নারী ব্যবসায় লাভবান হতে ধর্ষকদের দোয়া ও মিলাদের আয়োজন
মেঃ আলমগীরঃ
যাত্রাবাড়ি থানাধীন সায়েদাবাদ জনপদমোড়ে জাকির টাওয়ারে ‘রোজ ভিউ’ নামে একটি আবাসিক হোটেলের নামে একাধিক মামলা হয়েছে। মামলা গুলোর মধ্যে রয়েছে হত্যা মামলা, মানব পাচার মামলা, একাধিক ধর্ষণ মামলা। ‘রোজ ভিউ’ আবাসিক হোটেলে নারীদের বিভিন্ন কায়দায় ফোসলিয়ে হোটেলে এনে দালালরা প্রথমে নিজেরা গণধর্ষণ করত পরে তুলে দিত খদ্দেরের হাতে। এমন লোক হর্ষক ঘটনায় ভুক্তভোগী এক কিশোরী একাধিক মামলা দায়ের করেছে যাত্রাবাড়ি থানায়।
ঐ নারী সর্বশেষ অভিযোগে জানায়,আমি দশম শ্রেণির ছাত্রী। সংসারে অভাব অনটন হওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকুরীর সন্ধান করিতেছিলাম। এমতাবস্থায় দুষ্কৃতিকারী একটি চক্রের খপ্পরে পরে বিবাদীরা আমাকে ধর্ষণ করায়
উক্ত বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় আমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি। আমার দায়ের কৃত যাত্রাবাড়ি থানার মামলা নং-৬৫, তারিখ-২৪/১০/২০২৫ইং, বাৎসরিক নং-৯৭১, আইনের ধারা-৯(৩) ৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ইং।
বিবাদীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে না নেওয়ায় ২০/০৩/২০২৬ইং তারিখ আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করায় যাত্রাবাড়ি থানায় দ্বিতীয় মামলা দায়ের করি। মামলা নং-৭১, তারিখ-২০/০৩/২০২৬ইং।
বিবাদীদের বিরুদ্ধে মামলা দুটি দায়ের হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ১২/০৬/২০২৬ইং তারিখ আমাকে মারধর করে অপহরণের চেষ্টা করায়, যাত্রাবাড়ি থানায় তৃতীয় মামলা দায়ের করি যাহার মামলা নং-৫৫, তারিখ-১২/০৬/২০২৬ইং, বাৎসরিক নং-৬০১, ধারা-৩৪১/৩২৩/৩২৫/৪২৭/৫০৬/৩৪ প্যানাল কোর্ট ১৮৬০ মোতাবেক উক্ত মামলা নং-৫৫, তারিখ-১২/০৬/২০২৬ইং।
যাত্রাবাড়ি থানার ৬৫, ৭১, ৫৫ নং মামলার এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা বিবাদীগণরা গত ১৪/০৭/২০২৬ইং তারিখ আমি যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা গুলোর খোজ খবর নেওয়ার জন্য যাত্রাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে দেখা করে কথা বলার জন্যও বিবাদীদের হুমকির শিকার হয়ে সাধারণ ডায়েরী করার জন্য আনুমানিক সকাল ১০.৩০ ঘটিকার সময় আমি থানায় যাই। অফিসার ইনচার্জ সাহেবকে না পাওয়ায় আমার যাত্রাবাড়ি থানার ৫৫নং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মোঃ রাকিব হাসান, বিপি নং-৯২১৯২২২৭৪৪ এর সাথে কথা বলার জন্য যাত্রাবাড়ি থানার সম্মুখে হতে সায়েদাবাদ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এমতাবস্থায় যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তার মোড়ে গোলচত্ত্বরের উত্তর পাশ দিয়ে রিক্সা যোগে আমি যাওয়ার সময় বিবাদীরা আমার গতি রোধ করিয়া রাস্তার উপর আমার রিক্সা দাঁড় করায়। বিবাদীগণরা রিক্সার চারপাশ ঘিরে ফেলে ৩নং বিবাদী অন্যান্য বিবাদীদের বলে যে শালী এখন তরি মামলাগুলো তুলে নেয় নাই ওর ঘাড় থেকে মাথাটা আলাদা করে ফেল। ঐ মুহুর্তে ১ নং বিবাদী তাদের কোমর থেকে একটি ধারালো গিয়ার ছুরা বের করে আমার গলায় ঠেকিয়ে ধরে আমাকে হত্যা করার ভয় দেখায়। ২ নং বিবাদী তার পকেট থেকে একটি ধারালো খুড় বের করে আমার বুকের স্পর্শ কাতর জায়গায় হাতাহাতি করে ও খুর ধরে ৩নং