ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেই এক শর্তেই অনড় বিএনপি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:৫৭:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মে ২০২২
  • ২৩৭ বার পড়া হয়েছে
রাজনৈতিক অঙ্গনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার প্রধান বিষয় দলীয় সরকার নাকি নির্দলীয় বা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে নির্বাচন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বক্তব্য গতবারের মতো দলীয় সরকারের অধীনেই হবে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
আর বিএনপি ও তার মিত্ররা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনঢ়। প্রয়োজনে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটানোর কথাও বলছে তারা। সর্বশেষ রোববার নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সরকারকে একটি শর্ত দিয়েছে বিএনপি। সেই শর্ত পূরণ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনার বিষয়টিকেও নাকচ করে দিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির নির্বাচনে আসা প্রসঙ্গে রোববার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন ইভিএমে হবে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকলে ভোট নিরপেক্ষ হবে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে বিএনপি আসবে। তাদের অস্তিত্বের জন্যই তাদের আসতে হবে। আমরাও একটি শক্তিশালী বিরোধী দলকে সংসদে স্বাগত জানাই। বিরোধী দলের স্ট্যান্ড থাকুক। গত শনিবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী বৈঠকেও নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করা নিয়ে আলোচনা হয়।
এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।  তিনি রোববার বলেছেন, ‘পরবর্তী নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের কথা তো পরিষ্কার, আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ না করলে এবং নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে নির্বাচনের কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। এই নিয়ে আমরা কোনো কথাই বলতে চাই না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে আমরা নির্বাচনে তো যাবই না।’
তিনি বলেন, ‘(নির্বাচনে যাওয়ার) প্রথম শর্ত হচ্ছে যে, তাদের (আওয়ামী লীগ) রিজাইন করতে হবে এবং একটি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারা নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে। সেই নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচনের আয়োজন করবে তার মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক একটি সরকার ও পার্লামেন্ট গঠিত হবে।’
বিএনপি নেতারাও মনে করছেন দল আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সময়োপযোগী ও সঠিক। তারা বলছেন, এবার বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে নানামুখী চাপে আছে। তাই নানাভাবে প্রলুব্ধ করবে, সেই ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তই আছে যে, আমরা এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করব না। এই সরকারের বিদায়ের জন্য আমরা আন্দোলন করব। শুধু বিএনপি নয়, সমমনা দলগুলোও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত।
তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে সেটা যে নামেই হোক না কেন।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক  বলেন, আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তই সঠিক। ২০১৪ সালে নির্বাচনে না যাওয়া, আবার ২০১৮ সালে সরকার প্রধানের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তও সঠিক। বৃহত্তর জোট গঠনের সিদ্ধান্তও সঠিক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। সেটা যে দলই হোক, মতই হোক। এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত সেটা সঠিক। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে দলের স্থায়ী কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিএনপি এখন নির্বাচন নয় দল সংগঠিত করে সরকারের পতন ত্বরান্বিত করার প্রতি জোর দিচ্ছে। আমার এলাকার নেতাকর্মীরা জানতে চেয়েছিল, তাদের বলে দিয়েছি নির্বাচন নয় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নাও। দল নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তখন দেখা যাবে।
তিনি বলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভাগীয় সম্পাদকরা ঈদের পর থেকেই মাঠে নেমেছেন। যেখানে সম্মেলন হয়নি, কমিটি নেই, তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমতুল্লাহ  বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে তাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য অতীতের চেয়েও অনেক বেশি প্রলোভন দেখাবে; কিন্তু বিএনপি সেই ফাঁদে পা দেবে না।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, দলের নিরানব্বইভাগ নেতাকর্মী মনে করে নিশ্চিতভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যাবে এমন নির্বাচনে যাওয়া উচিত।
যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরব বলেন, নির্বাচন নয় আমরা সরকারের পতন ঘটানোর জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। সরকারের পতন ঘটিয়েই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

