ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়মিত সেক্সের পাঁচ সুবিধা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • ৩৩২ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

সারাদিনের ব্যস্ততার পর কিছুক্ষণের একান্ত সময় বের করে পরস্পরের ঘনিষ্ঠ হওয়া। আদরের চরমতম মুহূর্তে নিবিড় করে চিনে নেওয়া পরস্পরকে। শারীরিক ঘনিষ্ঠতার তুঙ্গ মুহূর্তে বুঝে নেওয়া পরস্পরের মনের গোপনতম খবরটাও। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে যৌনতা শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়! বরং যৌনতার কিছু সুবিধে রয়েছে যা স্বাস্থ্যের দিকটাও খেয়াল রাখে! গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব দম্পতি যৌনজীবনে সুখী এবং নিয়মিত যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হন, তাঁরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অন্যান্যদের চেয়ে বেশি সুস্থ থাকেন! সাধারণ বেশ কিছু রোগভোগও দূরে থাকে তাঁদের থেকে! অবাক হলেন? তা হলে পড়তে থাকুন!

দূরে থাক রোগভোগ
সর্দিকাশি, জ্বরজারি মাঝেমাঝেই ভোগায় আপনাকে? এ সব রোগ ঘন ঘন হওয়া মানে কিন্তু আপনার শরীরের ইমিউনিটি অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তেমন জোরালো নয়। জানেন কি, এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে তুলতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে নিয়মিত যৌন সম্পর্ক। গবেষকেরা জানাচ্ছেন সপ্তাহে একবার অথবা দু’বার যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন যাঁরা, তাঁদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। অ্যান্টিবডিই হল আমাদের শরীরের প্রথম প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সাধারণ রোগবহনকারী ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণুকে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধতে দেয় না অ্যান্টিবডি। তাই পরেরবার সর্দিকাশি হলে মুড়িমুড়কির মতো ভিটামিন সি আর রসুনের গুলি না খেেয় বরং বিছানায় ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত তৈরি করুন! যৌনজীবন রঙিন হয়ে উঠবে, জ্বরজারিও আর কাছে ঘেঁষতে পারবে না!

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে
ডাক্তারেরা বলেন, দিনে 20 মিনিট হাঁটলে যে ফল হয়, এক একটা সেক্স সেশন থেকেও সেই একই ফল পাওয়া যায়। কার্ডিও এক্সারসাইজ় করার সময় শারীরিক পরিশ্রম অনেক বেশি হয়। সেক্সে ততটা পরিশ্রম মোটেও হয় না, কিন্তু পরীক্ষায় দেখা গেছে সেক্সের সময় অ্যাকটিভ পার্টনারের হৃদস্পন্দনের গতি মিনিটে 120 বিট পর্যন্ত বেড়ে যায়। যে কোনও হালকা ব্যায়ামের সময়ও হৃদস্পন্দনের গতি এরকমই থাকে। কাজেই সেক্সকে আমরা হালকা ব্যায়ামের সঙ্গে তুলনা করতেই পারি, আর ব্যায়ামের যা যা সুফল সব কিছুই আপনাকে দিতে পারে শারীিরক ঘনিষ্ঠতা। বাড়তি পাওনা মানসিক তৃপ্তি! কী ভাবছেন, এর পরেও মোটিভেশন দরকার আপনার?

ঝলমলে ত্বকের চাবিকাঠি
নিয়মিত যৌন সম্পর্কে যাঁরা লিপ্ত হন, তাঁদের ত্বক অনেক বেশি ঝলমলে, তারুণ্যে ভরপুর হয়। শারীরিক ঘনিষ্ঠতা শরীরের রক্ত সংবহন বাড়িয়ে তোলে, ফলে ত্বকে অক্সিজেন পৌঁছোয় বেশি। এর ফলে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে টক্সিনও বেরিয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ত্বক অনেক বেশি ঝকঝকে, জেল্লাদার দেখায়। শুধু তাই নয়, বয়সের কাঁটা উলটোদিকে ঘোরাতেও অব্যর্থ হাতিয়ার সেক্স। কারণ নিয়মিত যৌনতা ত্বকে কোলাজেন তৈরির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে দূরে থাকে বয়সজনিত দাগছোপ, বলিরেখা বা ত্বকের শিথিলতা। যাঁরা নিয়মিত সেক্স করেন তাঁদের শরীরে ইস্ট্রোজেন আর টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণ বেশি হয়। ইস্ট্রোজেন ত্বকের টানটানভাব, উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে, অন্যদিকে পেশির সক্ষমতা, হাড়ের স্বাস্থ্যের দেখভাল করে টেস্টোস্টেরন, যার অবশ্যম্ভাবী ফলশ্রুতি তারুণ্যে ভরা ত্বক আর স্বাস্থ্যের দীপ্তিতে ঝলমলে, সুঠাম চেহারা। বয়স কম দেখাতে তো বাধ্য, তাই না?

ব্যথাযন্ত্রণা থেকে মুক্তি
খামোকা পেনকিলার খেয়ে শরীরের বারোটা বাজাবেন না, বরং ভরসা রাখুন আদরে। গবেষণা বলছে, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা, স্পর্শ, ফোরপ্লে এবং ইন্টারকোর্সের মাধ্যমে শরীরে যে সব কেমিক্যাল তৈরি হয়, তা ব্যথাযন্ত্রণার বোধকে দূরে রাখে। ঋতুস্রাবের আগে পেটের ক্র্যাম্প, মাইগ্রেন, ক্লাস্টার হেেডক, টেনশনজনিত মাথাব্যথার মতো একগুচ্ছ অসুস্থতা থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন খুব সহজেই। ইন্টারকোর্সের সময় অর্গ্যাজ়ম হলে শরীরে ডোপামাইন, সেরোটোনিন, এনডরফিনের মতো হরমোন ক্ষরিত হয়। এ সব হরমোন রক্তে মিশে ব্যথার বোধ কমিয়ে দেয় এবং আনন্দের বোধ জাগ্রত করে তোেল। এই কারণেই যৌন সম্পর্কের পর শরীর আর মন, দুইই ঝরঝরে লাগে।

গাঢ় ঘুমের সন্ধানে
মুঠো মুঠো ঘুমের বড়ি না খেয়ে পরেরবার ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটু শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে দেখুন তো! দেখবেন ঘুম আসবে সহজেই। সেক্সের পর রক্তে অক্সিটোসিনের মাত্রা বাড়ে আর কর্টিসলের পরিমাণ কমে যায়। অক্সিটোসিন হরমোনের প্রভাবে আপনার মনে সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। অন্যদিকে কর্টিসল হল স্ট্রেস হরমোন, তাই কর্টিসল কমে যাওয়ায় মন চাপমুক্ত, ফুরফুের হয়ে ওঠে, একটা সার্বিক ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়। শরীর আর মন, দুইই শান্ত হওয়ার কারণে ঘুম আসে তাড়াতাড়ি। তাই ঘুমের বড়িকে জীবন থেকে একেবারে বাদ দিয়ে দিন, বদলে উষ্ণতা নিয়ে আসুন বিছানায়। শরীর তো ভালো থাকবেই, পাশাপাশি আপনাদের মানসির ঘনিষ্ঠতাও বাড়বে, দাম্পত্যজীবন হয়ে উঠবে সুখী, আনন্দময়

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়মিত সেক্সের পাঁচ সুবিধা

আপডেট সময় ০৭:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

সিএনএম ডেস্কঃ

সারাদিনের ব্যস্ততার পর কিছুক্ষণের একান্ত সময় বের করে পরস্পরের ঘনিষ্ঠ হওয়া। আদরের চরমতম মুহূর্তে নিবিড় করে চিনে নেওয়া পরস্পরকে। শারীরিক ঘনিষ্ঠতার তুঙ্গ মুহূর্তে বুঝে নেওয়া পরস্পরের মনের গোপনতম খবরটাও। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে যৌনতা শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়! বরং যৌনতার কিছু সুবিধে রয়েছে যা স্বাস্থ্যের দিকটাও খেয়াল রাখে! গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব দম্পতি যৌনজীবনে সুখী এবং নিয়মিত যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হন, তাঁরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অন্যান্যদের চেয়ে বেশি সুস্থ থাকেন! সাধারণ বেশ কিছু রোগভোগও দূরে থাকে তাঁদের থেকে! অবাক হলেন? তা হলে পড়তে থাকুন!

দূরে থাক রোগভোগ
সর্দিকাশি, জ্বরজারি মাঝেমাঝেই ভোগায় আপনাকে? এ সব রোগ ঘন ঘন হওয়া মানে কিন্তু আপনার শরীরের ইমিউনিটি অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তেমন জোরালো নয়। জানেন কি, এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে তুলতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে নিয়মিত যৌন সম্পর্ক। গবেষকেরা জানাচ্ছেন সপ্তাহে একবার অথবা দু’বার যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন যাঁরা, তাঁদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। অ্যান্টিবডিই হল আমাদের শরীরের প্রথম প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সাধারণ রোগবহনকারী ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণুকে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধতে দেয় না অ্যান্টিবডি। তাই পরেরবার সর্দিকাশি হলে মুড়িমুড়কির মতো ভিটামিন সি আর রসুনের গুলি না খেেয় বরং বিছানায় ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত তৈরি করুন! যৌনজীবন রঙিন হয়ে উঠবে, জ্বরজারিও আর কাছে ঘেঁষতে পারবে না!

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে
ডাক্তারেরা বলেন, দিনে 20 মিনিট হাঁটলে যে ফল হয়, এক একটা সেক্স সেশন থেকেও সেই একই ফল পাওয়া যায়। কার্ডিও এক্সারসাইজ় করার সময় শারীরিক পরিশ্রম অনেক বেশি হয়। সেক্সে ততটা পরিশ্রম মোটেও হয় না, কিন্তু পরীক্ষায় দেখা গেছে সেক্সের সময় অ্যাকটিভ পার্টনারের হৃদস্পন্দনের গতি মিনিটে 120 বিট পর্যন্ত বেড়ে যায়। যে কোনও হালকা ব্যায়ামের সময়ও হৃদস্পন্দনের গতি এরকমই থাকে। কাজেই সেক্সকে আমরা হালকা ব্যায়ামের সঙ্গে তুলনা করতেই পারি, আর ব্যায়ামের যা যা সুফল সব কিছুই আপনাকে দিতে পারে শারীিরক ঘনিষ্ঠতা। বাড়তি পাওনা মানসিক তৃপ্তি! কী ভাবছেন, এর পরেও মোটিভেশন দরকার আপনার?

ঝলমলে ত্বকের চাবিকাঠি
নিয়মিত যৌন সম্পর্কে যাঁরা লিপ্ত হন, তাঁদের ত্বক অনেক বেশি ঝলমলে, তারুণ্যে ভরপুর হয়। শারীরিক ঘনিষ্ঠতা শরীরের রক্ত সংবহন বাড়িয়ে তোলে, ফলে ত্বকে অক্সিজেন পৌঁছোয় বেশি। এর ফলে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে টক্সিনও বেরিয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ত্বক অনেক বেশি ঝকঝকে, জেল্লাদার দেখায়। শুধু তাই নয়, বয়সের কাঁটা উলটোদিকে ঘোরাতেও অব্যর্থ হাতিয়ার সেক্স। কারণ নিয়মিত যৌনতা ত্বকে কোলাজেন তৈরির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে দূরে থাকে বয়সজনিত দাগছোপ, বলিরেখা বা ত্বকের শিথিলতা। যাঁরা নিয়মিত সেক্স করেন তাঁদের শরীরে ইস্ট্রোজেন আর টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণ বেশি হয়। ইস্ট্রোজেন ত্বকের টানটানভাব, উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে, অন্যদিকে পেশির সক্ষমতা, হাড়ের স্বাস্থ্যের দেখভাল করে টেস্টোস্টেরন, যার অবশ্যম্ভাবী ফলশ্রুতি তারুণ্যে ভরা ত্বক আর স্বাস্থ্যের দীপ্তিতে ঝলমলে, সুঠাম চেহারা। বয়স কম দেখাতে তো বাধ্য, তাই না?

ব্যথাযন্ত্রণা থেকে মুক্তি
খামোকা পেনকিলার খেয়ে শরীরের বারোটা বাজাবেন না, বরং ভরসা রাখুন আদরে। গবেষণা বলছে, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা, স্পর্শ, ফোরপ্লে এবং ইন্টারকোর্সের মাধ্যমে শরীরে যে সব কেমিক্যাল তৈরি হয়, তা ব্যথাযন্ত্রণার বোধকে দূরে রাখে। ঋতুস্রাবের আগে পেটের ক্র্যাম্প, মাইগ্রেন, ক্লাস্টার হেেডক, টেনশনজনিত মাথাব্যথার মতো একগুচ্ছ অসুস্থতা থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন খুব সহজেই। ইন্টারকোর্সের সময় অর্গ্যাজ়ম হলে শরীরে ডোপামাইন, সেরোটোনিন, এনডরফিনের মতো হরমোন ক্ষরিত হয়। এ সব হরমোন রক্তে মিশে ব্যথার বোধ কমিয়ে দেয় এবং আনন্দের বোধ জাগ্রত করে তোেল। এই কারণেই যৌন সম্পর্কের পর শরীর আর মন, দুইই ঝরঝরে লাগে।

গাঢ় ঘুমের সন্ধানে
মুঠো মুঠো ঘুমের বড়ি না খেয়ে পরেরবার ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটু শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে দেখুন তো! দেখবেন ঘুম আসবে সহজেই। সেক্সের পর রক্তে অক্সিটোসিনের মাত্রা বাড়ে আর কর্টিসলের পরিমাণ কমে যায়। অক্সিটোসিন হরমোনের প্রভাবে আপনার মনে সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। অন্যদিকে কর্টিসল হল স্ট্রেস হরমোন, তাই কর্টিসল কমে যাওয়ায় মন চাপমুক্ত, ফুরফুের হয়ে ওঠে, একটা সার্বিক ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়। শরীর আর মন, দুইই শান্ত হওয়ার কারণে ঘুম আসে তাড়াতাড়ি। তাই ঘুমের বড়িকে জীবন থেকে একেবারে বাদ দিয়ে দিন, বদলে উষ্ণতা নিয়ে আসুন বিছানায়। শরীর তো ভালো থাকবেই, পাশাপাশি আপনাদের মানসির ঘনিষ্ঠতাও বাড়বে, দাম্পত্যজীবন হয়ে উঠবে সুখী, আনন্দময়