দুবাইয়ে বেড়েছে বাংলাদেশী নারীদের দেহব্যবসা
সিএনএম প্রতিবেদনঃ
দুবাইকে অনেকে ‘স্বপ্ন শহর’ বলে অভিহিত করেন। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অনেক নারী-পুরুষ এখানে পাড়ি জমান। পুরুষদের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল আয়ের সম্ভাবনা সীমিত থাকলেও, কিছু নারীর ক্ষেত্রে আয়ের পার্থক্য উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি দেখা যায়—যার মূল কারণ হিসেবে দেহব্যবসাকে চিহ্নিত করা হয়। রেস্টুরেন্ট জব বা বার ড্যান্সার জবের নামে অনেক নারী এই কাজে জড়িত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদের অধিকাংশই বাংলাদেশী।
একজন পুরুষ হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। কিছু নারীর ক্ষেত্রে অল্প সময়ে (দুই ঘণ্টায়) ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয়ের পাশাপাশি সোনা বা আইফোনের মতো উপহার পাওয়ার কথা বলা হয়। এই পার্থক্যের মূল কারণ হিসেবে দেহব্যবসাকেই দায়ী করা হয়। বাস্তবে দুবাইয়ে অনেক নারীর আয় এর চেয়েও বেশি হতে পারে, যার প্রধান উৎস হলো দেহব্যবসা।
ডেরা দুবাই, রাস আল খাইমাহ এবং আজমান অঞ্চলের বার ও হোটেলগুলোতে রেস্টুরেন্ট বা বার ড্যান্সার জবের নামে বাংলাদেশী নারীদের দেহব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। দুবাইয়ের প্রায় প্রতিটি হোটেলে বাঙালি নারীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ‘সাইলেন্ট বার’ নামে পরিচিত সিসা বার গুলোতে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের সেবা প্রদানকারী নারীদের দেখা মেলে।
এসব নারীর মধ্যে অনেকেরই বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বা দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
একাধিক লিখিত অভিযোগ সত্ত্বেও দূতাবাস কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করা হয়। অনেকে মনে করেন, অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে।
এ ধরনের কার্যকলাপ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বাংলাদেশী নারীদের বৃহৎ সংখ্যায় দেহব্যবসায় জড়িত থাকার চিত্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দুবাইয়ে বাংলাদেশী নারীদের দেহব্যবসা একটি গুরুতর সামাজিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত সমস্যা। রেস্টুরেন্ট বা বার জবের আড়ালে এই কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার ও দূতাবাসের পক্ষ থেকে তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, যাতে নিরীহ নারীরা শোষণের শিকার না হন এবং দেশের সুনাম রক্ষা পায়।
Reporter Name 























