ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কোটি টাকা আত্মসাৎ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:১৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মে ২০২২
  • ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে বলে মিথ্যা প্রচারণা চালাত চক্রটি। এসব প্রচারণা চালিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০-১২ শতাংশ হারে অগ্রিম টাকা আদায় করত।

চক্রটি বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে সেভ করা ভুয়া নাম্বারে কথা বলত। একপর্যায়ে কাজ দেওয়ার কথা বলে ভুয়া দালিলিক চুক্তি করত। গত ৩ বছরে প্রতারণার মাধ্যমে অন্তত ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বুধবার (১৮ মে) সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রের সদস্যদের মোবাইল নম্বর মনসুর ও মহসিনের মোবাইলে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নাম ও ছবি দিয়ে সেভ করত। পরে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে চ্যাটিং করে। এসব চ্যাটিং কন্টেন্ট তারা এমনভাবে তৈরি করে যাতে যেকোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনে করে তারা আগে অনেক কাজ অর্থের বিনিময়ে পাইয়ে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের খুবই সুসম্পর্ক রয়েছে বলে বোঝানো হত।

তিনি বলেন, চক্রের সদস্য সাইফুল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে। সে নিজেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি পরিচয় দেয়। ঠিকাদারদের সামনে কথিত সাইফুলের সঙ্গে লাউড স্পিকারে প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতেন মনসুর ও মহসিন। নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য হিসেবে উপস্থাপন করতে তারা হাজার হাজার কেটি টাকার ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাত। তারা কোনো অফিসে মিটিংয়ের সময় বেশভুষা পরিবর্তন করে দামি গাড়ি ও বডিগার্ড নিয়ে নিজেদের উপস্থাপন করত। নিজেদেরকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করার জন্য বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য ভ্রমণ করেছে মর্মে বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন করত।

চক্রের আরো ৫-৭ জন সদস্যের নাম পাওয়া গেছে জানিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মনসুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামের ছবি দেখা গেলেও তার কোনো পদ-পদবীর তথ্য আমরা পাওয়া যায়নি। সে নিজেকে বিশ্বস্ত করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছবি তুলত। সব ছবি তুলতে পেরেছে তাও নয়, কিছু ক্ষেত্রে ছবি এডিট করে ফেসবুকে শেয়ার করেছে।

তিনি বলেন, আটক মনসুর প্রথমে স্থানীয় এলাকায় জমির দালালি করত। পরে ঢাকায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীন এভাবে প্রতারণার বিষয়টি তার মাথায় আসে। এক পর্যায়ে কর্মচারীর মাধ্যমে সাইফুলের সঙ্গে পরিচয় হলে প্রতারণার জন্য চক্রটি গড়ে তোলে। আটক মহসিন প্রথমে ঢাকার মালিবাগে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ব্যবসা করত। ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে ফ্যাক্টরি বিক্রি করে দিয়ে মতিঝিলে মনসুরের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কোটি টাকা আত্মসাৎ

আপডেট সময় ০১:১৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মে ২০২২

বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে বলে মিথ্যা প্রচারণা চালাত চক্রটি। এসব প্রচারণা চালিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০-১২ শতাংশ হারে অগ্রিম টাকা আদায় করত।

চক্রটি বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে সেভ করা ভুয়া নাম্বারে কথা বলত। একপর্যায়ে কাজ দেওয়ার কথা বলে ভুয়া দালিলিক চুক্তি করত। গত ৩ বছরে প্রতারণার মাধ্যমে অন্তত ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বুধবার (১৮ মে) সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রের সদস্যদের মোবাইল নম্বর মনসুর ও মহসিনের মোবাইলে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নাম ও ছবি দিয়ে সেভ করত। পরে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে চ্যাটিং করে। এসব চ্যাটিং কন্টেন্ট তারা এমনভাবে তৈরি করে যাতে যেকোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনে করে তারা আগে অনেক কাজ অর্থের বিনিময়ে পাইয়ে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের খুবই সুসম্পর্ক রয়েছে বলে বোঝানো হত।

তিনি বলেন, চক্রের সদস্য সাইফুল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে। সে নিজেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি পরিচয় দেয়। ঠিকাদারদের সামনে কথিত সাইফুলের সঙ্গে লাউড স্পিকারে প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতেন মনসুর ও মহসিন। নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য হিসেবে উপস্থাপন করতে তারা হাজার হাজার কেটি টাকার ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাত। তারা কোনো অফিসে মিটিংয়ের সময় বেশভুষা পরিবর্তন করে দামি গাড়ি ও বডিগার্ড নিয়ে নিজেদের উপস্থাপন করত। নিজেদেরকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করার জন্য বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য ভ্রমণ করেছে মর্মে বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন করত।

চক্রের আরো ৫-৭ জন সদস্যের নাম পাওয়া গেছে জানিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মনসুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামের ছবি দেখা গেলেও তার কোনো পদ-পদবীর তথ্য আমরা পাওয়া যায়নি। সে নিজেকে বিশ্বস্ত করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছবি তুলত। সব ছবি তুলতে পেরেছে তাও নয়, কিছু ক্ষেত্রে ছবি এডিট করে ফেসবুকে শেয়ার করেছে।

তিনি বলেন, আটক মনসুর প্রথমে স্থানীয় এলাকায় জমির দালালি করত। পরে ঢাকায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীন এভাবে প্রতারণার বিষয়টি তার মাথায় আসে। এক পর্যায়ে কর্মচারীর মাধ্যমে সাইফুলের সঙ্গে পরিচয় হলে প্রতারণার জন্য চক্রটি গড়ে তোলে। আটক মহসিন প্রথমে ঢাকার মালিবাগে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ব্যবসা করত। ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে ফ্যাক্টরি বিক্রি করে দিয়ে মতিঝিলে মনসুরের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়।