ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিশ শিকারে অভিযানে জেলেদের হামলা, আহত ২

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

 

শরীয়তপুরে মা ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের চলমান অভিযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অভিযানকারী দলের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন জেলেরা। হামলার শিকার হয় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামকে বহনকারী স্পিডবোটও। তবে এ ঘটনায় সংসদ সদস্য নিরাপদে রয়েছেন। অভিযানে অংশ নেওয়া দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে পদ্মা নদীর জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের দুর্গম চর কলিকাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৪টার দিকে সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্বে পদ্মা নদীর জাজিরা অংশে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে কোস্টগার্ড, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানকারী দল সকাল ৯টার দিকে পালেরচর ইউনিয়নের দুর্গম চর কলিকাল এলাকায় পৌঁছালে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান একদল জেলে। এ সময় অভিযানকারী দলের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। হামলার মুখে একপর্যায়ে পিছু হটতে বাধ্য হন অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা।

অতিরিক্ত নৌ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানকারী দলের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অভিযান জোরদার করেন। যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

মৎস্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে সোমবার ভোর থেকে চালানো অভিযানে জেলেদের আটক করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যে, সকাল পর্যন্ত ৩৬ জন জেলেকে আটক করার কথা জানানো হয়। পরে সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম জানান, ভোররাত থেকে অভিযান চালিয়ে ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, জেলার কয়েকটি এলাকায় অসাধু জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করছেন। তাঁদের আটক করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত ১০ দিনে ২০টি অভিযান চালিয়ে ৭২ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় কিছু জেলে আক্রমণাত্মক আচরণের চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা।

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, মৎস্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যারা বর্তমানে নদীতে মা ইলিশ শিকার করছেন, তাঁদের কেউ নিবন্ধিত জেলে নন—এমন তথ্যপ্রমাণ তাঁদের কাছে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে অভিযানে অংশ নেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইলিশ শিকারে অভিযানে জেলেদের হামলা, আহত ২

আপডেট সময় ০৩:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএমঃ

 

শরীয়তপুরে মা ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের চলমান অভিযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অভিযানকারী দলের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন জেলেরা। হামলার শিকার হয় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামকে বহনকারী স্পিডবোটও। তবে এ ঘটনায় সংসদ সদস্য নিরাপদে রয়েছেন। অভিযানে অংশ নেওয়া দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে পদ্মা নদীর জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের দুর্গম চর কলিকাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৪টার দিকে সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্বে পদ্মা নদীর জাজিরা অংশে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে কোস্টগার্ড, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানকারী দল সকাল ৯টার দিকে পালেরচর ইউনিয়নের দুর্গম চর কলিকাল এলাকায় পৌঁছালে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান একদল জেলে। এ সময় অভিযানকারী দলের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। হামলার মুখে একপর্যায়ে পিছু হটতে বাধ্য হন অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা।

অতিরিক্ত নৌ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানকারী দলের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অভিযান জোরদার করেন। যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

মৎস্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে সোমবার ভোর থেকে চালানো অভিযানে জেলেদের আটক করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যে, সকাল পর্যন্ত ৩৬ জন জেলেকে আটক করার কথা জানানো হয়। পরে সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম জানান, ভোররাত থেকে অভিযান চালিয়ে ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, জেলার কয়েকটি এলাকায় অসাধু জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করছেন। তাঁদের আটক করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত ১০ দিনে ২০টি অভিযান চালিয়ে ৭২ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় কিছু জেলে আক্রমণাত্মক আচরণের চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা।

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, মৎস্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যারা বর্তমানে নদীতে মা ইলিশ শিকার করছেন, তাঁদের কেউ নিবন্ধিত জেলে নন—এমন তথ্যপ্রমাণ তাঁদের কাছে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে অভিযানে অংশ নেন।