৬১/এ, দেশ বাংলা আবাসিক হোটেল এর ৪র্থ তলায় এক নারীকে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দালালচক্র নিয়ে আসে ঐ হোটেলে এক পর্যায়ে ঐ নারীকে হোটেলে আটক করে জোরপূর্বক পালাক্রমে দলবেধে ধর্ষন করে।
আমি স্বামী পরিত্যাক্তা এক কন্যা সন্তানের জননী। আমি বিগত দিনে ২ বছর সৌদিআরব চাকুরী করিয়া ঐ টাকায় জীবিকা নির্বাহ করিয়া আসিতেছি। এমতাবস্থায় আমি পুনরায় বিদেশ যাওয়ার জন্য মন স্থিও করিলে আমার একই থানা এলাকার পূর্ব পরিচিত ১ ও ৩ নং বিবাদী আমাকে প্রস্তাব দেয় যে, তারা আমাকে সৌদি আরব পাঠাতে পারবে যেহেতু আমি পুরানো লোক তাই আমার মাসিক বেতন হবে প্রায় বাংলাদেশী ৬০ হাজার টাকা। আর তাদেরকে দালালি বাবদ ৫০ হাজার টাকা আমার দিতে হবে তাহলে আমাকে তারা পাঠাইতে পারবে। আমি তাদের প্রস্তাবে রাজি হইলে তারা আমাকে ১৫/০৯/২০২৬ইং তারিখ নাইটের গাড়িতে ঢাকার আদম অফিসে কথাবার্তা বলার জন্য আমাকে তারা ঢাকায় নিয়ে আসে।
একপর্যায়ে আমাকে অজ্ঞাতনামা একটি আদম বেপারীর অফিসে নিয়ে বসিয়ে কথাবার্তা বলে তারা আমাকে তাদের বসের সাথে কথা দেখা করানোর জন্য তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেইট মোড় ঘটনাস্থল : ৬১/এ, দেশ বাংলা আবাসিক হোটেল এর ৪র্থ তলা রুম নং-৪২-এ নিয়ে আদম বেপারী তাদের বসের অফিস বলে ঐ রুমে নিয়ে আমাকে বসায়। সেখানে যাওয়ার পর ঐ রুমে আরো ২ জন মেয়েকে দেখতে পাই। ঐ মেয়েদের দেখিয়ে ১ ও ৩নং বিবাদী বলে ঐ মেয়েরাও বিদেশ যাওয়ার জন্য বসের সাথে দেখা করতে আসছে।
তখন আমি তাদের কাছে আমার পাসপোর্ট ও অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা ১ ও ৩নং বিবাদীর হাতে দেই। আমি সরল বিশ্বাসে সেখানে বসে ঐ মেয়েদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে মেয়েরা জানায় এটা আদম বেপারীদের ট্রেনিং সেন্টার, এখানে ট্রেনিং-এ টিকলেই সৌদি আরবে পাঠানো হবে। তখন আমি ঐ মেয়েদেরকে বলি, আমিতো সৌদি আরব বাসা-বাড়ির কাজে যাব এখানে কিসের ট্রেনিং দিব।অন্যান্য বিবাদীরা রুমে প্রবেশ করে আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাতাহাতি করে এক পর্যায়ে ২নং বিবাদী আমার মুখ ঝাপটে ধরে গালে কিস করে তখন আমি বুঝতে পারি এদের ভাব-উদ্দেশ্য ভালো না ঐ মুহুর্তে ১ ও ২নং বিবাদীকে বলি ভাই আমাকে কোথায় নিয়ে আসলেন আর আমার সাথে এগুলো কি হচ্ছে? তখন অন্যান্য বিবাদীরা হাসি-ঠাট্টা করে বলে আমি যদি তাদের সাথে সময় কাটায় এবং যৌন মিলামিশা করি তাহলে তারা আমাকে বিদেশ পাঠাইবে আর নয়তো পাঠাইবে না। ঐ মুহুর্তে আমি বিবাদীদের ভাব-উদ্দেশ্য ভালো না বুঝতে পারিয়া রুম থেকে বের হইতে যায় তখন ঐ রুমে থাকা মেয়েরা আমার চুলের মুঠি ধরিয়া ধাক্কা দিয়া ফেলে দিয়ে খাটের উপর শুয়াইয়া ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ নং বিবাদীগনরা ১০ নং অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের সহায়তায় টানা হেচড়া করিয়া আমার পরিহিত জামা কাপড় খুলিয়া বিবস্ত্র করিয়া আমাকে শারিরীক টর্চার করিয়া মধ্যযোগীয় কায়দায় বিবাদীরা আমার হাত-পা ধরিয়া রাখিয়া ১ হতে ৯নং বিবাদীগনরা আমাকে পালাক্রমে ধর্ষন করে। আমি ধর্ষকদের নির্যাতনের ফলে ডাক-চিৎকার করলে আমাকে হত্যাসহ নানা ধরনের ভয়-ভীতি দেখায় এবং বলে আমি ডাক-চিৎকার দিলে তাদের মোবাইলে ধর্ষনের ঘটনার করা ভিডিও চিত্র আমার পরিবার বা আমার এলাকার মানুষের কাছে পাঠানো হবে যাতে আমি আর সমাজে মাথা উচু করে চলা ফেরা করতে না পারি।
