ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর শিবিরে হুতিদের হামলা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:২৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ৫৩ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি নিয়োগপ্রত্যাশী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তারা হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হামলার দায়ও স্বীকার করেছে হুতিরা।

শাবওয়া প্রাদেশিক সরকার জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৫৩। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য সামরিক শিবিরটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

প্রাদেশিক সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির পর্যায়ে থাকা নতুন নিয়োগপ্রত্যাশীদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ঘটনাটিকে শাবওয়া প্রদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর সামরিক উত্তেজনা এবং প্রকাশ্য আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
একজন ইয়েমেনি সামরিক কর্মকর্তা জানান, প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগপ্রত্যাশীরা যখন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শিবিরে আঘাত হানে। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। গত গ্রীষ্মে লড়াই পুনরায় তীব্র হওয়ার পর এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনের সংঘাতও নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংঘাতের এই বিস্তার ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যত ভেঙে দিয়েছে। ওই চুক্তির ফলে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের লড়াই অনেকটাই থেমে গিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা তাদের সামরিক সক্ষমতারও প্রদর্শন করেছে। তারা সৌদি আরবের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বারবার হামলা চালিয়েছে এবং ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এবং লেবানন ও ইরাকে তাদের মিত্ররা হুতিদের সামরিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি দক্ষতা ও উন্নত অস্ত্র সরবরাহে সহায়তা করে। তবে ইরান হুতিদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে। এমন অস্ত্র সরবরাহ জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি এ হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত হুতিরা চাপের মুখে পড়লে কিংবা তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে এ ধরনের হামলার আশ্রয় নেয়।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সৌদি কর্মকর্তারা পরিচালনা করেন এমন একটি শিবিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকজন সৌদি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি ওই মুখপাত্র। সৌদি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর শিবিরে হুতিদের হামলা

আপডেট সময় ১২:২৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ৫৩ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি নিয়োগপ্রত্যাশী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তারা হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হামলার দায়ও স্বীকার করেছে হুতিরা।

শাবওয়া প্রাদেশিক সরকার জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৫৩। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য সামরিক শিবিরটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

প্রাদেশিক সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির পর্যায়ে থাকা নতুন নিয়োগপ্রত্যাশীদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ঘটনাটিকে শাবওয়া প্রদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর সামরিক উত্তেজনা এবং প্রকাশ্য আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
একজন ইয়েমেনি সামরিক কর্মকর্তা জানান, প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগপ্রত্যাশীরা যখন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শিবিরে আঘাত হানে। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। গত গ্রীষ্মে লড়াই পুনরায় তীব্র হওয়ার পর এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনের সংঘাতও নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংঘাতের এই বিস্তার ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যত ভেঙে দিয়েছে। ওই চুক্তির ফলে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের লড়াই অনেকটাই থেমে গিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা তাদের সামরিক সক্ষমতারও প্রদর্শন করেছে। তারা সৌদি আরবের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বারবার হামলা চালিয়েছে এবং ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এবং লেবানন ও ইরাকে তাদের মিত্ররা হুতিদের সামরিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি দক্ষতা ও উন্নত অস্ত্র সরবরাহে সহায়তা করে। তবে ইরান হুতিদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে। এমন অস্ত্র সরবরাহ জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি এ হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত হুতিরা চাপের মুখে পড়লে কিংবা তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে এ ধরনের হামলার আশ্রয় নেয়।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সৌদি কর্মকর্তারা পরিচালনা করেন এমন একটি শিবিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকজন সৌদি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি ওই মুখপাত্র। সৌদি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।