ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

লক্ষ্মীপুরে আদালতে আইনজীবী-কর্মচারীদের হাতাহাতি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:২২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে
সিএনএমঃ

লক্ষ্মীপুরে একটি মামলায় শিক্ষকসহ ২ জনকে জামিন দেওয়ায় আইনজীবীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়। এ ঘটনা নিয়েই আদালতের কর্মচারীদের সঙ্গে আইনজীবীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় আদালতের স্টেনোগ্রাফার আশরাফুজ্জামান জখম হয়। এতে এজলাসে উত্তেজনা দেখা দিলে ভীত হয়ে পড়ে ভেতর থাকা বিচারপ্রার্থীরা।

রোববার (১৫ জুন) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, গত ৬ জুন সদর মডেল থানায় লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী আবু তৈয়ব চুরির মামলা দায়ের করেন। এতে রায়পুর প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আহমেদ কাউসার উদ্দিন জামান ও রুবেল হোসেন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। ৯ জুন তারা আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন।

সেখানে উল্লেখ করা হয়- মামলার বাদি আইনজীবী, এজন্য আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিন শুনানিতে অংশ নেয়নি। আইনজীবী না পেয়ে জামিন শুনানির জন্য আসামিরা লক্ষ্মীপুর লিগ্যাল এইড অফিসে আইনি সহায়তা চায়। সেখান থেকে দুইজন আইনজীবীকে শুনানি করতে বলা হলেও তারা হেনস্তার ভয়ে জামিন শুনানিতে অংশ নেননি। ১০ জুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক এম সাইফুল ইসলাম আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বিচারপ্রার্থী জানান, আদালতের বিচারক এজলাসে বসা ছিলেন। এসময় ৭-৮ জন আইনজীবী কক্ষে ঢুকে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে তাৎক্ষণিক হট্টগোল দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচারক কর্মচারীদের দরজা বন্ধ করে দিতে বলেন। তখনই আইনজীবী ও কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আহত হয় স্টেনোগ্রাফার আশরাফুজ্জামান। এতে বিচারকার্য সম্পন্ন না করেই বিচারক এম সাইফুল ইসলাম এজলাস থেকে নেমে যান।

আহত আশরাফুজ্জামান বলেন, বিচারকের নির্দেশে এজলাসের দরজা বন্ধ করতে গেলে আইনজীবীরা আমার ওপর হামলা করে। আমরা শার্ট ছিঁড়ে ফেলেছে। বাম চোখের পাশে রক্তাক্ত জখম হয়েছে।

আইনজীবী আশিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েকজন আইনজীবী এজলাসে গিয়ে আদালত বর্জনের বিষয়টি জানাতে যায়। তখন কর্মচারীরা উল্টো আমাদের ওপর হামলা করে।

লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রফিক উল্যাহ বলেন, আইনজীবী আবু তৈয়বের বাসার গেট কেটে চুরির ঘটনায় ২ জন আসামি গ্রেপ্তার ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের রিমান্ডের আবেদন করেন। বিচারক রিমান্ড শুনানি নামঞ্জুর করে ১০০ টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর করে। তাড়াহুড়ো করে আসামিদের জামিন অন্য অর্থ বহন করে। আমাদের বিরোধিতা আমলে নেয়নি বিচারক। শুনানিতে আসামি পক্ষে একজন আইনজীবী ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জেলা জজসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা ওই বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে এজলাসে গিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে কোন হট্টগোল বা হামলা হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে আদালতে আইনজীবী-কর্মচারীদের হাতাহাতি

আপডেট সময় ০৮:২২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
সিএনএমঃ

লক্ষ্মীপুরে একটি মামলায় শিক্ষকসহ ২ জনকে জামিন দেওয়ায় আইনজীবীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়। এ ঘটনা নিয়েই আদালতের কর্মচারীদের সঙ্গে আইনজীবীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় আদালতের স্টেনোগ্রাফার আশরাফুজ্জামান জখম হয়। এতে এজলাসে উত্তেজনা দেখা দিলে ভীত হয়ে পড়ে ভেতর থাকা বিচারপ্রার্থীরা।

রোববার (১৫ জুন) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, গত ৬ জুন সদর মডেল থানায় লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী আবু তৈয়ব চুরির মামলা দায়ের করেন। এতে রায়পুর প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আহমেদ কাউসার উদ্দিন জামান ও রুবেল হোসেন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। ৯ জুন তারা আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন।

সেখানে উল্লেখ করা হয়- মামলার বাদি আইনজীবী, এজন্য আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিন শুনানিতে অংশ নেয়নি। আইনজীবী না পেয়ে জামিন শুনানির জন্য আসামিরা লক্ষ্মীপুর লিগ্যাল এইড অফিসে আইনি সহায়তা চায়। সেখান থেকে দুইজন আইনজীবীকে শুনানি করতে বলা হলেও তারা হেনস্তার ভয়ে জামিন শুনানিতে অংশ নেননি। ১০ জুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক এম সাইফুল ইসলাম আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বিচারপ্রার্থী জানান, আদালতের বিচারক এজলাসে বসা ছিলেন। এসময় ৭-৮ জন আইনজীবী কক্ষে ঢুকে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে তাৎক্ষণিক হট্টগোল দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচারক কর্মচারীদের দরজা বন্ধ করে দিতে বলেন। তখনই আইনজীবী ও কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আহত হয় স্টেনোগ্রাফার আশরাফুজ্জামান। এতে বিচারকার্য সম্পন্ন না করেই বিচারক এম সাইফুল ইসলাম এজলাস থেকে নেমে যান।

আহত আশরাফুজ্জামান বলেন, বিচারকের নির্দেশে এজলাসের দরজা বন্ধ করতে গেলে আইনজীবীরা আমার ওপর হামলা করে। আমরা শার্ট ছিঁড়ে ফেলেছে। বাম চোখের পাশে রক্তাক্ত জখম হয়েছে।

আইনজীবী আশিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েকজন আইনজীবী এজলাসে গিয়ে আদালত বর্জনের বিষয়টি জানাতে যায়। তখন কর্মচারীরা উল্টো আমাদের ওপর হামলা করে।

লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রফিক উল্যাহ বলেন, আইনজীবী আবু তৈয়বের বাসার গেট কেটে চুরির ঘটনায় ২ জন আসামি গ্রেপ্তার ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের রিমান্ডের আবেদন করেন। বিচারক রিমান্ড শুনানি নামঞ্জুর করে ১০০ টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর করে। তাড়াহুড়ো করে আসামিদের জামিন অন্য অর্থ বহন করে। আমাদের বিরোধিতা আমলে নেয়নি বিচারক। শুনানিতে আসামি পক্ষে একজন আইনজীবী ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জেলা জজসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা ওই বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে এজলাসে গিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে কোন হট্টগোল বা হামলা হয়নি।