১ হতে ১০ নং সকল বিবাদীরা তাদের সাথে থাকা মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজ ধারন করে তাদের পরিচিত বিভিন্ন লোকের মোবাইলের ওয়াটসআপ, ম্যাসেঞ্জার, ইমুতে পাঠায়।
বিবাদীরা বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে হাসি ঠাট্টা করে বলে আমি নাকি তাদের নতুন সংগ্রহ করা ক্যাসেট। এক পর্যায়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি ঐ মুহুর্তে ৫নং বিবাদী সুমন আমার গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের বিদেশী প্যাচ চেইনটি নিয়ে যায়। তখন আমি ১ ও ৩নং বিবাদীকে বলি আমি তোমাদের সাথে যে আসছি আমার পরিবার জানিয়েই আসছি। আমার কিছু হলে তোমরা রেহাই পাবা না। একপর্যায়ে বিবাদীরা আমাকে নানাবিধ ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২নং বিবাদীকে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নামিয়ে দেয়। ঐ মুহুর্তে আমার অবস্থা ভালো না দেখিয়া এক পথচারী আমাকে জিজ্ঞেস করে আমার কি সমস্যা? তখন আমি পথচারীর কাছে আমার ঘটনা খুলে বলি ঐ পথচারী নাসির বলে বোন এ দেশ বাংলা আবাসিক হোটেলটি একটি খারাপ জায়গা পতিতালয় বললেই চলে। উল্লেখিত ঘটনার বিষয় ই-মেইলের মাধ্যমে ডিএমপি পুলিশ কমিশনার, যুগ্ন কমিশনার (ক্রাইম), মহা-পুলিশ পরিদর্শক বরাবর আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়া আসামীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করিয়া ঐ নারী ঐদিনেই রাত ১০ ঘটিকার সময় তেজগাঁও থানায় গিয়ে একটি এজাহারপত্র দেন।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এজাহার পাওয়ার পর প্রায় রাত ৩ঘটিকার সময় ঘটনাস্থল দেশ বাংলা আবাসিক হোটেল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল হতে একজন নারীসহ বেশকিছু ঘটনা জড়িত ব্যক্তিদের পুলিশ গ্রেফতার করে। অদৃশ্য কারণে গ্রেফতারকৃতদের তেজগাঁও থানা ওসি তদন্ত ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দেন।
ঐ নারী ভিক্টিমকে তেজগাঁও থানায় নিয়ে একজন মহিলা পুলিশের পাহারায় আটক করে ধর্ষনের কোন চিকিৎসা না করে শহীদ সোরওরায়ারদী হাসাপাতালে নিয়ে ১৭/০৯/২০২৬ইং তারিখ রাত ১.২২ মিনিট সময় তার শরীরে নিলাফুলাসহ অন্যান্য ইনজুরীরর চিকিৎসা করানো হলেও ভিক্টিম জানায় তারা ধর্ষনের কোন চিকিৎসা করানো হয় নাই ঐ দিন। এরপর ভিক্টিমের ঘটনা ১৬/০৯/২০২৬ইং তারিখে ঘটলেও ঢাকা মেডিকেলের ওসিসি বিভাগে চিকিৎসা না করিয়ে ভিক্টিমকে থানায় ৩দিন আটকে রেখে তেজগাঁও থানার ওসি তদন্ত ও নারী পুলিশ সদস্যসহ বেশকিছু পুলিশ সদস্যরা তাকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে মানুষিক টর্চারে রেখে ১৯/০৯/২০২৬ইং তারিখ অজ্ঞাতনামা একটি হাসপাতালে নিয়ে কোনরকম চিকিৎসা করায়। পুলিশের কাছে ভিক্টিম জানাতে চায় মেডিকেলে নিয়ে তার কোন ধর্ষনের পরিক্ষা করানো হয়েছে কি না এবং ঐ তথ্য আদালতেে প্ররণ করানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে ভিক্টিমকে ০৫ পাতার একটি এজাহারপত্র ধরিয়ে দিয়ে বলে এটা গ্রামে নিয়ে ধুয়ে পানি খেয়েও যে হোটেলের নামে মামলা করেছো ঐ হোটেল থেকে তেজগাঁও থানা পুলিশ মাসে ৮ লক্ষ টাকা বখশিশ পায়।
