ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের পর বিএনপি আন্দোলনের চেয়ে ঘর গোছাতে মনোযোগী

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০২২
  • ২৫২ বার পড়া হয়েছে
মুখে বললেও এখনই জোরালো কোনো আন্দোলন কর্মসূচিতে যাবে না বিএনপি। এই রমজানে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ইফতারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে দলীয়ভাবে ইফতার ও আলোচনা সভা চলছে। এতে ব্যাপক সমাগম হচ্ছে।
বড় বড় অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে অনলাইনে বক্তব্য রাখছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে নিজেদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। বিএনপি নেতারা বলছেন, রমজানের ইফতারে ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দল সবখানে সংগঠিত হচ্ছে। এখন তাদেরকে উজ্জীবিত রাখাই প্রধান কাজ। রমজানে চাইলেও সবখানে দলের কাউন্সিল করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও অনেক জায়গায় তা করা হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের পর সব সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি ও দল পুনর্গঠনের কাজ করা হবে পুরোদমে।
এ বিষয়ে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, আমরা হাইকমান্ডের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। জুনের মধ্যে আমরা দলের সব সাংগঠনিক ইউনিটের কাজ শেষ করব। এ মাসের মধ্যে ঢাকা জেলার সব কমিটির কাজ শেষ হবে। সম্মেলনও প্রায় শেষ। এখন আমরা থানা পর্যায়েও যাচ্ছি। তৃণমূলেও একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্বাচন দিচ্ছি। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করার কথা বলেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ঈদের পর দলের সাংগঠনিক দিক মজবুত করতে পুরোদমে মাঠে নামা হবে।
ঈদের পর বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনকে পূর্ণাঙ্গ করা হবে। নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। বিশেষ করে দলের ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্রদল ও যুবদলকে আরও শক্তিশালী এবং যুগোপযোগী করে তোলা হবে। ইতোমধ্যে ছাত্রদলের সুপার ফাইভ কমিটি দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
অন্যদিকে ঐক্যের বিষয়ে বিএনপি ঈদের পর চূড়ান্ত রূপরেখা দেবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে পরিবেশ পুরো অনুকূলে থাকলে তার ঘোষণা দেওয়া হবে। ঐক্যের বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেওয়া জাতীয় সরকার ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর নেতারা। নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবে বিএনপির নেতারা বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মতে, নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠন করা মানে নেকড়ের দ্বারা বন পাহারা দেওয়া। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যদি জাতীয় সরকার হয় সেই সরকার নেকড়ের ভূমিকা পালন করবে। কেউ কেউ বলেছেন, নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার। কার অধীনে জাতীয় সরকার হবে এটা তো বলেন না? তার মানে বোঝাতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনার অধীনে?
বিএনপি সাংগঠনিক দিকের পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবেও নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। রোববার তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরানের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের ফরেন উইংয়ের প্রধান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি নেতারা। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা বৈদেশিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। মানবাধিকার, আইনের শাসন ইত্যাদি বিষয় বিদেশিদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
বিএনপির আন্দোলন কোন ঈদের পর- তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুদিন আগে বলেছেন, যারা বলে বিএনপির আন্দোলন কোন ঈদের পর, তাদের বলতে চাই তারিখ দিয়ে আন্দোলন হয় না। রোজা গেলে বুঝতে পারবেন আন্দোলন কাকে বলে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের আন্দোলন তো চলছে। সব কর্মসূচিই প্রতিবাদের অংশ। আন্দোলনের কখন গতি বাড়বে কিংবা কমবে তা সময়েই বলে দেবে। এটা ঈদের আগে বা পরের ব্যাপার নয়। আন্দোলন বলে-কয়ে হয় না। তিনি বলেন, বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার কাজ চলছে। তার চূড়ান্ত রূপরেখা সময়মতো জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে।
ঈদকে সামনে রেখে সব নেতা এখন এলাকামুখী হচ্ছেন। এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করছেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে ব্যস্ত রাখছেন। নানাভাবে গণসংযোগ করার চেষ্টা করছেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের পর বিএনপি আন্দোলনের চেয়ে ঘর গোছাতে মনোযোগী

