সিএনএমঃ
ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকজনের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কদমতলীর শনির আখড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের দুলাল দেওয়ান (৫৫) এবং মাদারীপুর সদর এলাকার মো. জামাল (৫০)।
পিবিআই জানিয়েছে, হালিশহর থানায় করা মানবপাচার মামলায় দুজনই এজাহারভুক্ত আসামি। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকার মাতুয়াইল এলাকার সাগরসহ ১১ জন ইতালিতে যাওয়ার জন্য একটি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার কথা বলা হলেও কয়েকজনকে পৃথকভাবে প্রায় ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার কথা বলা হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে কয়েকজন অগ্রিম টাকা দেন। পরে ৪ এপ্রিল ইতালিতে পাঠানোর প্রস্তুতির কথা বলে ওই ১১ জনকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার দুটি হোটেলে রাখা হয়। দুই দিন পর তাঁদের একটি মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, ওয়াপদা মোড় এলাকায় হালিশহর থানার টহল পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন যাত্রীরা কক্সবাজার যাওয়ার কথা জানালেও পরে পুলিশকে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানান। ওই সময় আবদুর রহমান নামের একজনকে নয়টি পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আরেকজন পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাগরের অভিযোগের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল হালিশহর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পর মামলাটি গত মে মাসে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর জামাল ও দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই আরও জানিয়েছে, জামালের বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর থানায় মানবপাচারের একটি মামলা রয়েছে। একই বিষয়ে মাদারীপুর সদর আদালতে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন। দুলাল দেওয়ানের বিরুদ্ধেও ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মানবপাচারের মামলা হয়েছিল।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চক্রটি ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিত। পরে তাঁদের সমুদ্রপথে বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে আটকে রাখা এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
Reporter Name 
























