ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহালয়ায় ইডেনে থাকার ইচ্ছাপ্রকাশ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃঃ

দুর্গাপূজার মায়াবী আবহে নিজের অত্যন্ত প্রিয় এই শহরে ফিরে এসে লেখিকা যারপরনাই উচ্ছ্বসিত।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন শহরে তাঁর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তসলিমা নাসরিন আবেগমথিত কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ সময় পর নিজের প্রিয় শহরে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শহরবাসীকে এক নতুন আবেগ ও কৌতূহলের জোয়ারে ভাসিয়েছে।

লেখিকার একান্ত কথায়, এবারের পুজোয় হয়তো টানা থাকা সম্ভব হবে না, তবে মহালয়ার পবিত্র বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তিনি খুবই আশাবাদী। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত মহালয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার প্রবল ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি।

তসলিমা জানান, আগামী ৯ এবং ১১ অক্টোবর তাঁর একাধিক ব্যস্ততা রয়েছে। এর মধ্যে আগামীকাল মহাজাতি সদনে তাঁর লেখা কবিতা ও কবিতার গানের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে চলেছে। ওই একই মঞ্চ থেকে তাঁকে বিশিষ্ট ‘উমা সম্মান’ প্রদান করা হবে বলেও খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, দেবী বন্দনা কেন্দ্রিক এই অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং শৈল্পিক হবে বলে মনে করছেন আয়োজক কমিটি।

আগামী ১১ অক্টোবর সল্টলেকের বিডি অডিটোরিয়ামে একটি সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানেই তাঁর লেখা নতুন একটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। এছাড়া ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগারে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশের অনুষ্ঠানেও তাঁর সম্মাননীয় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। যদিও এবারের পুজোয় কলকাতায় দীর্ঘসময় থাকা সম্ভব হচ্ছে না, তবে পরের বছর থেকে স্থায়ীভাবে পুজোর মরসুমে শহরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

কলকাতার দুর্গাপূজাকে তিনি বিশ্বের এক অনন্য শিল্প প্রদর্শনীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এখানকার উৎসবের আমেজ অত্যন্ত নান্দনিক এবং আকর্ষণীয়, যা বিশ্বের অন্য কোথাও সচরাচর দেখা যায় না।

তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে কলকাতার শিল্পী-সাহিত্যিক মহলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অটুট। শহরবাসী ও অগণিত অনুরাগীদের প্রতি তিনি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম ভালোবাসা জ্ঞাপন করেছেন। ২০০৭ সালের সেই উত্তাল পরিস্থিতি আজ অনেকটা থিতিয়ে এলেও, লেখিকার ফিরে আসা এবং তাঁর কলকাতার প্রতি টান নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ের রাজ্যের পরিবেশের ইতিবাচক বদলই যে তাঁকে ফের কলকাতায় আসার পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে, তা তাঁর কথাবার্তাতেই বেশ স্পষ্ট। শহরের বুদ্ধিজীবী মহলে এখন তসলিমা নাসরিনের আগমন এবং তাঁর আসন্ন কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বহু বছর বাদে তসলিমা নাসরিনের কলম ও কণ্ঠ যেন আবারও কলকাতার নিজস্ব সংস্কৃতির সাথে মিশে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। শহরের আকাশ-বাতাস এখন উৎসবের সাজে সেজে উঠেছে, আর সেই সাজের মধ্যে প্রিয় লেখিকাকে ফিরে পাওয়া যেন কলকাতার আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে বই বিতর্ক এবং তৎসংক্রান্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জেরে তৎকালীন সরকারের আমলে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তসলিমা নাসরিন।

১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর থেকেই তিনি আমেরিকা, ইউরোপ ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে আশা ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সব সময় কণ্ঠস্বর তোলায় যে লেখিকাকে নিজের দেশ ছাড়তে হয়েছিল, তাঁকে কলকাতায় সম্মানজনকভাবে ফেরানোর বিষয়টি একটি নৈতিক ও মানবিক জায়গা থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পালাবদলের পরবর্তী সময়ে তসলিমা নাসরিনের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজ্যের সাহিত্য মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালয়ায় ইডেনে থাকার ইচ্ছাপ্রকাশ

আপডেট সময় ০৭:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃঃ

দুর্গাপূজার মায়াবী আবহে নিজের অত্যন্ত প্রিয় এই শহরে ফিরে এসে লেখিকা যারপরনাই উচ্ছ্বসিত।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন শহরে তাঁর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তসলিমা নাসরিন আবেগমথিত কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ সময় পর নিজের প্রিয় শহরে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শহরবাসীকে এক নতুন আবেগ ও কৌতূহলের জোয়ারে ভাসিয়েছে।

লেখিকার একান্ত কথায়, এবারের পুজোয় হয়তো টানা থাকা সম্ভব হবে না, তবে মহালয়ার পবিত্র বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তিনি খুবই আশাবাদী। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত মহালয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার প্রবল ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি।

তসলিমা জানান, আগামী ৯ এবং ১১ অক্টোবর তাঁর একাধিক ব্যস্ততা রয়েছে। এর মধ্যে আগামীকাল মহাজাতি সদনে তাঁর লেখা কবিতা ও কবিতার গানের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে চলেছে। ওই একই মঞ্চ থেকে তাঁকে বিশিষ্ট ‘উমা সম্মান’ প্রদান করা হবে বলেও খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, দেবী বন্দনা কেন্দ্রিক এই অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং শৈল্পিক হবে বলে মনে করছেন আয়োজক কমিটি।

আগামী ১১ অক্টোবর সল্টলেকের বিডি অডিটোরিয়ামে একটি সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানেই তাঁর লেখা নতুন একটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। এছাড়া ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগারে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশের অনুষ্ঠানেও তাঁর সম্মাননীয় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। যদিও এবারের পুজোয় কলকাতায় দীর্ঘসময় থাকা সম্ভব হচ্ছে না, তবে পরের বছর থেকে স্থায়ীভাবে পুজোর মরসুমে শহরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

কলকাতার দুর্গাপূজাকে তিনি বিশ্বের এক অনন্য শিল্প প্রদর্শনীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এখানকার উৎসবের আমেজ অত্যন্ত নান্দনিক এবং আকর্ষণীয়, যা বিশ্বের অন্য কোথাও সচরাচর দেখা যায় না।

তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে কলকাতার শিল্পী-সাহিত্যিক মহলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অটুট। শহরবাসী ও অগণিত অনুরাগীদের প্রতি তিনি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম ভালোবাসা জ্ঞাপন করেছেন। ২০০৭ সালের সেই উত্তাল পরিস্থিতি আজ অনেকটা থিতিয়ে এলেও, লেখিকার ফিরে আসা এবং তাঁর কলকাতার প্রতি টান নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ের রাজ্যের পরিবেশের ইতিবাচক বদলই যে তাঁকে ফের কলকাতায় আসার পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে, তা তাঁর কথাবার্তাতেই বেশ স্পষ্ট। শহরের বুদ্ধিজীবী মহলে এখন তসলিমা নাসরিনের আগমন এবং তাঁর আসন্ন কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বহু বছর বাদে তসলিমা নাসরিনের কলম ও কণ্ঠ যেন আবারও কলকাতার নিজস্ব সংস্কৃতির সাথে মিশে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। শহরের আকাশ-বাতাস এখন উৎসবের সাজে সেজে উঠেছে, আর সেই সাজের মধ্যে প্রিয় লেখিকাকে ফিরে পাওয়া যেন কলকাতার আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে বই বিতর্ক এবং তৎসংক্রান্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জেরে তৎকালীন সরকারের আমলে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তসলিমা নাসরিন।

১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর থেকেই তিনি আমেরিকা, ইউরোপ ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে আশা ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সব সময় কণ্ঠস্বর তোলায় যে লেখিকাকে নিজের দেশ ছাড়তে হয়েছিল, তাঁকে কলকাতায় সম্মানজনকভাবে ফেরানোর বিষয়টি একটি নৈতিক ও মানবিক জায়গা থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পালাবদলের পরবর্তী সময়ে তসলিমা নাসরিনের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজ্যের সাহিত্য মহল।