ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রয়োজন হলে দেশে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম হতেই পারে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫
  • ১৯৬ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রয়োজন হলে দেশে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম হতেই পারে, এটাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক নীতি। এটি নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছুই নেই। রাজনীতির প্রয়োজনে বিএনপি সকল গণতান্ত্রিক উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে।

বুধবার ( ১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি তার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত যেকোনো পরিস্থিতিতে বহু দল ও মতের চর্চার পক্ষে- উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এক্ষেত্রে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্বচ্ছ। জনগণ কোনো রাজনৈতিক দলকে গ্রহণ করবে কিংবা বর্জন করবে- নির্বাচনের মাধ্যমে তারা সেই রায় দেবে। তবে যারা জনগণের আদালতের রায়ের মুখোমুখি হতে ভয় পায় কিংবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে তারাই নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তাই গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান, আপনারা ধৈর্য্য হারাবেন না, নির্বাচনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে থাকুন। নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবে সেই বিশ্বাস রাখুন।

দলের নেতা-কর্মৗদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। বরং সর্তক থাকবেন। নিজেরা এমন কোনো কাজে সম্পৃক্ত হবেন না যাতে কেউ অপপ্রচারের সুযোগ পায়। জনগণের কাছে  আস্থাভাজন হোন।  জনগণের আস্থায় রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।’

এ সময় চব্বিশের গণ-আন্দোলনে ছাত্রদলের যে সমস্ত কর্মী শহিদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র, রাজনীতি, সরকার প্রচলিত বিধি ব্যবস্থা সংস্কার করে আরও উন্নত বিধি ব্যবস্থার পক্ষে ছাত্র-তরুণরা অবস্থান নেবে। সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশের তরুণ জনশক্তি ভূমিকা রাখবে এটাই স্বাভাবিক। এটাই তারুণ্যের ধর্ম। দেশে প্রয়োজনে আরও নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটবে এটাই গণতান্ত্রিক রীতি। এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। রাষ্ট্র ও রাজনীতির প্রয়োজনে বিএনপি সকল গণতান্ত্রিক উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। বিএনপি তার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত সকল পরিস্থিতিতে সকল সময়ে বহু দল ও মতের চর্চার পক্ষে।’

হঠাকারী সিদ্ধন্ত না নিতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সকলকে খেয়াল রাখতে হবে, কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে যাতে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বিনষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। এ ব্যাপারে ছাত্রদলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সর্তক ও সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখা দরকার লোভ বা লাভের ঊর্ধ্বে উঠে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়তে বিশেষ করে ছাত্র-তরুণদের ভূমিকা অপরিসীম।’

সংস্কার কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোনো কোনো মহল থেকে সংস্কার নাকি নির্বাচন এই ধরনের প্রশ্ন রাখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি তথা দেশপ্রেমিক সকল মানুষ, সকল রাজনৈতিক দল এটিকে স্রেফ অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত কূটতর্ক বলেই বিবেচনা করে। বিএনপি মনে করে রাষ্ট্র, রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দলের গুণগত পরিবর্তনের জন্য সংস্কার এবং নির্বাচন উভয়ই প্রয়োজন। বিদ্যমান ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে সংস্কার একটি অনিবার্য ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একইভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টেকসই এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নির্বাচনই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পন্থা। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ভোটের অধিকার প্রয়োগের যে সুযোগটি পায়; তা রাষ্ট্র-জনগণের রাজনীতির ক্ষমতা নিশ্চিত করে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

প্রয়োজন হলে দেশে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম হতেই পারে

আপডেট সময় ১০:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫

সিএনএমঃ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রয়োজন হলে দেশে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম হতেই পারে, এটাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক নীতি। এটি নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছুই নেই। রাজনীতির প্রয়োজনে বিএনপি সকল গণতান্ত্রিক উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে।

বুধবার ( ১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি তার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত যেকোনো পরিস্থিতিতে বহু দল ও মতের চর্চার পক্ষে- উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এক্ষেত্রে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্বচ্ছ। জনগণ কোনো রাজনৈতিক দলকে গ্রহণ করবে কিংবা বর্জন করবে- নির্বাচনের মাধ্যমে তারা সেই রায় দেবে। তবে যারা জনগণের আদালতের রায়ের মুখোমুখি হতে ভয় পায় কিংবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে তারাই নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তাই গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান, আপনারা ধৈর্য্য হারাবেন না, নির্বাচনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে থাকুন। নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবে সেই বিশ্বাস রাখুন।

দলের নেতা-কর্মৗদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। বরং সর্তক থাকবেন। নিজেরা এমন কোনো কাজে সম্পৃক্ত হবেন না যাতে কেউ অপপ্রচারের সুযোগ পায়। জনগণের কাছে  আস্থাভাজন হোন।  জনগণের আস্থায় রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।’

এ সময় চব্বিশের গণ-আন্দোলনে ছাত্রদলের যে সমস্ত কর্মী শহিদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র, রাজনীতি, সরকার প্রচলিত বিধি ব্যবস্থা সংস্কার করে আরও উন্নত বিধি ব্যবস্থার পক্ষে ছাত্র-তরুণরা অবস্থান নেবে। সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশের তরুণ জনশক্তি ভূমিকা রাখবে এটাই স্বাভাবিক। এটাই তারুণ্যের ধর্ম। দেশে প্রয়োজনে আরও নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটবে এটাই গণতান্ত্রিক রীতি। এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। রাষ্ট্র ও রাজনীতির প্রয়োজনে বিএনপি সকল গণতান্ত্রিক উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। বিএনপি তার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত সকল পরিস্থিতিতে সকল সময়ে বহু দল ও মতের চর্চার পক্ষে।’

হঠাকারী সিদ্ধন্ত না নিতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সকলকে খেয়াল রাখতে হবে, কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে যাতে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বিনষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। এ ব্যাপারে ছাত্রদলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সর্তক ও সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখা দরকার লোভ বা লাভের ঊর্ধ্বে উঠে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়তে বিশেষ করে ছাত্র-তরুণদের ভূমিকা অপরিসীম।’

সংস্কার কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোনো কোনো মহল থেকে সংস্কার নাকি নির্বাচন এই ধরনের প্রশ্ন রাখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি তথা দেশপ্রেমিক সকল মানুষ, সকল রাজনৈতিক দল এটিকে স্রেফ অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত কূটতর্ক বলেই বিবেচনা করে। বিএনপি মনে করে রাষ্ট্র, রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দলের গুণগত পরিবর্তনের জন্য সংস্কার এবং নির্বাচন উভয়ই প্রয়োজন। বিদ্যমান ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে সংস্কার একটি অনিবার্য ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একইভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টেকসই এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নির্বাচনই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পন্থা। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ভোটের অধিকার প্রয়োগের যে সুযোগটি পায়; তা রাষ্ট্র-জনগণের রাজনীতির ক্ষমতা নিশ্চিত করে।’