বিবাদী আমার পরিহিত দুই কানে থাকা ঝুলন্ত ৬ আনা ওজনের দুটি দুল পৃথক ভাবে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছিনিয়ে নেওয়ার কারণে আমার ডান কান রক্তাক্ত জখম হয়। এমতাবস্থায় আমি ডাকচিৎকার দিতে নিলে তারা বিবাদীরা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বলে, ডাক চিৎকার করলে একবারে জানে মেরে ফেলব। এমতাবস্থায় রিক্সা চালককেও খুর ও ধারালো ছোড়া দিয়া আঘাত করার ভয় দেখায় তখন রিক্সা চালক নুরুল ইসলাম চুপচাপ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে, ১নং বিবাদী ছুরা দিয়ে আমার গলায় আঘাত করে এবং তারা আমাকে কিল ঘুষি চর থাপ্পর মেরে আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নিলা ফুলা জখম করে আমাকে মামলা তুলিয়া নেওয়ার জন্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন করিয়া বিবাদীরা আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শ কাতর জায়গায় হাতাহাতি করে এবং তারা আমাকে নানা ধরনের ভয়-ভীতি ও হত্যা করার হুমকি দিয়া বিবাদীরা মুহুর্তের মধ্যে পালিয়ে যায়।
আমি ১৪/০৭/২০২৬ইং তারিখ যাত্রাবাড়ি থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরী করার জন্য যাত্রাবাড়ি থানার ডিউটি অফিসার, এসআই বিবাদী পারভীনের কাছে দিলে পারভীন আমার সাধারণ ডায়েরী গ্রহণ করতে অনিহা প্রকাশ করে বলে, সাধারণ ডায়েরী নেওয়া যাবে না। এমতাবস্থায় আমি হতম্ভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। এসআই পারভীন বলে, ২০০০ টাকা চাঁদা (ঘুষ) দিলে সাধারণ ডায়েরী গ্রহণ করা যাবে। নয়ত সাধারণ ডায়েরী গ্রহণ করা হবে না। আপনার ডায়েরী নিতে গেলে আমাদের অনেক পরিশ্রম হবে। এমতাবস্থায় আমি এস আই পারভীনকে অনেক অনুরোধ জানাই তাতে ও তাকে ২০০০ টাকা না দিতে পারায় আমার ডায়েরীটি গ্রহণ করে নাই। তখন আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মোঃ রাকিব হাসান, বিপি নং-৯২১৯২২২৭৪৪ এর সাথে দেখা করার জন্য থানা থেকে বের হয়ে তার সন্ধানে যাত্রাবাড়ি ফাঁড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে হঠাৎ পথের মধ্যে আমার ৫৫ নং মামলার ৫নং ও ১নং আসামী মোঃ ইমরান পুনরায় অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন লোক নিয়ে আমার চারদিক ঘিরে ফেলে বলে মামলা না তুলে নিয়ে আবারো আমাদের নামে জিডি করতে থানায় গেছিস এস আই পারভীন আপা আমাদের সব বলেছে। এক পর্যায়ে ইমরানের সাথে আসা এরিন ও অজ্ঞাতনামা ২ ব্যক্তি ইমরানের হুকুমে ১ জনে গলায় চাকু ঠেকায় আরেক জনে আমার কোমরে চাকু ঠেকায় এরপর বিবাদীরা বলে, আমি যদি ডাক চিৎকার দেই তাহলে আমাকে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হবে এই বলে, এরিন আমার দুই কানে থাকা স্বর্ণের ৬ আনার দুটি দুল কানের থেকে টেনে খুলে নেয় তখন আমি জোরাজোরি করলে চাকুর বার দিয়ে আমার গলার ভিতরে আঘাত করে। এবং তারা সবাই মিলে আমাকে মারধর করে কানের দুল নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে বলে মামলা তুলে না নিলে পরবর্তীতে আমাকে থানার আশেপাশে পেলে অপহরণ করে তুলে নিয়া হত্যা করিয়া লাশ গুম করিয়া ফালাইবে। আমাকে মারধরে ফলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিটফোর্ট এ গিয়ে ইমাজেন্সি বিভাগে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করি।
