ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম বেড়েছে আটা, ময়দা , মুরগি–ডিম, মাছসহ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:২০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

বাজারে খোলা ও মোড়কজাত আটা এবং ময়দার দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এর পাশাপাশি বাড়তি রয়েছে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের দাম। আর সবজির দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও মগবাজার কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, আটা ও ময়দার এই দাম বেড়েছে গত এক মাসের মধ্যে। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়েছেন। এ ছাড়া উৎপাদন কমা ও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মুরগি ও ডিমের দাম বাড়তি।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজারদরের তালিকায় আটা, ময়দার মূল্যবৃদ্ধির তথ্য রয়েছে। টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।
বাজারে অবশ্য এর চেয়েও কিছুটা বেশি দামে আটা–ময়দা বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের হিসাবে খুচরা পর্যায়ে গত এক মাসে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৫ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব বাজারের মুদিদোকানগুলোয় প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে আটার কেজি ছিল ৪৫ টাকা। আর বিক্রেতারা প্রতি কেজি খোলা ময়দার দাম রাখছেন ৬৫–৭০ টাকা। মাসখানেক আগে খোলা ময়দার কেজি ছিল ৫৫–৬০ টাকা।
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত (প্যাকেট) আটা ও ময়দা বিক্রি হয়। বর্তমানে দুই কেজি ওজনের এক প্যাকেট ময়দা ১৬০–১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাতে কেজি পড়ে ৮০–৮৫ টাকা। এক মাস আগে এক কেজি মোড়কজাত ময়দার দাম ছিল ৭০–৭৫ টাকা।
আটা–ময়দাসহ অন্যান্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গত শনিবার বানরুটিসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এরপর মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর রুটি, বিস্কুটের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মতি দেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারে অনেকটা চড়া দামে ফার্মের মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দেড় মাস আগে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। এর আগে অবশ্য ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০–১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বর্তমানে বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। সাদা রঙের ডিম হলে দাম ১০ টাকা কমে পাওয়া যায়। মাস দেড়েক আগেও এ দামেই ডিম বিক্রি হয়েছে। গতকাল প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৪০–৩৬০ টাকায়। আর সোনালি মুরগির কেজি ৩০০–৩৩০ টাকা। এই মুরগির দামও গত এক–দুই সপ্তাহে কমেনি।
সাধারণত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে সপ্তাহ–মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম ওঠানামা করে। কিন্তু এবার প্রায় দেড় মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম পাড়া ও ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। এতে সার্বিকভাবে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ডিম–মুরগির দাম কমছে না।
তাছাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই, তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা প্রভৃতি মাছের দামও অনেকটা উচ্চ মূল্যে স্থির রয়েছে। গতকাল আড়াই-তিন কেজি ওজনের প্রতি কেজি রুই মাছ ৪০০–৪২০ টাকা ও কাতলা ৪২০–৪৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া আকারভেদে প্রতি কেজি চাষের পাঙাশ ২৫০–৩০০ টাকায়, তেলাপিয়া মাছ ২৫০-২৮০ টাকা এবং পাবদা ৪০০–৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

দাম বেড়েছে আটা, ময়দা , মুরগি–ডিম, মাছসহ

আপডেট সময় ১০:২০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএমঃ

বাজারে খোলা ও মোড়কজাত আটা এবং ময়দার দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এর পাশাপাশি বাড়তি রয়েছে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের দাম। আর সবজির দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও মগবাজার কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, আটা ও ময়দার এই দাম বেড়েছে গত এক মাসের মধ্যে। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়েছেন। এ ছাড়া উৎপাদন কমা ও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মুরগি ও ডিমের দাম বাড়তি।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজারদরের তালিকায় আটা, ময়দার মূল্যবৃদ্ধির তথ্য রয়েছে। টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।
বাজারে অবশ্য এর চেয়েও কিছুটা বেশি দামে আটা–ময়দা বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের হিসাবে খুচরা পর্যায়ে গত এক মাসে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৫ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব বাজারের মুদিদোকানগুলোয় প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে আটার কেজি ছিল ৪৫ টাকা। আর বিক্রেতারা প্রতি কেজি খোলা ময়দার দাম রাখছেন ৬৫–৭০ টাকা। মাসখানেক আগে খোলা ময়দার কেজি ছিল ৫৫–৬০ টাকা।
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত (প্যাকেট) আটা ও ময়দা বিক্রি হয়। বর্তমানে দুই কেজি ওজনের এক প্যাকেট ময়দা ১৬০–১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাতে কেজি পড়ে ৮০–৮৫ টাকা। এক মাস আগে এক কেজি মোড়কজাত ময়দার দাম ছিল ৭০–৭৫ টাকা।
আটা–ময়দাসহ অন্যান্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গত শনিবার বানরুটিসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এরপর মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর রুটি, বিস্কুটের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মতি দেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারে অনেকটা চড়া দামে ফার্মের মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দেড় মাস আগে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। এর আগে অবশ্য ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০–১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বর্তমানে বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। সাদা রঙের ডিম হলে দাম ১০ টাকা কমে পাওয়া যায়। মাস দেড়েক আগেও এ দামেই ডিম বিক্রি হয়েছে। গতকাল প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৪০–৩৬০ টাকায়। আর সোনালি মুরগির কেজি ৩০০–৩৩০ টাকা। এই মুরগির দামও গত এক–দুই সপ্তাহে কমেনি।
সাধারণত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে সপ্তাহ–মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম ওঠানামা করে। কিন্তু এবার প্রায় দেড় মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম পাড়া ও ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। এতে সার্বিকভাবে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ডিম–মুরগির দাম কমছে না।
তাছাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই, তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা প্রভৃতি মাছের দামও অনেকটা উচ্চ মূল্যে স্থির রয়েছে। গতকাল আড়াই-তিন কেজি ওজনের প্রতি কেজি রুই মাছ ৪০০–৪২০ টাকা ও কাতলা ৪২০–৪৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া আকারভেদে প্রতি কেজি চাষের পাঙাশ ২৫০–৩০০ টাকায়, তেলাপিয়া মাছ ২৫০-২৮০ টাকা এবং পাবদা ৪০০–৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।