ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে বিএনপি নেতাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

পটুয়াখালীর বাউফল প্রেসক্লাবের সামনে ব্যবসায়ী মো. ফরিদ তালুকদার, তার স্ত্রী ও ছেলের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপির নেতা মাসুম বিল্লাহ ওরফে পলাশসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ফরিদ তালুকদারের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার বাদী হয়ে বাউফল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পলাশকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাউফল প্রেসক্লাবের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। হামলায় ব্যবসায়ী ফরিদ তালুকদার (৫২), তার স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৪৫) ও ছেলে মো. আলিফ তালুকদার (২৩) আহত হন।

ফরিদ তালুকদার এএফ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শিল্পপতি প্রকৌশলী এ কে এম ফারুক আহমেদ তালুকদারের ছোট ভাই।

স্থানীয় সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজের প্রার্থিতা জানান দিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বাউফল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ফরিদ তালুকদার। মতবিনিময় সভাটি সাংবাদিকরা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেন।

ফরিদ তালুকদারের অভিযোগ, ওই ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে নাজিরপুর ইউপি নির্বাচনের অপর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পলাশের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়।

ফরিদ তালুকদার বলেছেন, ‘মতবিনিময় সভা শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিবারসহ প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় মাসুম বিল্লাহ ও ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কিলঘুষি মারে। পরে সাংবাদিকদের সহায়তায় আমরা প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নিই। পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাসুম বিল্লাহ পলাশ। তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। বরং আমার ওপর ফরিদ তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর তালুকদার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহদপ্তর সম্পাদক সফল মাস্টারের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ ঘটনায় ফরিদ তালুকদারের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

বাউফলে বিএনপি নেতাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৪:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

সিএনএমঃ

পটুয়াখালীর বাউফল প্রেসক্লাবের সামনে ব্যবসায়ী মো. ফরিদ তালুকদার, তার স্ত্রী ও ছেলের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপির নেতা মাসুম বিল্লাহ ওরফে পলাশসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ফরিদ তালুকদারের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার বাদী হয়ে বাউফল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পলাশকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাউফল প্রেসক্লাবের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। হামলায় ব্যবসায়ী ফরিদ তালুকদার (৫২), তার স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৪৫) ও ছেলে মো. আলিফ তালুকদার (২৩) আহত হন।

ফরিদ তালুকদার এএফ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শিল্পপতি প্রকৌশলী এ কে এম ফারুক আহমেদ তালুকদারের ছোট ভাই।

স্থানীয় সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজের প্রার্থিতা জানান দিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বাউফল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ফরিদ তালুকদার। মতবিনিময় সভাটি সাংবাদিকরা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেন।

ফরিদ তালুকদারের অভিযোগ, ওই ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে নাজিরপুর ইউপি নির্বাচনের অপর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পলাশের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়।

ফরিদ তালুকদার বলেছেন, ‘মতবিনিময় সভা শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিবারসহ প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় মাসুম বিল্লাহ ও ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কিলঘুষি মারে। পরে সাংবাদিকদের সহায়তায় আমরা প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নিই। পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাসুম বিল্লাহ পলাশ। তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। বরং আমার ওপর ফরিদ তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর তালুকদার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহদপ্তর সম্পাদক সফল মাস্টারের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ ঘটনায় ফরিদ তালুকদারের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’