ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

খুলনার নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এসব তথ্য জানান।

পুলিশের দাবি, বাবার লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে মা-বাবা মিলে মরদেহ বস্তাবন্দী করে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে আসেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা তাকে চড় মারেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ কাঠের লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এরপর মা-বাবা মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার জানান, নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, নির্জনার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 পুলিশ জানিয়েছে, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে পলাতক বাবার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধারের রাতে নিহতের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল, যার উৎসও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, পলাতক অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার

আপডেট সময় ০৭:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সিএনএমঃ

খুলনার নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এসব তথ্য জানান।

পুলিশের দাবি, বাবার লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে মা-বাবা মিলে মরদেহ বস্তাবন্দী করে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে আসেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা তাকে চড় মারেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ কাঠের লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এরপর মা-বাবা মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার জানান, নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, নির্জনার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 পুলিশ জানিয়েছে, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে পলাতক বাবার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধারের রাতে নিহতের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল, যার উৎসও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, পলাতক অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।