ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:৩২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে রাশিয়া প্রস্তুত থাকলেও মস্কো এমন কোনো সংঘাত চায় না বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বৃহস্পতিবার তিনি সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না।

নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর পুতিন এ মন্তব্য করেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে সমর্থন করেন বলেও জানান তিনি।

পুতিন বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, কিন্তু ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, নিতে পারে।’ ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ হলে কোনো বিজয়ী থাকবে না। ইউরোপীয় দেশগুলোর বিষয়টি ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিলেন পুতিন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে ইউরোপ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে মস্কো এখনই তার জন্য প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে পশ্চিমারা ব্যর্থ হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, ইউরোপীয় নেতারাই তাকে ফোন করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এ আলোচনা সঠিক পথে এগোনোর একটি পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রীষ্মে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ন্যাটো জোটের দৃঢ়তা যাচাই করতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়া পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো দেশে সীমিত স্থল অভিযান অথবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়াতে পারেন পুতিন।

ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বললেও কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ধরনের পরোক্ষ হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোকে পরীক্ষা করছে রাশিয়া। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনা নিয়ে পরবর্তী বৈঠককে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ বন্ধে ছাড় আদায়ের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। পুতিন ন্যাটোর সম্প্রসারণকে ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন ইউরোপে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি কমানোর দাবি জানাতে পারেন। এর মধ্যে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও থাকতে পারে।

২০৩০ সালের মধ্যে ব্রিটেনের শত্রুরা দেশটিতে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।

টেলিগ্রাফে লেখা এক নিবন্ধে তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ঠেকাতে হলে তার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রথমত, ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষ দেশটিতে হামলার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হয়। আর তা ব্যর্থ হলে যুদ্ধের জন্য ব্রিটেনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

আপডেট সময় ০৮:৩২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে রাশিয়া প্রস্তুত থাকলেও মস্কো এমন কোনো সংঘাত চায় না বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বৃহস্পতিবার তিনি সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না।

নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর পুতিন এ মন্তব্য করেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে সমর্থন করেন বলেও জানান তিনি।

পুতিন বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, কিন্তু ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, নিতে পারে।’ ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ হলে কোনো বিজয়ী থাকবে না। ইউরোপীয় দেশগুলোর বিষয়টি ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিলেন পুতিন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে ইউরোপ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে মস্কো এখনই তার জন্য প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে পশ্চিমারা ব্যর্থ হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, ইউরোপীয় নেতারাই তাকে ফোন করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এ আলোচনা সঠিক পথে এগোনোর একটি পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রীষ্মে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ন্যাটো জোটের দৃঢ়তা যাচাই করতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়া পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো দেশে সীমিত স্থল অভিযান অথবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়াতে পারেন পুতিন।

ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বললেও কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ধরনের পরোক্ষ হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোকে পরীক্ষা করছে রাশিয়া। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনা নিয়ে পরবর্তী বৈঠককে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ বন্ধে ছাড় আদায়ের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। পুতিন ন্যাটোর সম্প্রসারণকে ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন ইউরোপে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি কমানোর দাবি জানাতে পারেন। এর মধ্যে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও থাকতে পারে।

২০৩০ সালের মধ্যে ব্রিটেনের শত্রুরা দেশটিতে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।

টেলিগ্রাফে লেখা এক নিবন্ধে তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ঠেকাতে হলে তার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রথমত, ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষ দেশটিতে হামলার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হয়। আর তা ব্যর্থ হলে যুদ্ধের জন্য ব্রিটেনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।