ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৭

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৩৫:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ ২০২২
  • ২০৭ বার পড়া হয়েছে

প্রতিদিনের মতো সোমবার (২৮ মার্চ) স্কুলে যায় রেবা ও তার সহপাঠীরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী স্কুলে শিক্ষা অফিসের দেওয়া আয়রন ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ানোর কথা ছিল। এ কারণে বাড়ি থেকে ছাত্রীদের খাবার খেয়ে আসতে বলা হয়েছিল। সবাই খাবার খেয়ে স্কুলে উপস্থিত হয়েছিল। রেবাও বাড়ি থেকে ডিম ও মিষ্টিকুমড়ার তরকারি দিয়ে খাবার খেয়ে এসেছিল।

সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো শুরু হয়। ট্যাবলেট খাওয়ানোর আধা ঘণ্টা পর রেবা বমি করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখান থেকে তাকে স্থানীয় গোপালপুর বাজারের ডাক্তার মিলনের কাছে নিয়ে গেলে, ডাক্তার তার অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত সদর হাসপতালে নিতে বলেন।

রেবা খাতুন সদর উপজেলার উত্তর সমশপুর গ্রামের সাগর হোসেনের মেয়ে এবং হাট গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী  বলেন, দেশব্যাপী কৈশোরকালীন পুষ্টি নিশ্চিত করতে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা আয়রন ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। ট্যাবলেট খাওয়ানোর আধা ঘন্টা পর হঠাৎ করে রেবা খাতুনসহ তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখান থেকে তাদের স্থানীয় ডাক্তার মিলনের কাছে, পরে সেখান থেকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রেবাকে মৃত ঘোষণা করে। অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের তিনশোর বেশি শিক্ষার্থীকে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রেবা বেশি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর আরও সাত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে তারা সদর হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আয়রন ট্যাবলেট খেলে শরীরে গ্যাস বৃদ্ধি পায়। যদি কোনো ব্যক্তি এই ট্যাবলেট খায়, তার যদি কোনো ইফেক্ট হয়, তাহলে তার গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। সর্বোচ্চ পাতলা পায়খানা হতে পারে। এই ট্যাবলেট খেয়ে কেউ মারা গেছে এমন কোনো রেকর্ড নেই।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. শুভ্রা রাণী দেবনাথ বলেন, আয়রন ট্যাবলেট থেকে মৃত্যুর কোনো নজির নেই। এমনকি ওষুধ যদি মেয়াদোত্তীর্ণও হয় তবুও সর্বোচ্চ পাতলা পায়খানা হতে পারে। তারপরও মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করার জন্য সদর হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ আনোয়ারুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৭

আপডেট সময় ১১:৩৫:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ ২০২২

প্রতিদিনের মতো সোমবার (২৮ মার্চ) স্কুলে যায় রেবা ও তার সহপাঠীরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী স্কুলে শিক্ষা অফিসের দেওয়া আয়রন ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ানোর কথা ছিল। এ কারণে বাড়ি থেকে ছাত্রীদের খাবার খেয়ে আসতে বলা হয়েছিল। সবাই খাবার খেয়ে স্কুলে উপস্থিত হয়েছিল। রেবাও বাড়ি থেকে ডিম ও মিষ্টিকুমড়ার তরকারি দিয়ে খাবার খেয়ে এসেছিল।

সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো শুরু হয়। ট্যাবলেট খাওয়ানোর আধা ঘণ্টা পর রেবা বমি করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখান থেকে তাকে স্থানীয় গোপালপুর বাজারের ডাক্তার মিলনের কাছে নিয়ে গেলে, ডাক্তার তার অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত সদর হাসপতালে নিতে বলেন।

রেবা খাতুন সদর উপজেলার উত্তর সমশপুর গ্রামের সাগর হোসেনের মেয়ে এবং হাট গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী  বলেন, দেশব্যাপী কৈশোরকালীন পুষ্টি নিশ্চিত করতে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা আয়রন ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। ট্যাবলেট খাওয়ানোর আধা ঘন্টা পর হঠাৎ করে রেবা খাতুনসহ তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখান থেকে তাদের স্থানীয় ডাক্তার মিলনের কাছে, পরে সেখান থেকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রেবাকে মৃত ঘোষণা করে। অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের তিনশোর বেশি শিক্ষার্থীকে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রেবা বেশি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর আরও সাত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে তারা সদর হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আয়রন ট্যাবলেট খেলে শরীরে গ্যাস বৃদ্ধি পায়। যদি কোনো ব্যক্তি এই ট্যাবলেট খায়, তার যদি কোনো ইফেক্ট হয়, তাহলে তার গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। সর্বোচ্চ পাতলা পায়খানা হতে পারে। এই ট্যাবলেট খেয়ে কেউ মারা গেছে এমন কোনো রেকর্ড নেই।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. শুভ্রা রাণী দেবনাথ বলেন, আয়রন ট্যাবলেট থেকে মৃত্যুর কোনো নজির নেই। এমনকি ওষুধ যদি মেয়াদোত্তীর্ণও হয় তবুও সর্বোচ্চ পাতলা পায়খানা হতে পারে। তারপরও মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করার জন্য সদর হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ আনোয়ারুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।