা পুরো নৌপথ অবরোধ করতে চাইছে, নাকি শুধু সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হুথি বাহিনী ২৫ জুলাই দাবি করে, তারা সৌদি আরবের অভ্যন্তরে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনার মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের রপ্তানি কেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে হরমুজ প্রণালি এবং অন্যদিকে লোহিত সাগরের পথ বন্ধ হয়ে গেলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে লোহিত সাগরের গুরুত্ব বেড়েছে, কারণ সৌদি তেলের অর্ধেকের বেশি এখন স্থলপথে ইয়ানবু বন্দরের টার্মিনালে নেওয়া হয়।
গত বুধবার সৌদি আরব ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠীর হামলার জবাবে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০ জনকে হত্যার দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির যৌথ হামলা ইরাক সরকারের সম্মতিতে হয়েছে। তবে বাগদাদ এ দাবি নিশ্চিত করেনি।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান বুধবার ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা ও তেল শিল্প রক্ষার সক্ষমতা দেখাতে চাইলেও ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বাড়াতে চায় না বলে জানিয়েছে।
ইয়েমেনের ভেতরে সৌদি সেনাদের চলাচল মধ্যাঞ্চলের আল-বায়দা প্রদেশে সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে হুথিরা ওই অঞ্চল দখল করে।
গত দুই সপ্তাহে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। হুথিরা সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর আগে সৌদি বিমান হামলায় হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বন্দরের স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং লোহিত সাগরে তৃতীয় একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়।
ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরব ও হুথিদের বিরোধ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। গত এক মাসে সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে।
তবে উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে সমঝোতা হলে ইয়েমেন ঘিরে উত্তেজনা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে ইরান দাবি করছে, জাহাজগুলোকে প্রণালিতে প্রবেশের জন্য দেশটির উপকূলের কাছাকাছি উত্তরাঞ্চলীয় পথ ব্যবহার করতে হবে।
সংবাদ শিরোনাম ::
হুথিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির
-
Reporter Name - আপডেট সময় ০৪:১৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- ১ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

























