ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন পলক

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৬:২১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং প্রসিকিউশনের মধ্যে বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে। শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে পলক বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন।’ পরে সাক্ষীর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করায় তাকে থামিয়ে কম কথা বলার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

রবিবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে বিচারকাজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।

সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন একটি বিষয়কে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে, ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে আসিনি।’

পলকের এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকলে তা আইনজীবীদের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো আসামি এভাবে কথা বলতে পারেন না।

এ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়।

 

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাইব্যুনাল পলককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’ বিচারক আরও জানান, আদালতে কোনো বক্তব্য দিতে হলে অনুমতি নিতে হবে। এখানে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই এবং কোনো বিষয় ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া উচিত নয়।

সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে বিটিআরসি কর্মকর্তা মাহদী আমিন ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের কথা উল্লেখ করেন।

তবে বক্তব্যটি মামলার মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় জানিয়ে প্রসিকিউশন তা বাদ দেওয়ার আবেদন করে। সাক্ষীও এ বিষয়ে সম্মতি জানান।

এ সময় কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীর উদ্দেশে বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ তখন ট্রাইব্যুনাল তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘একটু বসতে পারেন, দয়া করে কথা কম বলেন।’

পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন প্রশ্ন করে সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছে। এখন সেই বক্তব্য বাদ দিতে হলে সাক্ষীকে ‘হোস্টাইল’ বা স্বার্থবিরোধী ঘোষণা করতে হবে।

প্রসিকিউশনের আনা তিনটি প্রধান অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। প্রসিকিউশনের দাবি, এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি দেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচার চলছে। অভিযোগগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

শুনানিতে জুনাইদ আহমেদ পলকের পক্ষে আইনি লড়াই করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। অন্যদিকে, সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী মনজুর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন পলক

আপডেট সময় ০৬:২১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএমঃ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং প্রসিকিউশনের মধ্যে বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে। শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে পলক বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন।’ পরে সাক্ষীর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করায় তাকে থামিয়ে কম কথা বলার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

রবিবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে বিচারকাজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।

সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন একটি বিষয়কে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে, ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে আসিনি।’

পলকের এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকলে তা আইনজীবীদের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো আসামি এভাবে কথা বলতে পারেন না।

এ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়।

 

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাইব্যুনাল পলককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’ বিচারক আরও জানান, আদালতে কোনো বক্তব্য দিতে হলে অনুমতি নিতে হবে। এখানে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই এবং কোনো বিষয় ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া উচিত নয়।

সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে বিটিআরসি কর্মকর্তা মাহদী আমিন ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের কথা উল্লেখ করেন।

তবে বক্তব্যটি মামলার মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় জানিয়ে প্রসিকিউশন তা বাদ দেওয়ার আবেদন করে। সাক্ষীও এ বিষয়ে সম্মতি জানান।

এ সময় কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীর উদ্দেশে বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ তখন ট্রাইব্যুনাল তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘একটু বসতে পারেন, দয়া করে কথা কম বলেন।’

পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন প্রশ্ন করে সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছে। এখন সেই বক্তব্য বাদ দিতে হলে সাক্ষীকে ‘হোস্টাইল’ বা স্বার্থবিরোধী ঘোষণা করতে হবে।

প্রসিকিউশনের আনা তিনটি প্রধান অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। প্রসিকিউশনের দাবি, এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি দেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচার চলছে। অভিযোগগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

শুনানিতে জুনাইদ আহমেদ পলকের পক্ষে আইনি লড়াই করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। অন্যদিকে, সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী মনজুর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।