আপডেট সময় ০৯:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০২২
মুখে বললেও এখনই জোরালো কোনো আন্দোলন কর্মসূচিতে যাবে না বিএনপি। এই রমজানে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ইফতারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে দলীয়ভাবে ইফতার ও আলোচনা সভা চলছে। এতে ব্যাপক সমাগম হচ্ছে।
বড় বড় অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে অনলাইনে বক্তব্য রাখছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে নিজেদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। বিএনপি নেতারা বলছেন, রমজানের ইফতারে ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দল সবখানে সংগঠিত হচ্ছে। এখন তাদেরকে উজ্জীবিত রাখাই প্রধান কাজ। রমজানে চাইলেও সবখানে দলের কাউন্সিল করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও অনেক জায়গায় তা করা হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের পর সব সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি ও দল পুনর্গঠনের কাজ করা হবে পুরোদমে।
এ বিষয়ে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, আমরা হাইকমান্ডের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। জুনের মধ্যে আমরা দলের সব সাংগঠনিক ইউনিটের কাজ শেষ করব। এ মাসের মধ্যে ঢাকা জেলার সব কমিটির কাজ শেষ হবে। সম্মেলনও প্রায় শেষ। এখন আমরা থানা পর্যায়েও যাচ্ছি। তৃণমূলেও একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্বাচন দিচ্ছি। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করার কথা বলেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ঈদের পর দলের সাংগঠনিক দিক মজবুত করতে পুরোদমে মাঠে নামা হবে।
ঈদের পর বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনকে পূর্ণাঙ্গ করা হবে। নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। বিশেষ করে দলের ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্রদল ও যুবদলকে আরও শক্তিশালী এবং যুগোপযোগী করে তোলা হবে। ইতোমধ্যে ছাত্রদলের সুপার ফাইভ কমিটি দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
অন্যদিকে ঐক্যের বিষয়ে বিএনপি ঈদের পর চূড়ান্ত রূপরেখা দেবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে পরিবেশ পুরো অনুকূলে থাকলে তার ঘোষণা দেওয়া হবে। ঐক্যের বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেওয়া জাতীয় সরকার ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর নেতারা। নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবে বিএনপির নেতারা বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মতে, নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠন করা মানে নেকড়ের দ্বারা বন পাহারা দেওয়া। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যদি জাতীয় সরকার হয় সেই সরকার নেকড়ের ভূমিকা পালন করবে। কেউ কেউ বলেছেন, নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার। কার অধীনে জাতীয় সরকার হবে এটা তো বলেন না? তার মানে বোঝাতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনার অধীনে?
বিএনপি সাংগঠনিক দিকের পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবেও নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। রোববার তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরানের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের ফরেন উইংয়ের প্রধান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি নেতারা। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা বৈদেশিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। মানবাধিকার, আইনের শাসন ইত্যাদি বিষয় বিদেশিদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
বিএনপির আন্দোলন কোন ঈদের পর- তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুদিন আগে বলেছেন, যারা বলে বিএনপির আন্দোলন কোন ঈদের পর, তাদের বলতে চাই তারিখ দিয়ে আন্দোলন হয় না। রোজা গেলে বুঝতে পারবেন আন্দোলন কাকে বলে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের আন্দোলন তো চলছে। সব কর্মসূচিই প্রতিবাদের অংশ। আন্দোলনের কখন গতি বাড়বে কিংবা কমবে তা সময়েই বলে দেবে। এটা ঈদের আগে বা পরের ব্যাপার নয়। আন্দোলন বলে-কয়ে হয় না। তিনি বলেন, বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার কাজ চলছে। তার চূড়ান্ত রূপরেখা সময়মতো জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে।
ঈদকে সামনে রেখে সব নেতা এখন এলাকামুখী হচ্ছেন। এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করছেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে ব্যস্ত রাখছেন। নানাভাবে গণসংযোগ করার চেষ্টা করছেন।