ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধান সংশোধন নয়, গণভোটের প্রক্রিয়ায় সংস্কার চায় জামায়াত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:০০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দেওয়া হবে না।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিএনপির উদ্যোগে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই ১১ দলীয় ঐক্য এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে।

তার ভাষ্য, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ না নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও এর বিরোধিতা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সংস্কারের পথ এড়িয়ে শুধু সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠনকে ১১ দলীয় ঐক্য ধারণাগতভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টি চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই আলোচনায় ছিল। ২৯ এপ্রিল সরকারদলীয় পক্ষ থেকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিরোধী দল থেকে সদস্য না দেওয়ায় ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে ১১ দলীয় ঐক্য সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে
তিনি বলেন, গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছিল। তার মতে, জনগণ শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়ে মত দেয়নি; বরং সংস্কার বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকেও অনুমোদন দিয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদের সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়েছে।
তার দাবি, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। একই সময়ে জামায়াত ও তাদের শরিক দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রস্তাব তাদের দেওয়া হয়নি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও জানিয়েছিলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া হয়নি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে একই প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদ বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে গঠিত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষমতার ভিত্তি জনগণের ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’ বা গাঠনিক ক্ষমতা।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংসদ সৃষ্টি করে, সংসদ সংবিধান সৃষ্টি করে না। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ। তাই জনগণ গণভোটের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়া অনুমোদন করে থাকলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, ১১ দলীয় ঐক্য সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
জোটের সমন্বয়ক ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জুনায়েদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

সংবিধান সংশোধন নয়, গণভোটের প্রক্রিয়ায় সংস্কার চায় জামায়াত

আপডেট সময় ০৪:০০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএমঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দেওয়া হবে না।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিএনপির উদ্যোগে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই ১১ দলীয় ঐক্য এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে।

তার ভাষ্য, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ না নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও এর বিরোধিতা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সংস্কারের পথ এড়িয়ে শুধু সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠনকে ১১ দলীয় ঐক্য ধারণাগতভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টি চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই আলোচনায় ছিল। ২৯ এপ্রিল সরকারদলীয় পক্ষ থেকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিরোধী দল থেকে সদস্য না দেওয়ায় ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে ১১ দলীয় ঐক্য সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে
তিনি বলেন, গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছিল। তার মতে, জনগণ শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়ে মত দেয়নি; বরং সংস্কার বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকেও অনুমোদন দিয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদের সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়েছে।
তার দাবি, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। একই সময়ে জামায়াত ও তাদের শরিক দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রস্তাব তাদের দেওয়া হয়নি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও জানিয়েছিলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া হয়নি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে একই প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদ বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে গঠিত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষমতার ভিত্তি জনগণের ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’ বা গাঠনিক ক্ষমতা।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংসদ সৃষ্টি করে, সংসদ সংবিধান সৃষ্টি করে না। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ। তাই জনগণ গণভোটের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়া অনুমোদন করে থাকলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, ১১ দলীয় ঐক্য সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
জোটের সমন্বয়ক ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জুনায়েদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।