সিএনএম ডেস্কঃ
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুধর্মের ভাবাবেগে আঘাত! জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে প্রকাশ্য রাস্তায় গরু জবাইয়ের মতো ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসায় তার তীব্র প্রতিবাদ করলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন।
ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি গোটা ঘটনার সমালোচনা করেছেন। লেখিকার মত, খাদ্যের স্বাধীনতা সকলের আছে এবং সকলকে তা স্বীকার করতে হবে। এছাড়া ক্যাম্পাসে ধর্মাচরণ নিয়েও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে গোটা ঘটনাটি শেয়ার করেছেন তসলিমা নাসরিন।
ঘটনার শুরু ১২ অক্টোবর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে, মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেছিলেন একদল মুসলিম শিক্ষার্থী। হিন্দু শিক্ষার্থীরা তাতে আপত্তি তোলার পর তাঁরা রান্নার জায়গা সরিয়ে নেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরেই রান্না করে। এসবের জেরে প্রশাসন পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। এর প্রতিবাদে নতুন করে গোমাংস ভোজের ঘোষণা করেন মুসলিম শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার গরু জবাই হয় উপাচার্যের ভবন ও গণিত বিভাগের মাঝখানের সড়কে।
তসলিমার বক্তব্য, ‘কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, সহপাঠীদের আপত্তির পর আলোচনায় বিরোধ মেটানোর বদলে গরু জবাই প্রতিবাদের কর্মসূচি বানানোর প্রয়োজন হলো কেন? এতে পারস্পরিক আস্থা বাড়ে, না নিজেদের দাপট দেখানো হয়?’ বাংলাদেশে মৌলবাদী মানসিকতার প্রতিবাদ করায় দেশছাড়া লেখিকার আরও বক্তব্য, ‘মসজিদের সামনে শুয়োরের মাংস রান্নার আয়োজন হলে যারা আপত্তি করত, মন্দিরের কাছে গরুর মাংস রান্নায় হিন্দু শিক্ষার্থীদের আপত্তি বুঝতে তাদের অসুবিধা কোথায়? খাদ্যের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ালে সেই স্বাধীনতা সবার জন্য স্বীকার করতে হবে।’
আসলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উনিশ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে দু’হাজার হিন্দু। এই তথ্য জানিয়ে তসলিমার বক্তব্য, ‘হিন্দু ছাত্ররা সংখ্যায় কম বলে তাঁদের মর্যাদা কম নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা কারও অতিথি নয়, কারও দয়ায় পড়াশোনা করছে না। ক্যাম্পাসে তাদের অধিকার অন্য সবার সমান। বিশ্ববিদ্যালয় কারও ধর্মীয় দাপট দেখানোর জমিদারি নয়।’
Reporter Name 
























