সিএনএমঃ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য ভর্তুকিমূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা আরও ছয় মাস চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সেবা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন ভর্তুকিতে ডায়ালাইসিস নেওয়া ২৭৬ জন রোগী। নতুন সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেন্টার চালু করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগে আপাতত সেই অনিশ্চয়তা কাটছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, “রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে স্যান্ডরের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে একই স্থানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এজন্য মেশিন কেনা ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি রয়েছে।
বর্তমানে স্যান্ডরের সেন্টারে প্রতি সেশনে ৩ হাজার ৩৯৭ টাকা খরচের মধ্যে রোগীদের দিতে হচ্ছে ৬২১ টাকা। বাকি অর্থ সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেন্টার চালু হলে প্রতি সেশনে রোগীদের খরচ কমে ৪১৬ টাকা হবে বলে জানান হাসপাতাল পরিচালক।
চলতি বছরের ২৯ নভেম্বর স্যান্ডরের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১০ বছর মেয়াদি চুক্তির সময় শেষ হচ্ছে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় এ চুক্তি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালের শুরুতে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম চালু করে।
গত বছরের ২৫ মে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্যান্ডরের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হলে প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রপাতি ও জনবল সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। এতে ভর্তুকিমূল্যে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে গত ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ডায়ালাইসিস সেন্টার রক্ষা কমিটির ব্যানারে ভুক্তভোগী রোগীরা। তাঁরা বলেন, স্যান্ডরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। এই সময়ে রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সেন্টারের সেবা অব্যাহত রাখা অথবা বিকল্প কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
পিপিপির আওতায় স্যান্ডর ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও চমেক হাসপাতালে দুটি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করে। জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে ৫৯টি এবং চমেক হাসপাতালে ৩১টি মেশিন রয়েছে।
চমেক হাসপাতালের স্যান্ডর সেন্টারে দরিদ্র রোগীদের প্রতি সেশনে ৬২১ টাকা দিতে হয়। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতি সেশনের ফি ৩ হাজার ৩৯৭ টাকা। এর বাইরে সিঙ্গেল ডায়ালাইজারের জন্য নেওয়া হয় ১ হাজার ৩২০ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা ও অতি দরিদ্র কিছু রোগী বিনা মূল্যে এ সেবা পান। বছরে ৬৫০ জনকে বিনা মূল্যে সেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। একজন রোগী মাসে সর্বোচ্চ আটটি সেশন নিতে পারেন।
Reporter Name 
























