ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারপতন আন্দোলনে প্রবাসীদের সহায়তা চাইলেন ইমরান

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:৫৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২
  • ২২২ বার পড়া হয়েছে

ছবি: টুইটার

সপ্তাহখানেক আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানো ইমরান ইতোমধ্যে দেশজুড়ে সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। এই আন্দোলনে এবার প্রবাসী পাকিস্তানীদেরও যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

শুক্রবার সামাজিক যাগাযোগমাধ্যম টুইটারে একটি ভিডিওবার্তা টুইট করেছেন ইমরান খান। সেই ভিডিওবার্তায় প্রবাসী পাকিস্তানিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে পাকিস্তানে যে সরকার ক্ষমতাসীন রয়েছে, তার নেতৃত্বে রয়েছে কিছু ‘চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ’ এবং এই সরকারের পতন ও অবিলম্বে একটি সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে দেশের জনগণ আন্দোলন করছে।

গত শনিবার (১০ এপ্রিল) মধ্যরাতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে বিরোধীদলীয় এমপিদের অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান সফল ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খান, যিনি ২০১৮ সালে দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধ ও বিশ্বের কাছে শ্রদ্ধা পাওয়ার মতো দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

তবে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে সেনা শাসনে থাকা পাকিস্তানে তার ক্ষমতা আরোহনের নেপথ্যে সেনাবাহিনীর আশির্বাদ ছিল বলে মনে করা হয়। এ কারণেই বড় দুই দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও মুসলিম লিগকে (নওয়াজ) হটিয়ে ক্ষমতায় বসার সুযোগ পান তিনি।

সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে ইমরানের সম্পর্কের অবনতি হয়। এর মধ্যে বিরোধী দলগুলো জোট বেঁধে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে।

তারপর নানা নাটকীয়তার পর গত ১০ এপ্রিল সেই অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট হয় এবং তার ফলে ক্ষমতা হারান ইমরান খান, প্রধামন্ত্রীর গদিতে আসীন হন শেহবাজ শরিফ।

পিএমএল-এনের সাবেক সভাপতি নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন নওয়াজ। তার ভাই ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

ভিডিওবার্তায় ইমরান বলেন, ‘আমাদের দাবি হলো, জনগণকে তাদের সরকার বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। জনগণ যদি আমাদের চায়, তাহলে স্বাগত; আর যদি চোরদের নেতৃত্বাধীন সরকার চায়, তাহলেও আমরা মেনে নেব।’

‘কিন্তু, জনগণকে সেই বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক এবং অবিলম্বে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হোক।’

‘পাকিস্তানের জনগণ তাদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন। আপনাদের (প্রবাসী পাকিস্তানি) সমর্থন ও সহায়তা এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।’

সূত্র: এনডিটিভি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারপতন আন্দোলনে প্রবাসীদের সহায়তা চাইলেন ইমরান

আপডেট সময় ১০:৫৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২

ছবি: টুইটার

সপ্তাহখানেক আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানো ইমরান ইতোমধ্যে দেশজুড়ে সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। এই আন্দোলনে এবার প্রবাসী পাকিস্তানীদেরও যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

শুক্রবার সামাজিক যাগাযোগমাধ্যম টুইটারে একটি ভিডিওবার্তা টুইট করেছেন ইমরান খান। সেই ভিডিওবার্তায় প্রবাসী পাকিস্তানিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে পাকিস্তানে যে সরকার ক্ষমতাসীন রয়েছে, তার নেতৃত্বে রয়েছে কিছু ‘চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ’ এবং এই সরকারের পতন ও অবিলম্বে একটি সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে দেশের জনগণ আন্দোলন করছে।

গত শনিবার (১০ এপ্রিল) মধ্যরাতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে বিরোধীদলীয় এমপিদের অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান সফল ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খান, যিনি ২০১৮ সালে দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধ ও বিশ্বের কাছে শ্রদ্ধা পাওয়ার মতো দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

তবে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে সেনা শাসনে থাকা পাকিস্তানে তার ক্ষমতা আরোহনের নেপথ্যে সেনাবাহিনীর আশির্বাদ ছিল বলে মনে করা হয়। এ কারণেই বড় দুই দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও মুসলিম লিগকে (নওয়াজ) হটিয়ে ক্ষমতায় বসার সুযোগ পান তিনি।

সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে ইমরানের সম্পর্কের অবনতি হয়। এর মধ্যে বিরোধী দলগুলো জোট বেঁধে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে।

তারপর নানা নাটকীয়তার পর গত ১০ এপ্রিল সেই অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট হয় এবং তার ফলে ক্ষমতা হারান ইমরান খান, প্রধামন্ত্রীর গদিতে আসীন হন শেহবাজ শরিফ।

পিএমএল-এনের সাবেক সভাপতি নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন নওয়াজ। তার ভাই ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

ভিডিওবার্তায় ইমরান বলেন, ‘আমাদের দাবি হলো, জনগণকে তাদের সরকার বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। জনগণ যদি আমাদের চায়, তাহলে স্বাগত; আর যদি চোরদের নেতৃত্বাধীন সরকার চায়, তাহলেও আমরা মেনে নেব।’

‘কিন্তু, জনগণকে সেই বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক এবং অবিলম্বে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হোক।’

‘পাকিস্তানের জনগণ তাদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন। আপনাদের (প্রবাসী পাকিস্তানি) সমর্থন ও সহায়তা এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।’

সূত্র: এনডিটিভি