ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সংস্কার এখন বেশি জরুরি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

 মূল সংকট সমাধানে মনোযোগ দিন বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সংস্কার এখন বেশি জরুরি

সিএনএমঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ বিলম্ব ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনার পর মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে আইনসম্মতভাবে পুনর্বিবেচনা করার এবং একই সঙ্গে ঘটনার মূল কারণ, বিশেষ করে ট্রলি সংকট, লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবার দুর্বলতা সমাধানে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন Bangladesh Airport Safety Campaign UK এবং International Remittance Juddah Shonshod-এর প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা।
১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা বিমানের যাত্রীদের লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলি সংকট ও বিলম্বকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর বিমানবন্দরের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে তদন্ত করা হবে।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে নেবেন, সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেবেন বা দায়িত্ব পালনে বাধা দেবেন, আমরা সেটি সমর্থন করি না। কিন্তু একই সঙ্গে যে বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকেও আড়াল করা যাবে না। একটি ঘটনা নিয়ে মামলা হলো, কিন্তু ট্রলি সংকট, লাগেজ বিলম্ব এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ থেকে গেলে একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও সৃষ্টি হতে পারে।”
ঘটনার ভাষা ও আচরণ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের প্রতি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন এবং শারীরিকভাবে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে রাগীব সামাদ উত্তেজিত না হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, যা সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছে।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,“বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ থাকতে পারে। যাত্রী হিসেবে অভিযোগ করার পূর্ণ অধিকার আছে। কিন্তু একজন রাজনৈতিক বা জনপরিচিত ব্যক্তির ভাষা আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। হুমকি, অপমান বা শারীরিক সংঘাত কোনো সমস্যার সমাধান করে না।”
তিনি একই সঙ্গে গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদের আচরণের প্রশংসা করে বলেন,“চরম উত্তেজনার মধ্যেও তিনি যেভাবে ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন, সেটি সরকারি দায়িত্ব পালনের একটি ইতিবাচক উদাহরণ। ক্ষমতা প্রদর্শনের চেয়ে আত্মসংযম অনেক বড় শক্তি।”
মামলা প্রত্যাহারের দাবি নয়, আইনসম্মত পুনর্বিবেচনার আহ্বান
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, কোনো ফৌজদারি মামলা শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নির্দেশে ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না। বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৪ অনুযায়ী, পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের সম্মতি নিয়ে বিচার শেষ হওয়ার আগে প্রসিকিউশন প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারেন। চার্জ গঠনের আগে প্রত্যাহার হলে অভিযুক্ত অব্যাহতি পেতে পারেন এবং চার্জ গঠনের পরে প্রত্যাহার হলে খালাস হতে পারেন।
তিনি বলেন,“আমাদের বক্তব্য হলো, আইনকে সম্মান করেই বিষয়টি মানবিক, প্রশাসনিক এবং জনস্বার্থের দৃষ্টিতে পুনর্বিবেচনা করা হোক। যদি তদন্তে দেখা যায় বিষয়টি সমঝোতা, সতর্কতা বা অন্য কোনো আইনসম্মত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তিযোগ্য, তাহলে সেই সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার।”
মূল সমস্যা: ট্রলি সংকট ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলার পাশাপাশি যে প্রশ্নটি সবচেয়ে জরুরি তা হলো: কেন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে এত ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে?
ঘটনার দিনও সংবাদ প্রতিবেদনে ট্রলি সংকট ও লাগেজ বিলম্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,“একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি থাকা খুব মৌলিক সেবা। এটি কোনো বিলাসিতা নয়। একজন বৃদ্ধ, একজন নারী, শিশুসমেত পরিবার, অসুস্থ যাত্রী বা কয়েকটি ভারী লাগেজ নিয়ে ফেরা প্রবাসীর জন্য ট্রলি অপরিহার্য।”
তিনি বলেন, অবকাঠামো বড় হলেও ছোট সেবা ব্যর্থ হলে যাত্রীর অভিজ্ঞতা খারাপ হয়।“একটি বড় আন্তর্জাতিক টার্মিনালের ভাবমূর্তি কয়েকটি ট্রলির অভাবে নষ্ট হওয়া উচিত নয়।”
যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের ১,০০০ ট্রলি দেওয়ার উদ্যোগ
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা জানান, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় Bangladesh Airport Safety Campaign UK-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য ১,০০০টি মানসম্মত লাগেজ ট্রলি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন,“আমরা সরকারের সমালোচনা করেই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। যেখানে সম্ভব সেখানে সমাধানের অংশ হতে চাই। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় specification, নিরাপত্তা মান ও আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিলে প্রবাসীদের সহযোগিতায় ১,০০০ ট্রলি দেওয়ার উদ্যোগ আমরা এগিয়ে নিতে চাই।”
এ উদ্যোগকে স্বচ্ছ রাখতে কারিগরি মান, ক্রয়মূল্য, দাতা, হস্তান্তর এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে লিখিত কাঠামো থাকা উচিত বলেও তিনি মত দেন।
একটি মামলা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,“ধরা যাক একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হলো এবং বিচারও হলো। তাতে কি ট্রলি সংকট শেষ হবে? লাগেজ বিলম্ব বন্ধ হবে? ইমিগ্রেশন ও যাত্রীসেবার চাপ কমবে? যদি না হয়, তাহলে প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানও একই সঙ্গে করতে হবে।”
তিনি কয়েকটি বাস্তব পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন: বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি নিশ্চিত করা, ফ্লাইটের চাপ অনুযায়ী ট্রলি পুনর্বণ্টন, লাগেজ ডেলিভারির সময় কমানো, যাত্রীদের জন্য কার্যকর অভিযোগ ডেস্ক, সিসিটিভি ও দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, কর্মীদের আচরণগত প্রশিক্ষণ এবং সংকটকালে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা।
আইন সবার জন্য, সম্মানও সবার জন্য
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রবাসী যাত্রীদের আইন মানতে হবে, নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া যাবে না এবং Restricted Area-এর নিয়ম মেনে চলতে হবে। একইভাবে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদেরও যাত্রীর সঙ্গে সম্মানজনক ও সংযত আচরণ করতে হবে।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা রক্ষা করতে হবে, আবার যাত্রীর মর্যাদাও রক্ষা করতে হবে। দুই পক্ষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।”
তিনি আরও বলেন,“আমাদের লক্ষ্য কাউকে দোষমুক্ত ঘোষণা করা নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো ঘটনার আইনসম্মত নিষ্পত্তি এবং যে সেবা-সংকট থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তার স্থায়ী সমাধান।”
সরকারের প্রতি আহ্বান
Bangladesh Airport Safety Campaign UK এবং International Remittance Juddah Shonshod-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক, একই সঙ্গে আইনের সুযোগ থাকলে মামলাটি পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের বিষয় আদালতসম্মতভাবে বিবেচনা করা হোক এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিমানবন্দরের ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার সংকট সমাধান করা হোক।
সবশেষে অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,“ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে মূল সমস্যাকে ভুলে গেলে চলবে না। সংঘাত কমাতে হলে সমস্যার শিকড় দূর করতে হবে।”
“একদিকে আইন মানতে হবে, অন্যদিকে প্রশাসনকেও যাত্রীর ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”
“মামলার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আগামীকাল আরেকজন যাত্রী যেন একই পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন।”