তুমি পুলিশের শত্রু, পুলিশের মাসিক মোটা অংকের অর্থের ক্ষতি করেছো। ঐ নারীকে মারমুখি করে রাস্তায় ছেড়ে দেয়। মামলার এজাহার পড়ে ভিক্টিম জানতে পারে তার মামলা নং-২১, তারিখ-১৭/০৯/২০২৬ইং, বাৎসরিক নম্বর-২১২, ধারা ৯(৩)৩০. নারী ও শিশু দমন আইন ২০০০; তৎসহ ৩৮০ পেনালকোড ১৮৬০ পালাক্রমে ধর্ষন. ধর্ষনের সহায়তা ও চুরি করার অপরাধ ভিক্টিম জানায় মামলার কাগজ এক আইনজীবিকে পড়ানো হলে আইনজীবি সারওয়ার হোসেন বলেন ভিক্টিম এর ঘটনায় পন্যগ্রাফি আইনের মতো ঘটনাও ছিল কিন্তু ঐ ঘটনা বাদ দিয়ে পুলিশ মামলাটি নিয়েছে যাহা তেজগাঁও থানার মামলায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা দায়িত্ব অবহেলা করেছেন। তবে ভিক্টিম এর কথা শুনে ধারনা করা হচ্চে ভিক্টিম এর সাথে পুলিশ অপাশেদারিত্ব আচরণ করেছে। ভিক্টিম বলেন এ বিষয়ে তিনি খুব শ্রীঘ্রয় পুলিশের উর্ধ¦তন কর্মকর্তাদের কাছে সরনাপন্ন হবেন। কেন তার আসামীদের গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়া হলো ও মামলা আলমত নষ্ট করে ধর্ষনের পরিক্ষা সঠিকভাবে না করে ঢাকা মেডিকেল না নিয়ে আসামীদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে মামলার তদন্ত ভিন্ন দিকে নিতে অপরাধীদের সহায়তা করার লক্ষ্যে কাজ করায় ভিক্টিমকে ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে আবেদন জানানো হবে।
এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুনিরুজ্জামান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সিপেক্টর (নিরস্ত্র) সামিউল হক এর মোবাইল নম্বরে কল করে তাদের না পাওয়ায় এদের বক্তব্য জানা যায়নি।
“ক্রাইম নিউজ মিডিয়া”র অনুসন্ধানে খোজ নিয়ে জানা গেছে তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেইড মোড়ে ৬১/এ, ঐ ভবনটি ২০০০ সাল থেকে এক সময় বহু বছর মাস্টারের পার্লার নামেই পরিচিত ছিল। এরপর ২০২০ সালে এসে নারী ঘটিত ব্যবসায়ী নারী পাচারকারী একটি চক্র, শীর্ষ নারী পাচারকারী সুমন মোবাইল নং-০১৭৭০৩৩৯৯৪৪, ০১৭১১৯৯১৭৭২ এই ব্যক্তির নেতৃত্বে ঐ হোটেলটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে বর্তমান দেশ বাংলা আবাসিক হোটেল নাম ব্যবহার করে ঐ হোটেলের বিভিন্ন তলার কক্ষগুলোতে দালালরা বিভিন্ন প্রলোভনে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল হতে নারীদের সংগ্রহ করিয়া এনে আটক করে ঐ সকল নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গ্যাং র্যাপের ফলে এক পর্যায়ে দেহ প্রসারনী বানিয়ে ফার্মগেইটসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাটে ভিজিটিং কার্ড ফেলে রেখে এবং ফেসবুক ইউটিউবে অশ্লীল ছবি দিয়ে পোস্ট দিয়ে খদ্দের সংগ্রহ করিয়া মেয়েদের দিয়ে দেহব্যবসা করানো হয়। এক সময় অনেকে প্রথমে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপ করানো হলেও এক সময় ঐ নারীরা রোজগারের পথ বেচে নেয় আবার অনেক নারীকে কৌশলে দুবাই, মালয়শিয়া, ভারতসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে পাঠানো হয়ে থাকে।
কেউ দালাল চক্রের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলে তাদের উপর নেমে আসে নানা ধরনের সর্বনাশ। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত তেজগাঁও থানাধীন ফার্ম গেইট মোড় ৬১/এ দেশ বাংলা আবাসিক হোটেলের নারী ও মাদক সেবন বেচাকেনার মতো অপকর্ম বন্ধ হয়নি। তেজগাঁও থানা পুলিশ এ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি। কারণ জানার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুনির্জুজামান এর মোবাইল- ০১৭১৬৩২০০৯৪ নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে তাকে না পাওয়ায় হোটেলের অপকর্ম বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিবে কি না জানা যায়নি বা ঐ হোটেলটি চলা অপকর্মের কোন বৈধতা আছে কি না তাও জানতে পারিনি।
Reporter Name 























