ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভুয়া সোর্স ও মাদক ব্যবসায়ী আমির প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি অভিযোগে থানায় জিডি চাষাবাদে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছেন কৃষকরা দলের ভেতরে গণতন্ত্র না থাকলে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে তেজগাঁও থানার ওসি ও ওসি তদন্তসহ ৪ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরাপত্তার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫০১ জন, মামলা ৫৩ টি শহীদ কাজী নাজিম উদ্দীন সেতু’র উদ্বোধন জরুরী নোটিশ  নোবিপ্রবি অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের সুবিধার্থে পরিবেশবান্ধব দুটি ই-কার উদ্বোধন ৪ টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার,গ্রেফতার ৬

চাষাবাদে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছেন কৃষকরা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:৩০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার পাহাড় অনন্তপুর গ্রামের কৃষকরা কৃষিকাজকে একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা হিসেবে প্রমাণ করে চাষাবাদে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছেন। সঠিক পদ্ধতি ও উপযুক্ত পরামর্শের অভাবে একসময় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ না দেখলেও, বর্তমানে উন্নত জাতের বীজ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ব্যবস্থাপনার কল্যাণে ওই এলাকার কৃষকদের ভাগ্যের চাকা দ্রুত ঘুরে যাচ্ছে।এক মৌসুমে মাত্র পাঁচ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে ছয় মাসের ব্যবধানে প্রায় পনেরো লাখ টাকা আয় করেছেন স্থানীয় এক উদ্যোগী কৃষক।প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ কৃষক হিসেবে কাজ শুরু করলেও নিজের প্রচেষ্টা ও একাগ্রতায় তিনি বর্তমানে এগ্রোয়ান গ্লোবাল লিমিটেডের একজন স্মার্ট ডিলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

বর্তমানে নিজের চব্বিশ বিঘা জমিতে বেগুন, পেঁপে, তরমুজ ও শসার সমন্বিত চাষাবাদের পাশাপাশি তিনি এলাকার অন্য কৃষকদেরও আধুনিক কৃষিতে সরাসরি উদ্বুদ্ধ করছেন। স্থানীয় কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওই এলাকায় ‍‍`কৃষি পরামর্শ ক্লাব‍‍` নামে দুটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিকভাবে ষাটজন কৃষক যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সভাগুলোতে এক থেকে দেড়শো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন। প্রতি সপ্তাহে কৃষি কর্মকর্তারা এই ক্লাবে উপস্থিত হয়ে কীটনাশক প্রয়োগের সময়সূচি, সারের পরিমিত ব্যবহার এবং সময়োপযোগী ফসল নির্বাচনের বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় এবার ওই এলাকার মাঠে প্রায় পঁচিশ বিঘা জমিতে অসময়ের মরিচ চাষ করা হয়েছে এবং ‍‍`বিগ বস‍‍` জাতের বেগুন প্রায় বত্রিশ বিঘা জমিতে আবাদ করে কৃষকরা দারুণ ফলন পেয়েছেন। এছাড়া পঁয়ষট্টি দিন আগে রোপণ করা ‍‍`স্মার্ট বয়‍‍` জাতের তরমুজ চাষেও তারা ভালো ফলনের আশা করছেন।

বেড তৈরি, মালচিং পদ্ধতিতে ত্রুটি এবং গাছ লাগানোর সারি নিচু হওয়ায় কিছু গাছ মারা গেলেও তিন থেকে চার হাজার তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় তরমুজ চাষিরা প্রত্যাশিত আট থেকে দশ লাখ টাকার বদলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

ভুয়া সোর্স ও মাদক ব্যবসায়ী আমির প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি অভিযোগে থানায় জিডি

চাষাবাদে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছেন কৃষকরা

আপডেট সময় ১২:৩০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

সিএনএমঃ

ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার পাহাড় অনন্তপুর গ্রামের কৃষকরা কৃষিকাজকে একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা হিসেবে প্রমাণ করে চাষাবাদে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছেন। সঠিক পদ্ধতি ও উপযুক্ত পরামর্শের অভাবে একসময় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ না দেখলেও, বর্তমানে উন্নত জাতের বীজ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ব্যবস্থাপনার কল্যাণে ওই এলাকার কৃষকদের ভাগ্যের চাকা দ্রুত ঘুরে যাচ্ছে।এক মৌসুমে মাত্র পাঁচ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে ছয় মাসের ব্যবধানে প্রায় পনেরো লাখ টাকা আয় করেছেন স্থানীয় এক উদ্যোগী কৃষক।প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ কৃষক হিসেবে কাজ শুরু করলেও নিজের প্রচেষ্টা ও একাগ্রতায় তিনি বর্তমানে এগ্রোয়ান গ্লোবাল লিমিটেডের একজন স্মার্ট ডিলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

বর্তমানে নিজের চব্বিশ বিঘা জমিতে বেগুন, পেঁপে, তরমুজ ও শসার সমন্বিত চাষাবাদের পাশাপাশি তিনি এলাকার অন্য কৃষকদেরও আধুনিক কৃষিতে সরাসরি উদ্বুদ্ধ করছেন। স্থানীয় কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওই এলাকায় ‍‍`কৃষি পরামর্শ ক্লাব‍‍` নামে দুটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিকভাবে ষাটজন কৃষক যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সভাগুলোতে এক থেকে দেড়শো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন। প্রতি সপ্তাহে কৃষি কর্মকর্তারা এই ক্লাবে উপস্থিত হয়ে কীটনাশক প্রয়োগের সময়সূচি, সারের পরিমিত ব্যবহার এবং সময়োপযোগী ফসল নির্বাচনের বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় এবার ওই এলাকার মাঠে প্রায় পঁচিশ বিঘা জমিতে অসময়ের মরিচ চাষ করা হয়েছে এবং ‍‍`বিগ বস‍‍` জাতের বেগুন প্রায় বত্রিশ বিঘা জমিতে আবাদ করে কৃষকরা দারুণ ফলন পেয়েছেন। এছাড়া পঁয়ষট্টি দিন আগে রোপণ করা ‍‍`স্মার্ট বয়‍‍` জাতের তরমুজ চাষেও তারা ভালো ফলনের আশা করছেন।

বেড তৈরি, মালচিং পদ্ধতিতে ত্রুটি এবং গাছ লাগানোর সারি নিচু হওয়ায় কিছু গাছ মারা গেলেও তিন থেকে চার হাজার তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় তরমুজ চাষিরা প্রত্যাশিত আট থেকে দশ লাখ টাকার বদলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।