ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেট্রোল পাম্পের কোটি টাকা ছিনতাই: ১২ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:৪৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের এক কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
ঘটনার সময় আসামিরা র‍্যাবের পোশাক (ভেস্ট), আইডি কার্ড, ওয়াকিটকি দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হকের পেট্রোল পাম্পটি বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)। তাদের কাছ থেকে ৪টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, লুণ্ঠিত নগদ ১২ লাখ টাকা, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট, একটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকার ডিএল ফিলিং স্টেশনের চারজন এক কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা বিমানবন্দর থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ক্রাউন প্লাজার কাছে বিআরটি লেনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত তাদের গতিরোধ করে। অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে ও আঘাত করে তাদের কাছ থেকে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ডিবি ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস শিকদার ও জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইলিয়াস শিকদারের বন্দর থানা এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে র‍্যাব লেখা ৩টি ভেস্ট ও ২টি ক্যাপ, ২টি নম্বর প্লেট, র‍্যাবের মনোগ্রামযুক্ত ৪টি ভুয়া পরিচয়পত্র, ৩টি ওয়াকিটকি সেট, ৪ জোড়া হাতকড়া, ২টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল ও যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টু রাড়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবিপ্রধান বলেন, রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেলের ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতির লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে নগদ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মিন্টু রাড়ীর ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব লেখা ৪টি ভেস্ট, স্টিলের ২টি ও অফসেট পেপারের ৪টি নম্বর প্লেট, র‍্যাবের মনোগ্রামযুক্ত ৪টি ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি সেট ও চার্জার, ৩ জোড়া হাতকড়া, ২টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে রবিউল ও মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর থানার পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগর বাড়ৈকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ডাকাতির লুণ্ঠিত নগদ ৯ লাখ টাকা।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারদের ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার সাগর বাড়ৈ তার ভাগে ৯ লাখ টাকা পেয়েছিলেন, তবে সেই টাকা সে ব্যয় করতে পারেননি। ডাকাতির টাকা বিভিন্নজনের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ হয়েছে। এর মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীরা বড় অংশ নিয়েছে এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদানকারীদের ভাগ দেওয়া হয়েছে।
ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে কোনো পুলিশের চুরি হওয়া অস্ত্র নয়, বরং অবৈধভাবে সংগৃহীত।
শফিকুল ইসলাম বলেন, মূল অর্গানাইজার বা মাস্টারমাইন্ড এখনো পলাতক। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে বিস্তারিত পরিকল্পনা জানা যাবে। তবে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো পূর্বপরিচয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি পেশাদার ক্রিমিনাল হিসেবে এটি সংগঠিত করেছেন। এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে যারা সরাসরি ঘটনার দিন সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

অপরাধীরা নির্দিষ্ট দিন বা স্থান বেছে নিয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যাংক ছুটির কারণে পেট্রোল পাম্পের টাকা কয়েক দিন জমা রাখা হয়েছিল। বন্ধের দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ টাকা জমার বিষয়টি জেনেই তারা এই ছিনতাই বা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।
ডিবিপ্রধান বলেন, গ্রেফতাররা সবাই পেশাদার অপরাধী এবং একাধিক মামলার আসামি। সাগর বাড়ৈর বিরুদ্ধে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। পলাতক মূলহোতার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মনে করছে এই গ্যাংটিকে পুরো ডিসম্যান্টল (ছত্রভঙ্গ) করতে পারলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

পেট্রোল পাম্পের কোটি টাকা ছিনতাই: ১২ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

আপডেট সময় ০২:৪৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

সিএনএমঃ
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের এক কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
ঘটনার সময় আসামিরা র‍্যাবের পোশাক (ভেস্ট), আইডি কার্ড, ওয়াকিটকি দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হকের পেট্রোল পাম্পটি বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)। তাদের কাছ থেকে ৪টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, লুণ্ঠিত নগদ ১২ লাখ টাকা, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট, একটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকার ডিএল ফিলিং স্টেশনের চারজন এক কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা বিমানবন্দর থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ক্রাউন প্লাজার কাছে বিআরটি লেনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত তাদের গতিরোধ করে। অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে ও আঘাত করে তাদের কাছ থেকে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ডিবি ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস শিকদার ও জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইলিয়াস শিকদারের বন্দর থানা এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে র‍্যাব লেখা ৩টি ভেস্ট ও ২টি ক্যাপ, ২টি নম্বর প্লেট, র‍্যাবের মনোগ্রামযুক্ত ৪টি ভুয়া পরিচয়পত্র, ৩টি ওয়াকিটকি সেট, ৪ জোড়া হাতকড়া, ২টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল ও যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টু রাড়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবিপ্রধান বলেন, রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেলের ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতির লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে নগদ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মিন্টু রাড়ীর ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব লেখা ৪টি ভেস্ট, স্টিলের ২টি ও অফসেট পেপারের ৪টি নম্বর প্লেট, র‍্যাবের মনোগ্রামযুক্ত ৪টি ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি সেট ও চার্জার, ৩ জোড়া হাতকড়া, ২টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে রবিউল ও মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর থানার পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগর বাড়ৈকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ডাকাতির লুণ্ঠিত নগদ ৯ লাখ টাকা।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারদের ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার সাগর বাড়ৈ তার ভাগে ৯ লাখ টাকা পেয়েছিলেন, তবে সেই টাকা সে ব্যয় করতে পারেননি। ডাকাতির টাকা বিভিন্নজনের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ হয়েছে। এর মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীরা বড় অংশ নিয়েছে এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদানকারীদের ভাগ দেওয়া হয়েছে।
ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে কোনো পুলিশের চুরি হওয়া অস্ত্র নয়, বরং অবৈধভাবে সংগৃহীত।
শফিকুল ইসলাম বলেন, মূল অর্গানাইজার বা মাস্টারমাইন্ড এখনো পলাতক। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে বিস্তারিত পরিকল্পনা জানা যাবে। তবে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো পূর্বপরিচয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি পেশাদার ক্রিমিনাল হিসেবে এটি সংগঠিত করেছেন। এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে যারা সরাসরি ঘটনার দিন সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

অপরাধীরা নির্দিষ্ট দিন বা স্থান বেছে নিয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যাংক ছুটির কারণে পেট্রোল পাম্পের টাকা কয়েক দিন জমা রাখা হয়েছিল। বন্ধের দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ টাকা জমার বিষয়টি জেনেই তারা এই ছিনতাই বা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।
ডিবিপ্রধান বলেন, গ্রেফতাররা সবাই পেশাদার অপরাধী এবং একাধিক মামলার আসামি। সাগর বাড়ৈর বিরুদ্ধে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। পলাতক মূলহোতার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মনে করছে এই গ্যাংটিকে পুরো ডিসম্যান্টল (ছত্রভঙ্গ) করতে পারলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।