গাদ্দার কারা
নুরুন্নবী সোহেল
ইতিহাসের বুকের ভেতর
একটি শব্দ কাঁটার মতো আটকে আছে
গাদ্দার।
কেউ তাকে উচ্চারণ করে না জোরে,
তবু বাতাসে তার ধাতব গন্ধ ভেসে থাকে
পোড়া লোহার মতো।
কেউ একদিন বলেছিল
বিপ্লব আসছে।
কিন্তু রাতের অন্ধকারে
মসনদের সিঁড়ি গুনে গুনে
কারা যেন চুপিচুপি উঠেছিল উপরে।
জুলাইয়ের রোদে
একটি প্রজন্ম তাদের রক্ত দিয়ে লিখেছিল
বিশ্বাসের নাম।
আর বাজারের মতো সাজানো চত্বরে
কেউ কেউ সেই বিশ্বাস
নীরব নিলামে তুলে দিয়েছিল
চেতনার দোকান খুলে।
সেনানিবাসের দেয়াল
অন্ধকার জানালাগুলো
সব জানে
কে লুকিয়েছিল,
আর কে পতাকার ছায়ায় দাঁড়িয়ে
নিজের মুখ বদলেছিল বারবার।
বছরের পর বছর দীর্ঘ অরণ্যে
যারা হাঁটছিল আগুনের পথ ধরে,
জেল, জুলুম, গুম আর নির্বাসনের ধুলো মেখে
তাদের বুকের ভেতর
একটি মানচিত্রই শুধু জ্বলছিল
লাল আর সবুজের নীরব আগুন।
কত তাজা জীবন
মাটির ভেতর ঘুমিয়ে গেছে
বীজের মতো
বাংলাদশ নামের কোনো দূর ভবিষ্যতের জন্য।