ঢাকা ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনার মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়াতে স্বামী আত্বগোপন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:০৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুন ২০২১
  • ৫৯৮ বার পড়া হয়েছে

সোনারগাঁয়ে মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনার মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়াতে স্বামী আত্বগোপন

মোঃ আলমঃ

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী স্ত্রীকে মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়াতে মাদক ব্যবসায়ী কল্পনা ও পরকিয়া প্রেমিকার জুলুুম অত্যাচার ও স্বামীকে খুন করার এবং মিথ্যা নারী নির্যাতন ও অবৈধ মাদক দ্রব্য মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেয়ার ঘটনার ব্যাপারে স্ত্রী ও পরকিয়া প্রেমিকার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভুক্তভোগী মোঃ জাকির (৫০) বাদী হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে জানা গেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামের মৃত মোঃ ফজলুর রহমান প্রধানের ছেলে মোঃ জাকির হোসেন। বিগত বিশ বছর পূর্বে একই গ্রামের মৃত আলী হোসেনের মেয়ে কল্পনা আক্তার (৩৫) কে বিয়ে করে ঘর-সংসার করে আসছিল। বর্তমানে তাদের সংসারে দুই ছেলে এক মেয়ে রয়েছে এবং অভিযোগকারী একটি মামলায় কারাগারে থাকাকালীন তাহার স্ত্রী সোনারগাঁ উপজেলার ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামের সাইদুর রহমান ওরফে সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মোঃ রকিব ওরফে রকির সাথে পরকিয়া প্রেমে লিপ্ত হন। এলাকায় অবৈধ মাদক ব্যবসায় তারা উভয়ে জড়িয়ে পড়ে। ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামে ও তার আশপাশ এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবা ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে। যার কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং আইন শৃংখলার চরম অবনতি ঘটচ্ছে।
অভিযোগকারী বিভিন্ন সময়ে তার স্ত্রীকে অবৈধ মাদক ব্যবসা না করার ব্যাপারে বাঁধা দেয়। বাঁধা দেয়াতে স্ত্রী কল্পনা ও তার পরকিয়া প্রেমিকা রকিব ওরফে রকি এবং তাদের অন্যান্য সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগকারী জাকিরের উপর জুলুম, অত্যাচার ও শারীরিক নির্যাতন করেন। তাকে খুন করে তার লাশ গুম করে ফেলার ও আদালতে এবং থানায় মিথ্যা নারী নির্যাতন, অবৈধ মাদকদ্রব্য মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেয়াতে সে ভয়ে এলাকা ছেড়ে আত্বগোপন করে রয়েছে। এই সুযোগে তারা তার পৈতৃক ভিটেবাড়ি দখল করে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
উক্ত ঘটনার ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি সাংবাদিক দল সোনারগাঁ উপজেলার ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে এলাকাবাসীরা জানায়, তিন সন্তানের জননী কল্পনা ও তার পরকিয়া প্রেমিক রকি ও তাদের অন্যান্য সহযোগীরা এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেনসিডিল, গাজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে। এলাকায় কল্পনা আক্তার মাদক সম্রাজ্ঞী নামে পরিচিত।

এলাকাবাসীরা আরো জানায়, মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনা তার ছেলের বয়সী রকিবের সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে তারা জাকিরকে খুন করার হুমকি দেয়। তাদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে আত্বগোপন করে রয়েছে এবং এ সুযোগে মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনা ও রকিব তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জাকিরের ভিটেবাড়িতে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে। তাদেরকে এলাকার কেউ বাঁধা দিতে গেলে তার উপর চালানো হয় জুলুম, অত্যাচার ও শারীরিক নির্যাতন। তাদের এসব অপকর্মের সহযোগীতা করে থাকেন এলাকার একটি প্রভাবশালী কু-চক্রী মহলের কয়েকজন লোক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানা এলাকা থেকে মো রকিব ওরফে রকিকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যায় এবং আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে পুনরায় সে মাদক ব্যবসা করে আসছে। রকি ও মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনার সাথে দেশের বিভিন্ন এলাকার অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক রয়েছে।
উক্ত ঘটনার ব্যাপারে ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামের গন্যমান্য ও এলাকাবাসীর উপস্থিতে কল্পনা আক্তারের সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে সে প্রতিবেদককে জানায় সে কিছু দিনপূর্বে অবৈধ মাদকদ্রব্য ব্যবসা করেছে, এখন সে মাদক ব্যবসা করেন না।
সে জানায় গত বছরের ২৫শে ফেব্রুয়ারী সে তার স্বামী জাকিরকে তালাক দেয় এবং গত বছরের জুন মাসের ২ তারিখে রকিকে বিয়ে করে ঘর-সংসর করে আসছে।
সে আরো জানায় ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামের অনেক বাড়িতে অবৈধভাবে অনেকে ঘর-সংসার করে আসছে। তবে কল্পনা তার স্বামী জাকিরকে তালাক দেয়া ও রকিকে বিয়ে করার বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। একপর্যায়ে কল্পনা আক্তার প্রতিবেদককে জানায় সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন উক্ত ঘটনার ব্যাপারে কয়েকবার বিচার-শালিসী করেছে।
উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাষ্য নেয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে জানা গেছে সে অসুস্থ থাকাতে তার ভাষ্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উক্ত ঘটনাসহ মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনা ও রকিব এবং তাদের অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্ম ও অপরাধমূলক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

