সিএনএম ডেস্কঃ
বন্ধু হারালে দুনিয়াটা খাঁ খাঁ করে…’, বন্ধুকে যদি ছেড়ে যেতে হয় প্রিয় স্থান? সেই যন্ত্রণা কাকে বলার? কাকে বোঝানোর? এতদিন চেষ্টা করেছেন ফিরিয়ে আনার। ছুটে গিয়েছেন বন্ধুর কাছেও। আজ সেই দিন। যেদিন নিজের-বান্ধবীর প্রিয় শহরে স্বাগত জানাবেন বন্ধুকেই। উচ্ছাস-আবেগ মিলেমিশে এলাকার।
দু’দশক পেরিয়ে তসলিমা ফিরছেন। দু’দশকের বেশি সময়ের বন্ধুত্ব বুকে আঁকড়ে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন বান্ধবী শর্মিষ্ঠা। বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করার মাঝেই আজকাল ডট ইন-কে শর্মিষ্ঠা জানালেন ‘ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়’ যে আনন্দ, তার সবটুকু। বলছেন, ‘আমরা পাঁচ বন্ধু। তসলিমাকে স্বাগত জানাতে আমরা ঘোর বর্ষাতেও হলুদ বসনে বসন্ত উদযাপন করতে এসেছি।’
বান্ধবী নির্বাসিত ছিলেন তাঁর অন্যতম প্রিয় শহর থেকে। যোগাযোগ ছিল কীভাবে? শর্মিষ্ঠা জানাচ্ছেন, ‘ও যেখানে থাকত, আমরা সেখানে দেখা করতাম। ওর কাছাকাছি আত্মীয়-স্বজন নেই, আমরাই জন্মদিনে পৌঁছে যেতাম।’ ২০০৭-এর পর, প্রায় ২০১৪ পর্যন্ত তাঁরা ২২ নভেম্বর ‘লজ্জা দিবস’ হিসেবে পালন করতেন। বান্ধবীকে ফিরিয়ে আনতেও চেষ্টাও কম করেননি। তবে আনতে পারেননি। একই সঙ্গে শর্মিষ্ঠা আশাবাদী ছিলেন, দিল্লির সরকার আর বাংলার সরকার একই দলের হওয়ায়, বান্ধবী ফিরতে পারবে। সেই দিন এল, ঘোর বর্ষায়, জুলাই শেষে। বলছেন, ‘সেদিন বাংলায় যা ভুল হয়েছিল, আজ তার প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে।’
দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন। ১ আগস্ট রবীন্দ্র সদনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। তসলিমা নাসরিনকে শহরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ওসমান গণি মল্লিকের সংগঠন সেকুলার মিশন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।
শুক্রবার সকালে কলকাতা পাড়ি দিয়েছেন তসলিমা। সমাজমাধ্যমে নিজের একটি ছবি ভাগ করে তিনি লেখেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।’ (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।) ওই পোস্টে তসলিমাকে দেখা গিয়েছে লাল পাড় সাদা শাড়িতে। প্রাণের শহরে ফেরার আগে, তাঁর সাজে ধরা পড়েছে একেবারে বাঙালিয়ানা।
Reporter Name 























