ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পপগুরুর জন্মদিন: নেই কোনো আয়োজন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ২৪০ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান, যাকে সবাই আজম খান নামে চেনেন। দেশীয় পপ ও ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ ছিলেন এই পপগুরু।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আজম খানের জন্মদিন। ১৯৫০ সালের এই দিনে ঢাকার আজিমপুর কলোনির ১০ নম্বর সরকারি কোয়ার্টারে তার জন্ম।

স্বাধীনতা সংগ্রামের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবনে অনেক কীর্তি গড়ে গিয়েছেন। ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের সময়ে আজম খান পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ২১ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি প্রশিক্ষণ নিতে পায়ে হেঁটে আগরতলা চলে যান। সেকশন কমান্ডার হিসেবে আজম খান ঢাকা ও এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমণেও অংশ নেন।

আজম খানের বাবা আফতাবউদ্দিন আহমেদ ও মা জোবেদা খাতুন। তার বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী ও মা সংগীতশিল্পী।

১৯৭০ সালে ঢাকার টিঅ্যান্ডটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন আজম খান। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর তার লেখাপড়া এগোয়নি তার।

মুক্তিযুদ্ধের পর ‘উচ্চারণ’ নামের একটি ব্যান্ডদলের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেন আজম খান। একসময় অংশ নেন বিটিভির এক অনুষ্ঠানে।

১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘রেললাইনের ঐ বস্তিতে’ শিরোনামের গান গেয়ে হইচই ফেলে দেন তিনি। তার পাড়ার বন্ধু ছিলেন ফিরোজ সাঁই। পরবর্তীকালে তারই মাধ্যমে আজম খান পরিচিত হন ফকির আলমগীর, ফেরদৌস ওয়াহিদ, পিলু মমতাজদের সঙ্গে। একসঙ্গে বেশ কিছু জনপ্রিয় গান করেন তারা।

আজম খানের প্রথম অ্যালবাম ‘এক যুগ’ অডিও ক্যাসেট আকারে প্রকাশ পায় ১৯৮২ সালে। সব মিলিয়ে তার অডিও ক্যাসেট ও সিডির সংখ্যা ছিল ১৭টি। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে বাংলাদেশ, আলাল ও দুলাল, ওরে সালেকা ওরে মালেকা, অভিমানী, আমি যারে চাইরে, হাইকোর্টের মাজারে, এত সুন্দর দুনিয়ায় অন্যতম।

কিংবদন্তি এই শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে তেমন কোনো আয়োজনের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে পপগুরুর তার অনেক ভক্ত স্মরণ করে সম্মান জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

পপগুরুর জন্মদিন: নেই কোনো আয়োজন

আপডেট সময় ১২:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান, যাকে সবাই আজম খান নামে চেনেন। দেশীয় পপ ও ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ ছিলেন এই পপগুরু।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আজম খানের জন্মদিন। ১৯৫০ সালের এই দিনে ঢাকার আজিমপুর কলোনির ১০ নম্বর সরকারি কোয়ার্টারে তার জন্ম।

স্বাধীনতা সংগ্রামের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবনে অনেক কীর্তি গড়ে গিয়েছেন। ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের সময়ে আজম খান পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ২১ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি প্রশিক্ষণ নিতে পায়ে হেঁটে আগরতলা চলে যান। সেকশন কমান্ডার হিসেবে আজম খান ঢাকা ও এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমণেও অংশ নেন।

আজম খানের বাবা আফতাবউদ্দিন আহমেদ ও মা জোবেদা খাতুন। তার বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী ও মা সংগীতশিল্পী।

১৯৭০ সালে ঢাকার টিঅ্যান্ডটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন আজম খান। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর তার লেখাপড়া এগোয়নি তার।

মুক্তিযুদ্ধের পর ‘উচ্চারণ’ নামের একটি ব্যান্ডদলের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেন আজম খান। একসময় অংশ নেন বিটিভির এক অনুষ্ঠানে।

১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘রেললাইনের ঐ বস্তিতে’ শিরোনামের গান গেয়ে হইচই ফেলে দেন তিনি। তার পাড়ার বন্ধু ছিলেন ফিরোজ সাঁই। পরবর্তীকালে তারই মাধ্যমে আজম খান পরিচিত হন ফকির আলমগীর, ফেরদৌস ওয়াহিদ, পিলু মমতাজদের সঙ্গে। একসঙ্গে বেশ কিছু জনপ্রিয় গান করেন তারা।

আজম খানের প্রথম অ্যালবাম ‘এক যুগ’ অডিও ক্যাসেট আকারে প্রকাশ পায় ১৯৮২ সালে। সব মিলিয়ে তার অডিও ক্যাসেট ও সিডির সংখ্যা ছিল ১৭টি। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে বাংলাদেশ, আলাল ও দুলাল, ওরে সালেকা ওরে মালেকা, অভিমানী, আমি যারে চাইরে, হাইকোর্টের মাজারে, এত সুন্দর দুনিয়ায় অন্যতম।

কিংবদন্তি এই শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে তেমন কোনো আয়োজনের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে পপগুরুর তার অনেক ভক্ত স্মরণ করে সম্মান জানিয়েছেন।