ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ সেকেন্ডে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে চুরি!

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৫:৪২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

রাজধানীতে মাত্র ২০ সেকেন্ডে বিশেষ চাবি দিয়ে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে চুরি করত একটি চক্র।
চক্রের মূল হোতা রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
চুরি করা মোটরসাইকেল সরবরাহ করা হতো কুমিল্লার লাকসামসহ বিভিন্ন এলাকার চক্রের সদস্যদের কাছে।
চুরি হওয়া নয়টি মোটরসাইকেল ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গত ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে মোটরসাইকেল রেখে নামাজ পড়তে যান এক ব্যক্তি। একটি অটোরিকশায় করে সেখানে আসে চক্রের সদস্যরা। অল্প সময়ের মধ্যে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে সেটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
মোটরসাইকেল চুরির ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে সবুজবাগ থানার নন্দীপাড়া-মাদারটেক এলাকা থেকে রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি বিশেষ ধরনের চাবি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার সাদ্দাম মার্কেটের সামনে থেকে আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বিকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্রিফিংয়ে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল ও রাব্বি জানিয়েছেন, তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে একই কৌশলে মোটরসাইকেল চুরি করতেন। সেগুলো কুমিল্লার লাকসামের ফয়সাল ও সৌরভ এবং নোয়াখালীর চাটখিলের পাপ্পু ও মাসুমের কাছে সরবরাহ করা হতো। তাঁরা বিভিন্নভাবে চুরি করা মোটরসাইকেল বিক্রি করতেন।

পুলিশ জানায়, চক্রটি মোটরসাইকেলের লক ভাঙতে লোহার তৈরি বিশেষ চাবি ব্যবহার করত। এ পদ্ধতিতে মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যে একটি মোটরসাইকেলের লক ভেঙে সেটি চুরি করতে পারত তারা। চুরি করা মোটরসাইকেল দ্রুত অন্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়ায় সেগুলো উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ত।

ডিবি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। চক্রের প্রধান হিসেবে চিহ্নিত রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

২০ সেকেন্ডে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে চুরি!

আপডেট সময় ০৫:৪২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএমঃ

রাজধানীতে মাত্র ২০ সেকেন্ডে বিশেষ চাবি দিয়ে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে চুরি করত একটি চক্র।
চক্রের মূল হোতা রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
চুরি করা মোটরসাইকেল সরবরাহ করা হতো কুমিল্লার লাকসামসহ বিভিন্ন এলাকার চক্রের সদস্যদের কাছে।
চুরি হওয়া নয়টি মোটরসাইকেল ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গত ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে মোটরসাইকেল রেখে নামাজ পড়তে যান এক ব্যক্তি। একটি অটোরিকশায় করে সেখানে আসে চক্রের সদস্যরা। অল্প সময়ের মধ্যে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে সেটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
মোটরসাইকেল চুরির ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে সবুজবাগ থানার নন্দীপাড়া-মাদারটেক এলাকা থেকে রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি বিশেষ ধরনের চাবি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার সাদ্দাম মার্কেটের সামনে থেকে আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বিকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্রিফিংয়ে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল ও রাব্বি জানিয়েছেন, তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে একই কৌশলে মোটরসাইকেল চুরি করতেন। সেগুলো কুমিল্লার লাকসামের ফয়সাল ও সৌরভ এবং নোয়াখালীর চাটখিলের পাপ্পু ও মাসুমের কাছে সরবরাহ করা হতো। তাঁরা বিভিন্নভাবে চুরি করা মোটরসাইকেল বিক্রি করতেন।

পুলিশ জানায়, চক্রটি মোটরসাইকেলের লক ভাঙতে লোহার তৈরি বিশেষ চাবি ব্যবহার করত। এ পদ্ধতিতে মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যে একটি মোটরসাইকেলের লক ভেঙে সেটি চুরি করতে পারত তারা। চুরি করা মোটরসাইকেল দ্রুত অন্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়ায় সেগুলো উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ত।

ডিবি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। চক্রের প্রধান হিসেবে চিহ্নিত রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।