ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন অটোরিকশাচালক

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তাজমিনকে দিকভ্রান্ত করে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সুমন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন সুমন নামের ওই অটোরিকশাচালককে কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় নামিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়া করেন। এ সময় সুমনের মনে অসৎ উদ্দেশ্য জাগে। তিনি পদুয়ার বাজার থেকে শহরের দিকে না গিয়ে তাজমিনকে নিয়ে বিজরার দিকে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানোর পর তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ সময় তাজমিন ও সুমনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। তাজমিন দৌড়ে পালিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করে। তবে দুর্বল হয়ে পড়লে সুমন তাকে কাবু করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান তিনি। পরে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গিয়ে গোসল করেন। যাওয়ার সময় তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান সুমন। ফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামের দিকে চলে যান।

পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির নিবন্ধন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তিনি আদালতে জবানবন্দি দেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, তাকে আদালতে তোলার পর বিষয়টি জানা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন অটোরিকশাচালক

আপডেট সময় ১১:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএমঃ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তাজমিনকে দিকভ্রান্ত করে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সুমন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন সুমন নামের ওই অটোরিকশাচালককে কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় নামিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়া করেন। এ সময় সুমনের মনে অসৎ উদ্দেশ্য জাগে। তিনি পদুয়ার বাজার থেকে শহরের দিকে না গিয়ে তাজমিনকে নিয়ে বিজরার দিকে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানোর পর তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ সময় তাজমিন ও সুমনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। তাজমিন দৌড়ে পালিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করে। তবে দুর্বল হয়ে পড়লে সুমন তাকে কাবু করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান তিনি। পরে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গিয়ে গোসল করেন। যাওয়ার সময় তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান সুমন। ফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামের দিকে চলে যান।

পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির নিবন্ধন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তিনি আদালতে জবানবন্দি দেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, তাকে আদালতে তোলার পর বিষয়টি জানা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।