ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিজড়া নেত্রী মৌসুমী হত্যা: সিসিটিভি দেখে যুবক গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনিতে হিজড়া সম্প্রদায়ের নেত্রী মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া (৫২) হত্যাকাণ্ডে মো. মোমিন ওরফে শেখ রনি (৩৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গরু বিক্রির টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হিসেবে মোমিনকে শনাক্ত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি মোমিন স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মোমিনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার সব্দলপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার পাঠানপাড়ায় ফাল্গুনী হিজড়া নামে এক নেত্রীর বাসায় থাকতেন। সেখানে তাকে ওই নেত্রীর ‘কথিত স্বামী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হতো।

গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমবাগান রেলওয়ে কলোনির নিজ ঘর থেকে মৌসুমীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই ঘরে একাই বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার মৌসুমী তার বাসার পেছনের খামারের একটি গরু বিক্রি করেন। সেই গরুর বিক্রির টাকা তিনি ঘরে রেখেছিলেন। পরদিন আরও গরু কেনার পরিকল্পনাও ছিল তার।

মরদেহ উদ্ধারের পর তার ঘর থেকে গরু বিক্রির নগদ টাকা ও ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে টাকা লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

তদন্তে আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ১৪ মিনিটে সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক মৌসুমীর ঘরে ঢোকেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৫২ মিনিটে তাকে ওই ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই যুবককে মোমিন হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে ভোরের দিকে মৌসুমীর ঘর থেকে বাকবিতণ্ডার শব্দ শুনেছিলেন কয়েকজন প্রতিবেশী। তবে পরিচিত কেউ এসেছেন ভেবে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য পাখি রহমান তার ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে মৌসুমীকে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের কাছে ‘গুরু মা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। আমবাগান এলাকায় বসবাসের পাশাপাশি তিনি বাড়ির পেছনে গরুর খামার পরিচালনা করতেন। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, আর্থিক লেনদেনের বিষয়কে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে গ্রেপ্তার হওয়া যুবক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে পুলিশ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

হিজড়া নেত্রী মৌসুমী হত্যা: সিসিটিভি দেখে যুবক গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৭:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএমঃ

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনিতে হিজড়া সম্প্রদায়ের নেত্রী মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া (৫২) হত্যাকাণ্ডে মো. মোমিন ওরফে শেখ রনি (৩৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গরু বিক্রির টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হিসেবে মোমিনকে শনাক্ত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি মোমিন স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মোমিনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার সব্দলপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার পাঠানপাড়ায় ফাল্গুনী হিজড়া নামে এক নেত্রীর বাসায় থাকতেন। সেখানে তাকে ওই নেত্রীর ‘কথিত স্বামী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হতো।

গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমবাগান রেলওয়ে কলোনির নিজ ঘর থেকে মৌসুমীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই ঘরে একাই বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার মৌসুমী তার বাসার পেছনের খামারের একটি গরু বিক্রি করেন। সেই গরুর বিক্রির টাকা তিনি ঘরে রেখেছিলেন। পরদিন আরও গরু কেনার পরিকল্পনাও ছিল তার।

মরদেহ উদ্ধারের পর তার ঘর থেকে গরু বিক্রির নগদ টাকা ও ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে টাকা লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

তদন্তে আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ১৪ মিনিটে সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক মৌসুমীর ঘরে ঢোকেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৫২ মিনিটে তাকে ওই ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই যুবককে মোমিন হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে ভোরের দিকে মৌসুমীর ঘর থেকে বাকবিতণ্ডার শব্দ শুনেছিলেন কয়েকজন প্রতিবেশী। তবে পরিচিত কেউ এসেছেন ভেবে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য পাখি রহমান তার ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে মৌসুমীকে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের কাছে ‘গুরু মা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। আমবাগান এলাকায় বসবাসের পাশাপাশি তিনি বাড়ির পেছনে গরুর খামার পরিচালনা করতেন। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, আর্থিক লেনদেনের বিষয়কে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে গ্রেপ্তার হওয়া যুবক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে পুলিশ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে।