ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

বাস ভাঙচুর, চালক ও কর্মীদের ওপর হামলা এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। এতে বিপাকে পড়েছেন শত শত যাত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট রাত ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার সময় বাসটি অটোরিকশার ওপর পড়ে যায়। এতে চারজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।

এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন বাস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন। কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা থেকে জামালপুরের দিকে আসা রাজীব পরিবহনের দুটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাসের চালক ও মালিকপক্ষের দাবি, হামলার সময় বাসে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি স্টাফদের মারধর করা হয় এবং তাদের কাছে থাকা টাকা-পয়সাও নিয়ে নেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে চালক ও কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সকালে ঢাকা ও অন্যান্য গন্তব্যে যাওয়ার জন্য টার্মিনালে এসে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মাইক্রোবাসসহ বিকল্প যানবাহনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, এই সুযোগে বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।

আলিফ নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, দুপুরে ঢাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সকালে টার্মিনালে এসে বাস বন্ধের বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, বাসে গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হতো। কিন্তু এখন বিকল্প হিসেবে মাইক্রোবাসে যেতে কয়েক হাজার টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে, যা তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটায় না। কিন্তু দুর্ঘটনার পর বাস মালিক বা চালকদের বাড়িঘরে হামলা এবং চালকদের মারধরের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখার কথা জানান তিনি।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, বাস মালিক ও চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে জামালপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেট সময় ১১:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএমঃ

বাস ভাঙচুর, চালক ও কর্মীদের ওপর হামলা এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। এতে বিপাকে পড়েছেন শত শত যাত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট রাত ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার সময় বাসটি অটোরিকশার ওপর পড়ে যায়। এতে চারজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।

এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন বাস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন। কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা থেকে জামালপুরের দিকে আসা রাজীব পরিবহনের দুটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাসের চালক ও মালিকপক্ষের দাবি, হামলার সময় বাসে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি স্টাফদের মারধর করা হয় এবং তাদের কাছে থাকা টাকা-পয়সাও নিয়ে নেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে চালক ও কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সকালে ঢাকা ও অন্যান্য গন্তব্যে যাওয়ার জন্য টার্মিনালে এসে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মাইক্রোবাসসহ বিকল্প যানবাহনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, এই সুযোগে বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।

আলিফ নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, দুপুরে ঢাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সকালে টার্মিনালে এসে বাস বন্ধের বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, বাসে গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হতো। কিন্তু এখন বিকল্প হিসেবে মাইক্রোবাসে যেতে কয়েক হাজার টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে, যা তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটায় না। কিন্তু দুর্ঘটনার পর বাস মালিক বা চালকদের বাড়িঘরে হামলা এবং চালকদের মারধরের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখার কথা জানান তিনি।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, বাস মালিক ও চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে জামালপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।