 

অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা,
Chief coordinator, Bangladesh Airport Safety Campaign UK এবং International Remittance Juddah Shonshod-এর প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সংস্কার এখন বেশি জরুরি

আপডেট সময় ০৭:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

 মূল সংকট সমাধানে মনোযোগ দিন বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সংস্কার এখন বেশি জরুরি

সিএনএমঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ বিলম্ব ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনার পর মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে আইনসম্মতভাবে পুনর্বিবেচনা করার এবং একই সঙ্গে ঘটনার মূল কারণ, বিশেষ করে ট্রলি সংকট, লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবার দুর্বলতা সমাধানে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন Bangladesh Airport Safety Campaign UK এবং International Remittance Juddah Shonshod-এর প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা।
১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা বিমানের যাত্রীদের লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলি সংকট ও বিলম্বকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর বিমানবন্দরের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে তদন্ত করা হবে।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে নেবেন, সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেবেন বা দায়িত্ব পালনে বাধা দেবেন, আমরা সেটি সমর্থন করি না। কিন্তু একই সঙ্গে যে বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকেও আড়াল করা যাবে না। একটি ঘটনা নিয়ে মামলা হলো, কিন্তু ট্রলি সংকট, লাগেজ বিলম্ব এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ থেকে গেলে একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও সৃষ্টি হতে পারে।”
ঘটনার ভাষা ও আচরণ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের প্রতি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন এবং শারীরিকভাবে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে রাগীব সামাদ উত্তেজিত না হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, যা সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছে।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,“বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ থাকতে পারে। যাত্রী হিসেবে অভিযোগ করার পূর্ণ অধিকার আছে। কিন্তু একজন রাজনৈতিক বা জনপরিচিত ব্যক্তির ভাষা আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। হুমকি, অপমান বা শারীরিক সংঘাত কোনো সমস্যার সমাধান করে না।”
তিনি একই সঙ্গে গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদের আচরণের প্রশংসা করে বলেন,“চরম উত্তেজনার মধ্যেও তিনি যেভাবে ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন, সেটি সরকারি দায়িত্ব পালনের একটি ইতিবাচক উদাহরণ। ক্ষমতা প্রদর্শনের চেয়ে আত্মসংযম অনেক বড় শক্তি।”
মামলা প্রত্যাহারের দাবি নয়, আইনসম্মত পুনর্বিবেচনার আহ্বান
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, কোনো ফৌজদারি মামলা শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নির্দেশে ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না। বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৪ অনুযায়ী, পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের সম্মতি নিয়ে বিচার শেষ হওয়ার আগে প্রসিকিউশন প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারেন। চার্জ গঠনের আগে প্রত্যাহার হলে অভিযুক্ত অব্যাহতি পেতে পারেন এবং চার্জ গঠনের পরে প্রত্যাহার হলে খালাস হতে পারেন।
তিনি বলেন,“আমাদের বক্তব্য হলো, আইনকে সম্মান করেই বিষয়টি মানবিক, প্রশাসনিক এবং জনস্বার্থের দৃষ্টিতে পুনর্বিবেচনা করা হোক। যদি তদন্তে দেখা যায় বিষয়টি সমঝোতা, সতর্কতা বা অন্য কোনো আইনসম্মত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তিযোগ্য, তাহলে সেই সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার।”
মূল সমস্যা: ট্রলি সংকট ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলার পাশাপাশি যে প্রশ্নটি সবচেয়ে জরুরি তা হলো: কেন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে এত ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে?
ঘটনার দিনও সংবাদ প্রতিবেদনে ট্রলি সংকট ও লাগেজ বিলম্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,“একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি থাকা খুব মৌলিক সেবা। এটি কোনো বিলাসিতা নয়। একজন বৃদ্ধ, একজন নারী, শিশুসমেত পরিবার, অসুস্থ যাত্রী বা কয়েকটি ভারী লাগেজ নিয়ে ফেরা প্রবাসীর জন্য ট্রলি অপরিহার্য।”
তিনি বলেন, অবকাঠামো বড় হলেও ছোট সেবা ব্যর্থ হলে যাত্রীর অভিজ্ঞতা খারাপ হয়।“একটি বড় আন্তর্জাতিক টার্মিনালের ভাবমূর্তি কয়েকটি ট্রলির অভাবে নষ্ট হওয়া উচিত নয়।”
যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের ১,০০০ ট্রলি দেওয়ার উদ্যোগ
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা জানান, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় Bangladesh Airport Safety Campaign UK-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য ১,০০০টি মানসম্মত লাগেজ ট্রলি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন,“আমরা সরকারের সমালোচনা করেই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। যেখানে সম্ভব সেখানে সমাধানের অংশ হতে চাই। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় specification, নিরাপত্তা মান ও আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিলে প্রবাসীদের সহযোগিতায় ১,০০০ ট্রলি দেওয়ার উদ্যোগ আমরা এগিয়ে নিতে চাই।”
এ উদ্যোগকে স্বচ্ছ রাখতে কারিগরি মান, ক্রয়মূল্য, দাতা, হস্তান্তর এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে লিখিত কাঠামো থাকা উচিত বলেও তিনি মত দেন।
একটি মামলা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,“ধরা যাক একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হলো এবং বিচারও হলো। তাতে কি ট্রলি সংকট শেষ হবে? লাগেজ বিলম্ব বন্ধ হবে? ইমিগ্রেশন ও যাত্রীসেবার চাপ কমবে? যদি না হয়, তাহলে প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানও একই সঙ্গে করতে হবে।”
তিনি কয়েকটি বাস্তব পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন: বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি নিশ্চিত করা, ফ্লাইটের চাপ অনুযায়ী ট্রলি পুনর্বণ্টন, লাগেজ ডেলিভারির সময় কমানো, যাত্রীদের জন্য কার্যকর অভিযোগ ডেস্ক, সিসিটিভি ও দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, কর্মীদের আচরণগত প্রশিক্ষণ এবং সংকটকালে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা।
আইন সবার জন্য, সম্মানও সবার জন্য
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রবাসী যাত্রীদের আইন মানতে হবে, নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া যাবে না এবং Restricted Area-এর নিয়ম মেনে চলতে হবে। একইভাবে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদেরও যাত্রীর সঙ্গে সম্মানজনক ও সংযত আচরণ করতে হবে।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা রক্ষা করতে হবে, আবার যাত্রীর মর্যাদাও রক্ষা করতে হবে। দুই পক্ষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।”
তিনি আরও বলেন,“আমাদের লক্ষ্য কাউকে দোষমুক্ত ঘোষণা করা নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো ঘটনার আইনসম্মত নিষ্পত্তি এবং যে সেবা-সংকট থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তার স্থায়ী সমাধান।”
সরকারের প্রতি আহ্বান
Bangladesh Airport Safety Campaign UK এবং International Remittance Juddah Shonshod-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক, একই সঙ্গে আইনের সুযোগ থাকলে মামলাটি পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের বিষয় আদালতসম্মতভাবে বিবেচনা করা হোক এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিমানবন্দরের ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার সংকট সমাধান করা হোক।
সবশেষে অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,“ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে মূল সমস্যাকে ভুলে গেলে চলবে না। সংঘাত কমাতে হলে সমস্যার শিকড় দূর করতে হবে।”
“একদিকে আইন মানতে হবে, অন্যদিকে প্রশাসনকেও যাত্রীর ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”
“মামলার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আগামীকাল আরেকজন যাত্রী যেন একই পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন।”

 

অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা,
Chief coordinator, Bangladesh Airport Safety Campaign UK এবং International Remittance Juddah Shonshod-এর প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক