ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলেজছাত্র রোহান হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৬:৪২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্টসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলে-, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার মো: দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মোঃ গনি সরদারের ছেলে মো: রিয়াজ সরদার (২৩) ও মো: সিদ্দিক মন্ডলের ছেলেমো: শরীফ (২৭)।
পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোনকল পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হন চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরদিন ৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে দাদসী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ৯ অক্টোবর থানার মামলা নম্বর ১৭ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, রোহানের নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোর ৪টার দিকে দাদসী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা ও পরিকল্পনার জেরে রোহানকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য, তাঁকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহের পেট ধারালো ছুরি দিয়ে কাটা হয়। পরে মরদেহের সঙ্গে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়, যাতে মরদেহটি ভেসে না ওঠে এবং হত্যার আলামত নষ্ট করা যায়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেখানো মতে ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও গামছা উদ্ধার করা হয়েছে। মো. রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শ্বাসরোধে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট। এ ছাড়া দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে নিহতের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা আলামতগুলো বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মফিজুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

কলেজছাত্র রোহান হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় ০৬:৪২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএমঃ

রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্টসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলে-, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার মো: দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মোঃ গনি সরদারের ছেলে মো: রিয়াজ সরদার (২৩) ও মো: সিদ্দিক মন্ডলের ছেলেমো: শরীফ (২৭)।
পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোনকল পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হন চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরদিন ৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে দাদসী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ৯ অক্টোবর থানার মামলা নম্বর ১৭ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, রোহানের নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোর ৪টার দিকে দাদসী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা ও পরিকল্পনার জেরে রোহানকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য, তাঁকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহের পেট ধারালো ছুরি দিয়ে কাটা হয়। পরে মরদেহের সঙ্গে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়, যাতে মরদেহটি ভেসে না ওঠে এবং হত্যার আলামত নষ্ট করা যায়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেখানো মতে ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও গামছা উদ্ধার করা হয়েছে। মো. রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শ্বাসরোধে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট। এ ছাড়া দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে নিহতের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা আলামতগুলো বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মফিজুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।