ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে দোকানে হামলা-দখলের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে নিউমার্কেটে গ্লোব শপিং সেন্টারের দোকানে হামলা-দখলের অভিযোগ

সিএনএমঃ

রাজধানীর নিউমার্কেটে গ্লোব শপিং সেন্টারের একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুট ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম, তাঁর ছেলে ও মার্কেটের ম্যানেজার জুয়েল রানাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে গ্লোব শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় ২৮ নম্বর দোকান আছিল ভেলর এ এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দোকান মালিক কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম ও জামাল আহমেদ জেনিন ও সাইফ হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী দোকানটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। অভিযুক্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, পারভেজ মোশাররফ ও অপু মৃধা এবং কর্মী মোস্তাক আহমেদ ও নাইম আহমেদ।

ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে একদল ব্যক্তিকে দোকানটিতে ভাঙচুর করতে দেখা যায়। ফুটেজে দোকানের ভাড়াটিয়া আমিনুল ইসলাম ও তাঁর ছেলেকে মারধরের দৃশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় মার্কেটের ম্যানেজার জুয়েল রানা ঘটনাস্থলে এলে তাঁকেও কিল-ঘুষি মারতে দেখা যায়। পাশাপাশি দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও ফুটেজে রয়েছে।

দোকানদার আমিনুল ইসলাম বলেন, জমি মালিকের থেকে আমি দোকানটা ভাড়া নিয়েছি। রানিং অক্টোবর মাসের এক তারিখ থেকে আমাকে ভাড়া দিয়েছে। এরপরে আমি এক তারিখ থেকে মালপত্র উঠাইছি। সিসি ফুটেজ লাগাইছি। মাল-টাল ঢুকিয়ে ব্যানার করেছি দোকানের নামে। এখন হঠাৎ করে হারুন নামে একজন বলতেছে উনি দোকান মালিক। এরপর ঢাকা কলেজের মাজেদ, জামালসহ ৩০ থেকে ৪০ জন দোকানের সবকিছু ছিঁড়ে, ছিন্ন-ভিন্ন করে ফালায় দিছে। মালপত্র বাহিরে ফেলিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমার ছেলেরে আমার সামনে মারধর করেছে। আমার সব মালপত্র, মানিব্যাগ, সবকিছু নিয়ে গেছে। আমাকে জবাই করার হুমকি দিয়েছে। আমাদের মারধর করে টাকাসহ মানিব্যাগ, টিভি, কম্পিউটার, মালপত্র সব বাহিরে ফেলে দিয়ে তারা দোকানে তালা মেরে দিয়েছে। দোকানের সামনে আমার মাল এখনো পড়ে আছে। আমি মাল এখনো ধরি নাই। লাখ দুই টাকা ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন এসেছিলো, তারা আপাতত দোকানটা বন্ধ রাখতে বলছে। এখন আমরা আর কি করবো।

গ্লোব শপিং সেন্টারের ম্যানেজার জুয়েল রানা বলেন, মার্কেটের ভূমির মালিক এক ভাড়াটিয়ার কাছে দোকান বরাদ্দ দেয়। তিনি দোকান চালাচ্ছিলেন। এরপর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ঢাকা কলেজের কিছু লোকজন এবং অবৈধভাবে দোকানের মালিক দাবি করা একজন বহিরাগত দোকান দখলের চেষ্টা করতেছে। এটা নিয়ে তারা আজকে দোকান দখল করতে এসে ভাড়াটিয়ার ওপরে হামলা-মারধর করেছে।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে দোকানের মালিক দাবি করা হারুনকে আগে কখনও দেনিনি। তিনি ইতালি প্রবাসী। মার্কেটের দোকানে হামলার ঘটনায় আমরা আইনগত পদক্ষেপ চাচ্ছি। মার্কেটে কোনো বিশৃঙ্খলা বা কিছু না হোক, মার্কেট সুষ্টুভাবে চলুক, যাতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে। কারণ এরকম হামলা হলে কাস্টমার প্লাস ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আমরা আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করতেছি।

নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে দোকানে হামলা-দখলের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে নিউমার্কেটে গ্লোব শপিং সেন্টারের দোকানে হামলা-দখলের অভিযোগ

সিএনএমঃ

রাজধানীর নিউমার্কেটে গ্লোব শপিং সেন্টারের একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুট ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম, তাঁর ছেলে ও মার্কেটের ম্যানেজার জুয়েল রানাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে গ্লোব শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় ২৮ নম্বর দোকান আছিল ভেলর এ এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দোকান মালিক কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম ও জামাল আহমেদ জেনিন ও সাইফ হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী দোকানটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। অভিযুক্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, পারভেজ মোশাররফ ও অপু মৃধা এবং কর্মী মোস্তাক আহমেদ ও নাইম আহমেদ।

ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে একদল ব্যক্তিকে দোকানটিতে ভাঙচুর করতে দেখা যায়। ফুটেজে দোকানের ভাড়াটিয়া আমিনুল ইসলাম ও তাঁর ছেলেকে মারধরের দৃশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় মার্কেটের ম্যানেজার জুয়েল রানা ঘটনাস্থলে এলে তাঁকেও কিল-ঘুষি মারতে দেখা যায়। পাশাপাশি দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও ফুটেজে রয়েছে।

দোকানদার আমিনুল ইসলাম বলেন, জমি মালিকের থেকে আমি দোকানটা ভাড়া নিয়েছি। রানিং অক্টোবর মাসের এক তারিখ থেকে আমাকে ভাড়া দিয়েছে। এরপরে আমি এক তারিখ থেকে মালপত্র উঠাইছি। সিসি ফুটেজ লাগাইছি। মাল-টাল ঢুকিয়ে ব্যানার করেছি দোকানের নামে। এখন হঠাৎ করে হারুন নামে একজন বলতেছে উনি দোকান মালিক। এরপর ঢাকা কলেজের মাজেদ, জামালসহ ৩০ থেকে ৪০ জন দোকানের সবকিছু ছিঁড়ে, ছিন্ন-ভিন্ন করে ফালায় দিছে। মালপত্র বাহিরে ফেলিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমার ছেলেরে আমার সামনে মারধর করেছে। আমার সব মালপত্র, মানিব্যাগ, সবকিছু নিয়ে গেছে। আমাকে জবাই করার হুমকি দিয়েছে। আমাদের মারধর করে টাকাসহ মানিব্যাগ, টিভি, কম্পিউটার, মালপত্র সব বাহিরে ফেলে দিয়ে তারা দোকানে তালা মেরে দিয়েছে। দোকানের সামনে আমার মাল এখনো পড়ে আছে। আমি মাল এখনো ধরি নাই। লাখ দুই টাকা ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন এসেছিলো, তারা আপাতত দোকানটা বন্ধ রাখতে বলছে। এখন আমরা আর কি করবো।

গ্লোব শপিং সেন্টারের ম্যানেজার জুয়েল রানা বলেন, মার্কেটের ভূমির মালিক এক ভাড়াটিয়ার কাছে দোকান বরাদ্দ দেয়। তিনি দোকান চালাচ্ছিলেন। এরপর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ঢাকা কলেজের কিছু লোকজন এবং অবৈধভাবে দোকানের মালিক দাবি করা একজন বহিরাগত দোকান দখলের চেষ্টা করতেছে। এটা নিয়ে তারা আজকে দোকান দখল করতে এসে ভাড়াটিয়ার ওপরে হামলা-মারধর করেছে।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে দোকানের মালিক দাবি করা হারুনকে আগে কখনও দেনিনি। তিনি ইতালি প্রবাসী। মার্কেটের দোকানে হামলার ঘটনায় আমরা আইনগত পদক্ষেপ চাচ্ছি। মার্কেটে কোনো বিশৃঙ্খলা বা কিছু না হোক, মার্কেট সুষ্টুভাবে চলুক, যাতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে। কারণ এরকম হামলা হলে কাস্টমার প্লাস ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আমরা আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করতেছি।

নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।