সোনারগাঁয়ে মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনার মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়াতে স্বামী আত্বগোপন

আপডেট সময় ০২:০৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুন ২০২১

মোঃ আলমঃ

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী স্ত্রীকে মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়াতে মাদক ব্যবসায়ী কল্পনা ও পরকিয়া প্রেমিকার জুলুুম অত্যাচার ও স্বামীকে খুন করার এবং মিথ্যা নারী নির্যাতন ও অবৈধ মাদক দ্রব্য মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেয়ার ঘটনার ব্যাপারে স্ত্রী ও পরকিয়া প্রেমিকার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভুক্তভোগী মোঃ জাকির (৫০) বাদী হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে জানা গেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামের মৃত মোঃ ফজলুর রহমান প্রধানের ছেলে মোঃ জাকির হোসেন। বিগত বিশ বছর পূর্বে একই গ্রামের মৃত আলী হোসেনের মেয়ে কল্পনা আক্তার (৩৫) কে বিয়ে করে ঘর-সংসার করে আসছিল। বর্তমানে তাদের সংসারে দুই ছেলে এক মেয়ে রয়েছে এবং অভিযোগকারী একটি মামলায় কারাগারে থাকাকালীন তাহার স্ত্রী সোনারগাঁ উপজেলার ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামের সাইদুর রহমান ওরফে সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মোঃ রকিব ওরফে রকির সাথে পরকিয়া প্রেমে লিপ্ত হন। এলাকায় অবৈধ মাদক ব্যবসায় তারা উভয়ে জড়িয়ে পড়ে। ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামে ও তার আশপাশ এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবা ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে। যার কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং আইন শৃংখলার চরম অবনতি ঘটচ্ছে।
অভিযোগকারী বিভিন্ন সময়ে তার স্ত্রীকে অবৈধ মাদক ব্যবসা না করার ব্যাপারে বাঁধা দেয়। বাঁধা দেয়াতে স্ত্রী কল্পনা ও তার পরকিয়া প্রেমিকা রকিব ওরফে রকি এবং তাদের অন্যান্য সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগকারী জাকিরের উপর জুলুম, অত্যাচার ও শারীরিক নির্যাতন করেন। তাকে খুন করে তার লাশ গুম করে ফেলার ও আদালতে এবং থানায় মিথ্যা নারী নির্যাতন, অবৈধ মাদকদ্রব্য মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেয়াতে সে ভয়ে এলাকা ছেড়ে আত্বগোপন করে রয়েছে। এই সুযোগে তারা তার পৈতৃক ভিটেবাড়ি দখল করে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
উক্ত ঘটনার ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি সাংবাদিক দল সোনারগাঁ উপজেলার ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে এলাকাবাসীরা জানায়, তিন সন্তানের জননী কল্পনা ও তার পরকিয়া প্রেমিক রকি ও তাদের অন্যান্য সহযোগীরা এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেনসিডিল, গাজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে। এলাকায় কল্পনা আক্তার মাদক সম্রাজ্ঞী নামে পরিচিত।

এলাকাবাসীরা আরো জানায়, মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনা তার ছেলের বয়সী রকিবের সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে তারা জাকিরকে খুন করার হুমকি দেয়। তাদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে আত্বগোপন করে রয়েছে এবং এ সুযোগে মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনা ও রকিব তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জাকিরের ভিটেবাড়িতে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে। তাদেরকে এলাকার কেউ বাঁধা দিতে গেলে তার উপর চালানো হয় জুলুম, অত্যাচার ও শারীরিক নির্যাতন। তাদের এসব অপকর্মের সহযোগীতা করে থাকেন এলাকার একটি প্রভাবশালী কু-চক্রী মহলের কয়েকজন লোক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানা এলাকা থেকে মো রকিব ওরফে রকিকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যায় এবং আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে পুনরায় সে মাদক ব্যবসা করে আসছে। রকি ও মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনার সাথে দেশের বিভিন্ন এলাকার অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক রয়েছে।
উক্ত ঘটনার ব্যাপারে ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামের গন্যমান্য ও এলাকাবাসীর উপস্থিতে কল্পনা আক্তারের সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে সে প্রতিবেদককে জানায় সে কিছু দিনপূর্বে অবৈধ মাদকদ্রব্য ব্যবসা করেছে, এখন সে মাদক ব্যবসা করেন না।
সে জানায় গত বছরের ২৫শে ফেব্রুয়ারী সে তার স্বামী জাকিরকে তালাক দেয় এবং গত বছরের জুন মাসের ২ তারিখে রকিকে বিয়ে করে ঘর-সংসর করে আসছে।
সে আরো জানায় ফুলবাড়িয়া মিঠাপুর গ্রামের অনেক বাড়িতে অবৈধভাবে অনেকে ঘর-সংসার করে আসছে। তবে কল্পনা তার স্বামী জাকিরকে তালাক দেয়া ও রকিকে বিয়ে করার বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। একপর্যায়ে কল্পনা আক্তার প্রতিবেদককে জানায় সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন উক্ত ঘটনার ব্যাপারে কয়েকবার বিচার-শালিসী করেছে।
উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাষ্য নেয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে জানা গেছে সে অসুস্থ থাকাতে তার ভাষ্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উক্ত ঘটনাসহ মাদক সম্রাজ্ঞী কল্পনা ও রকিব এবং তাদের অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্ম ও অপরাধমূলক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হবে।