সেই এক শর্তেই অনড় বিএনপি

আপডেট সময় ১০:৫৭:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মে ২০২২
রাজনৈতিক অঙ্গনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার প্রধান বিষয় দলীয় সরকার নাকি নির্দলীয় বা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে নির্বাচন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বক্তব্য গতবারের মতো দলীয় সরকারের অধীনেই হবে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
আর বিএনপি ও তার মিত্ররা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনঢ়। প্রয়োজনে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটানোর কথাও বলছে তারা। সর্বশেষ রোববার নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সরকারকে একটি শর্ত দিয়েছে বিএনপি। সেই শর্ত পূরণ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনার বিষয়টিকেও নাকচ করে দিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির নির্বাচনে আসা প্রসঙ্গে রোববার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন ইভিএমে হবে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকলে ভোট নিরপেক্ষ হবে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে বিএনপি আসবে। তাদের অস্তিত্বের জন্যই তাদের আসতে হবে। আমরাও একটি শক্তিশালী বিরোধী দলকে সংসদে স্বাগত জানাই। বিরোধী দলের স্ট্যান্ড থাকুক। গত শনিবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী বৈঠকেও নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করা নিয়ে আলোচনা হয়।
এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।  তিনি রোববার বলেছেন, ‘পরবর্তী নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের কথা তো পরিষ্কার, আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ না করলে এবং নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে নির্বাচনের কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। এই নিয়ে আমরা কোনো কথাই বলতে চাই না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে আমরা নির্বাচনে তো যাবই না।’
তিনি বলেন, ‘(নির্বাচনে যাওয়ার) প্রথম শর্ত হচ্ছে যে, তাদের (আওয়ামী লীগ) রিজাইন করতে হবে এবং একটি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারা নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে। সেই নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচনের আয়োজন করবে তার মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক একটি সরকার ও পার্লামেন্ট গঠিত হবে।’
বিএনপি নেতারাও মনে করছেন দল আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সময়োপযোগী ও সঠিক। তারা বলছেন, এবার বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে নানামুখী চাপে আছে। তাই নানাভাবে প্রলুব্ধ করবে, সেই ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তই আছে যে, আমরা এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করব না। এই সরকারের বিদায়ের জন্য আমরা আন্দোলন করব। শুধু বিএনপি নয়, সমমনা দলগুলোও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত।
তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে সেটা যে নামেই হোক না কেন।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক  বলেন, আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তই সঠিক। ২০১৪ সালে নির্বাচনে না যাওয়া, আবার ২০১৮ সালে সরকার প্রধানের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তও সঠিক। বৃহত্তর জোট গঠনের সিদ্ধান্তও সঠিক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। সেটা যে দলই হোক, মতই হোক। এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত সেটা সঠিক। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে দলের স্থায়ী কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিএনপি এখন নির্বাচন নয় দল সংগঠিত করে সরকারের পতন ত্বরান্বিত করার প্রতি জোর দিচ্ছে। আমার এলাকার নেতাকর্মীরা জানতে চেয়েছিল, তাদের বলে দিয়েছি নির্বাচন নয় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নাও। দল নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তখন দেখা যাবে।
তিনি বলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভাগীয় সম্পাদকরা ঈদের পর থেকেই মাঠে নেমেছেন। যেখানে সম্মেলন হয়নি, কমিটি নেই, তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমতুল্লাহ  বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে তাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য অতীতের চেয়েও অনেক বেশি প্রলোভন দেখাবে; কিন্তু বিএনপি সেই ফাঁদে পা দেবে না।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, দলের নিরানব্বইভাগ নেতাকর্মী মনে করে নিশ্চিতভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যাবে এমন নির্বাচনে যাওয়া উচিত।
যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরব বলেন, নির্বাচন নয় আমরা সরকারের পতন ঘটানোর জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। সরকারের পতন ঘটিয়েই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।