‘ক্রাইম নিউজ মিডিয়া’র প্রতিবেদক কে ভুক্তভোগী ছদ্দ নাম ঝর্ণা জানান, আমার একাধিক মামলার আসামীরা বারবার মামলা তুলিয়া নেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে ঘুরে ফিরে আমাকে হুমকি দিচ্ছে আর একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে আর আমাকে হত্যার চেষ্টাও করছে। এ সকল বিষয় নিয়ে আমি যাত্রাবাড়ি থানায গিয়ে অভিযোগ জানাইলে পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামী শান্তগংদের গ্রেফতার না করে উল্টো তাদের নারী ব্যবসার হোটেলগুলোতে আমার মতো ভুক্তভোগী অনেক নারী রয়েছে যাদের ঐ রোজ ভিউ আবাসিক হোটেলে বিভিন্ন কৌশলে এনে তাদের আমার মতো সর্বনাশ করছে। যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশের কাছে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ দিয়েও কোন ন্যায় বিচার পায় না। যেমন আমি ও ন্যায় বিচার পাচ্ছি না। আমার ধর্ষণ মামলা হওয়ার পর যাত্রাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিঘরি করে মামলা টি ডিবিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ডিবির কর্মকর্তারা মামলার আসামী গ্রেফতার করে না। ধর্ষণ মামলা ছাড়া ও আরো দুটি মামলা যাত্রাবাড়ি থানায় থাকলে ও আসামীদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেই এতে পুলিশ আসামী গ্রেফতার করে না উল্টো আসামীদের আবাসিক হোটেলগুলোতে তাদের নারী ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতে দিতে পুলিশ গোপনে সহযোগিতা করে। রোজ ভিউ আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ায় শান্তগংরা রোজ ভিউ নাম পাল্টিয়ে বর্তমানে নিউ স্বাগতম আবাসিক হোটেল নাম দিয়েছে। মালিক পরিবর্তন হয়েছে বুঝাইতে হোল্ডিং মালিক আমার মামলার ১নং আসামী জাকির মিয়া শান্তদের দিয়ে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। মিলাদ মাহফিল শেষে সাবেক রোজ ভিউ বর্তমান নিউ স্বাগতম আবাসিক হোটেলে ৮-১০টি মেয়ে রেখে হোটেলে দেহ ব্যবসা করাচ্ছে ঐ সকল মেয়েদের বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে প্রেম, বিয়ে, চাকুরী দেওয়ার প্রলোভনে সংগ্রহ করিয়া এনে আমার মতো আটক করে জোর পূর্বক তাদের গণধর্ষন করে এরপর মনোরঞ্জনের জন্য খদ্দেরের হাতে তুলে দেয়। কেউ সেখান থেকে পালাইতে চাইলে তাদের দিয়ে করানো গণধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। এ বিষয়ে আমি যাত্রাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ সহ পুলিশকে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছি ও আমার মামলার আসামী গ্রেফতার করতে বলেছি। উল্টো আমাকেই পুলিশ শাসায় এমতাবস্তায় সর্বশেষ যাত্রাবাড়ি মোড়ে আমাকে একা পেয়ে আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয় ভীতি দেখায় এবং আমার কানে পরিহিত স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি অদ্য পর্যন্ত মামলা হয়েছে কিনা পুলিশ আমাকে জানায় নি। উল্টো দিকে আসামী শান্তগংরা গোপনের পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে সাবেক রোজ ভিউ বর্তমান নিউ স্বাগতম আবাসিক হোটেলে ধুমচে পরিচালনা করছে নারী ও ইয়াবা ফেনসিডিল সহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের ব্যবসা। আমি ন্যায় বিচার চাই। আমার মামলার আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি।
Reporter Name 






















