ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

১০ হাজার ৩৮৭ পিস ইয়াবাসহ চালক ও যাত্রী আটক, প্রাইভেট কারগাড়ী জব্দ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

কক্সবাজারের উখিয়া ও হোয়াইক্যং এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ৩৮৭ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৬ লক্ষ ৬৩ হাজার ১০০ টাকা। সোমবার (২২ জুন ২০২৬) সকালে পৃথক এই অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।

উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়ন বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় টেকনাফ থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকার হোয়াইক্যং চেকপোস্টে পৌঁছালে বিজিবি সদস্য এবং বিজিবির বিশেষ ডগ স্কোয়াডের নারকোটিক্স ডগ ‘হেনরী’ তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে।

তল্লাশিকালে ডগ হেনরীর সংকেতের ভিত্তিতে প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর থেকে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পাচারের অভিযোগে প্রাইভেটকারের চালক আহসানুল করিমকে (২৭) আটক করা হয়। আটক আহসানুল করিম উখিয়া থানার মোহাম্মদ শফির বিল গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। একই সাথে মাদক পাচারে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করে বিজিবি।

এর আগে, সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে শীলখালী অস্থায়ী চেকপোস্টে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালায় বিজিবি। তল্লাশির একপর্যায়ে সিএনজির যাত্রী মোঃ রাশেদকে (১৯) সন্দেহভাজন হিসেবে বিশেষভাবে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে দুটি বায়ুরোধী নীল রঙের ছোট প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যার ভেতর থেকে গণনা করে ৩৮৭ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। আটককৃত রাশেদ টেকনাফ থানার বাহারছড়া গ্রামের আলী আহমদের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিরা বিজিবিকে জানায় যে, তারা টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে এই ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: জহিরুল ইসলাম আরো জানান, মাদক সরবরাহকারী এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধেও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম দমনে কাজ করে আসছে। সীমান্তে অপরাধ ও চোরাচালান দমনে সন্ত্রাস, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যেকোনো সঠিক তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

ওয়াশিংটনে পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠাল ইরান, মানত হবে ৭ শর্ত

১০ হাজার ৩৮৭ পিস ইয়াবাসহ চালক ও যাত্রী আটক, প্রাইভেট কারগাড়ী জব্দ

আপডেট সময় ০৯:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সিএনএমঃ

কক্সবাজারের উখিয়া ও হোয়াইক্যং এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ৩৮৭ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৬ লক্ষ ৬৩ হাজার ১০০ টাকা। সোমবার (২২ জুন ২০২৬) সকালে পৃথক এই অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।

উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়ন বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় টেকনাফ থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকার হোয়াইক্যং চেকপোস্টে পৌঁছালে বিজিবি সদস্য এবং বিজিবির বিশেষ ডগ স্কোয়াডের নারকোটিক্স ডগ ‘হেনরী’ তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে।

তল্লাশিকালে ডগ হেনরীর সংকেতের ভিত্তিতে প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর থেকে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পাচারের অভিযোগে প্রাইভেটকারের চালক আহসানুল করিমকে (২৭) আটক করা হয়। আটক আহসানুল করিম উখিয়া থানার মোহাম্মদ শফির বিল গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। একই সাথে মাদক পাচারে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করে বিজিবি।

এর আগে, সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে শীলখালী অস্থায়ী চেকপোস্টে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালায় বিজিবি। তল্লাশির একপর্যায়ে সিএনজির যাত্রী মোঃ রাশেদকে (১৯) সন্দেহভাজন হিসেবে বিশেষভাবে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে দুটি বায়ুরোধী নীল রঙের ছোট প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যার ভেতর থেকে গণনা করে ৩৮৭ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। আটককৃত রাশেদ টেকনাফ থানার বাহারছড়া গ্রামের আলী আহমদের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিরা বিজিবিকে জানায় যে, তারা টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে এই ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: জহিরুল ইসলাম আরো জানান, মাদক সরবরাহকারী এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধেও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম দমনে কাজ করে আসছে। সীমান্তে অপরাধ ও চোরাচালান দমনে সন্ত্রাস, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যেকোনো সঠিক তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।