ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পুলিশের সহায়তায় ৬ বছর পর মা-বাবার বুকে আমানউল্লাহ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:১৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ২৯৪ বার পড়া হয়েছে

পাবনা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় হারিয়ে যাওয়ার ছয় বছর পর পরিবার ফিরে পেয়েছে মো. আমানউল্লাহ (১২) নামের এক শিশু। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করে আতাইকুলা থানা পুলিশ। এ সময় হারানো সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবারে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

থানা সূত্রে জানা গেছে, এসআই শহিদুর রহমান গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার আতাইকুলা ইউপি এলাকায় ডিউটি করাকালীন ৯৯৯-এর সংবাদের ভিত্তিতে আমানউল্লাহকে উদ্ধার পরে থানায় নিয়ে আসেন। বিষয়টি পাবনা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জেলা পুলিশ পাবনার ফেসবুক পেজে প্রচার করেন।

পরে এসআই শহিদুর রহমান শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে সাঁথিয়া থানাধীন নারিয়াগোদাই গ্রামস্থ হাসান আলীর বাড়িতে যাওয়ামাত্রই বাড়ির লোকজন শিশুটিকে চিনতে পারে। শিশুটির আপন দাদি, চাচা, ফুফুসহ স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে তাদের ছয় বছর আগে হারিয়ে যাওয়া শিশু আমানউল্লাহ হিসেবে শনাক্ত করেন।

আমানউল্লাহর চাচা মো. হাসান আলী জানান, ছয় বছর আগে শিশুটির মা তার বাবাকে ছেড়ে শিশুটিকে ফেলে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান।

এদিকে আমানউল্লাহ বাসা খুঁজে না পেয়ে গাবতলী, সাভার, সাভারের উলাইনসহ জামালপুর জেলার বিভিন্ন জায়গায় তার মা-বাবার ঠিকানা খুঁজতে থাকে এবং পাশাপাশি বিভিন্ন লোকের দোকানে কাজকর্ম করে।

অন্যদিকে সন্তান হারানোর পর তার বাবা সিরাজুল ইসলাম ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকেন। তিনি সন্তাকে পেতে ঢাকার গাবতলীর বিভিন্ন কারখানায় কাজকর্ম করেন। তবু খুঁজে পাননি সন্তানকে।

তিনি বলেন, ছয় বছর আগে ছেলেকে হারিয়েছি। দিশেহারা হয়ে ঢাকার অলিতে-গলিতে খুঁজে ফিরেছি। ছেলেকে পাওয়ার আশায় গাবতলী এলাকায় শ্রমিকের কাজ করেছি। একসময় আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। ছয় বছর পর আজ আমাদের পরিবারে শান্তি ফিরেছে।

আতাইকুলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল এলে আমি সেখানে পুলিশের ফোর্স পাঠিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। অনেক দিন পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে বাড়িতে স্বজনদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছেলেটিকে প্রকৃত পরিবারের কাছে ফিরে দিতে পেরে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জাতির মুক্তির পথ ড. শেখ আকরাম আলী

পুলিশের সহায়তায় ৬ বছর পর মা-বাবার বুকে আমানউল্লাহ

আপডেট সময় ০২:১৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

পাবনা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় হারিয়ে যাওয়ার ছয় বছর পর পরিবার ফিরে পেয়েছে মো. আমানউল্লাহ (১২) নামের এক শিশু। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করে আতাইকুলা থানা পুলিশ। এ সময় হারানো সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবারে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

থানা সূত্রে জানা গেছে, এসআই শহিদুর রহমান গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার আতাইকুলা ইউপি এলাকায় ডিউটি করাকালীন ৯৯৯-এর সংবাদের ভিত্তিতে আমানউল্লাহকে উদ্ধার পরে থানায় নিয়ে আসেন। বিষয়টি পাবনা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জেলা পুলিশ পাবনার ফেসবুক পেজে প্রচার করেন।

পরে এসআই শহিদুর রহমান শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে সাঁথিয়া থানাধীন নারিয়াগোদাই গ্রামস্থ হাসান আলীর বাড়িতে যাওয়ামাত্রই বাড়ির লোকজন শিশুটিকে চিনতে পারে। শিশুটির আপন দাদি, চাচা, ফুফুসহ স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে তাদের ছয় বছর আগে হারিয়ে যাওয়া শিশু আমানউল্লাহ হিসেবে শনাক্ত করেন।

আমানউল্লাহর চাচা মো. হাসান আলী জানান, ছয় বছর আগে শিশুটির মা তার বাবাকে ছেড়ে শিশুটিকে ফেলে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান।

এদিকে আমানউল্লাহ বাসা খুঁজে না পেয়ে গাবতলী, সাভার, সাভারের উলাইনসহ জামালপুর জেলার বিভিন্ন জায়গায় তার মা-বাবার ঠিকানা খুঁজতে থাকে এবং পাশাপাশি বিভিন্ন লোকের দোকানে কাজকর্ম করে।

অন্যদিকে সন্তান হারানোর পর তার বাবা সিরাজুল ইসলাম ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকেন। তিনি সন্তাকে পেতে ঢাকার গাবতলীর বিভিন্ন কারখানায় কাজকর্ম করেন। তবু খুঁজে পাননি সন্তানকে।

তিনি বলেন, ছয় বছর আগে ছেলেকে হারিয়েছি। দিশেহারা হয়ে ঢাকার অলিতে-গলিতে খুঁজে ফিরেছি। ছেলেকে পাওয়ার আশায় গাবতলী এলাকায় শ্রমিকের কাজ করেছি। একসময় আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। ছয় বছর পর আজ আমাদের পরিবারে শান্তি ফিরেছে।

আতাইকুলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল এলে আমি সেখানে পুলিশের ফোর্স পাঠিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। অনেক দিন পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে বাড়িতে স্বজনদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছেলেটিকে প্রকৃত পরিবারের কাছে ফিরে দিতে পেরে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে।