ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় শিকলে বাঁধা বাবা-মেয়ের পাশে এসপি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ এপ্রিল ২০২২
  • ২৭৭ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে শিকলে বাঁধা মানসিক ভারসাম্যহীন বাবা মোহাম্মদ আলী (৫৫) ও মেয়ে রেহেনার (২১) পাশে দাঁড়িয়েছেন পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম। 

সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের উত্তর আনালেরতাড়ী গ্রামে তাদের বাড়িতে যান। সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে তিনি খাদ্য ও আর্থিক সহযোগিতা করেন এবং চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

এদিকে মোহাম্মদ আলীরও দিন দিন মানসিক ভারসাম্যহীনতা বেড়ে যায়। দীর্ঘ সাত বছর ধরে বাবা-মেয়ে দুজনেই পরিপূর্ণভাবে মানসিক ভারসাম্য হারায়। মোহাম্মদ আলী মাঝে মধ্যেই জিনিসপত্র ভাঙচুর এবং লোকজনকে মারধর করেন। মেয়ে রেহেনা মাঝে মাঝো হারিয়ে যায়। এসব কারণে তাদের শিকলে বেঁধে রাখা হয়। তাদের সামান্য যে জমি ছিল সেটি বিক্রি করে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করা হয়। তখন থেকেই মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম অতি কষ্টে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন।

পরে অসহায় পরিবারের বাবা-মেয়ের দীর্ঘদিনের শিকলবন্দি জীবন সম্পর্কে জানতে পারেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম। এরপরেই তাদের দেখতে ও খোঁজখবর নিতে ওই বাড়িতে যান এবং অসুস্থ বাবা-মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তিনি।

পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন একটি অসহায় পরিবারের বাবা-মেয়ের শিকলবন্দি জীবন সম্পর্কে জানতে পেরে তাদেরকে দেখতে যাই। সেখানে তাদেরকে কিছু নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা করি। পুলিশের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ খরচে পাবনা মানসিক হাসপাতালে বাবা-মেয়ের চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

গাইবান্ধায় শিকলে বাঁধা বাবা-মেয়ের পাশে এসপি

আপডেট সময় ০৯:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ এপ্রিল ২০২২

গাইবান্ধায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে শিকলে বাঁধা মানসিক ভারসাম্যহীন বাবা মোহাম্মদ আলী (৫৫) ও মেয়ে রেহেনার (২১) পাশে দাঁড়িয়েছেন পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম। 

সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের উত্তর আনালেরতাড়ী গ্রামে তাদের বাড়িতে যান। সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে তিনি খাদ্য ও আর্থিক সহযোগিতা করেন এবং চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

এদিকে মোহাম্মদ আলীরও দিন দিন মানসিক ভারসাম্যহীনতা বেড়ে যায়। দীর্ঘ সাত বছর ধরে বাবা-মেয়ে দুজনেই পরিপূর্ণভাবে মানসিক ভারসাম্য হারায়। মোহাম্মদ আলী মাঝে মধ্যেই জিনিসপত্র ভাঙচুর এবং লোকজনকে মারধর করেন। মেয়ে রেহেনা মাঝে মাঝো হারিয়ে যায়। এসব কারণে তাদের শিকলে বেঁধে রাখা হয়। তাদের সামান্য যে জমি ছিল সেটি বিক্রি করে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করা হয়। তখন থেকেই মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম অতি কষ্টে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন।

পরে অসহায় পরিবারের বাবা-মেয়ের দীর্ঘদিনের শিকলবন্দি জীবন সম্পর্কে জানতে পারেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম। এরপরেই তাদের দেখতে ও খোঁজখবর নিতে ওই বাড়িতে যান এবং অসুস্থ বাবা-মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তিনি।

পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন একটি অসহায় পরিবারের বাবা-মেয়ের শিকলবন্দি জীবন সম্পর্কে জানতে পেরে তাদেরকে দেখতে যাই। সেখানে তাদেরকে কিছু নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা করি। পুলিশের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ খরচে পাবনা মানসিক হাসপাতালে বাবা-মেয়ের চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে।