ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ২৭৫ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

ঢাকার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল জালিয়াতি, ঘুষ, রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া দাতা দেখিয়ে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী, দলিল লেখক ও স্থানীয়রা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ বা ‘টেবিল মানি’ ছাড়া অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয় না। এছাড়া অফিসের নকল নবিস মো. ফারুক ও মেহেদী হাসান রুমেলের মাধ্যমে কাজ না করলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সেবা নিতে আসা অভিযোগ করেন, ঘুষ ছাড়া ওই অফিসে কোনো কাজ হয় না। সেখানে সেবা নিতে আসা মানুষ আগে থেকেই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক বলেন, দলিল লেখকদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। সরকারি ওমেদারদের বাদ দিয়ে কমিশনভিত্তিক দলিল নিবন্ধনের পাশাপাশি কমিশন দলিলের ক্ষেত্রে দাতার বাড়িতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলিল নিবন্ধন না করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভুয়া দাতার টিপসই ব্যবহার করে কমিশন দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের তথ্য পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে নকল নবিস মেহেদী হাসান রুমেলের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভুয়া দাতা সাজিয়ে দলিল নিবন্ধন, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি এবং পে-অর্ডার জালিয়াতির মাধ্যমেও অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

অভিযোগে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আড়াকুল মৌজার একটি জমির ২০২৫ সালের ১২ মার্চ নিবন্ধিত বায়নানামা দলিলের মূল্য পরবর্তীতে পরিবর্তন করে কম দেখানো হয়। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি পরবর্তী সাফ কবলা দলিলে মূল বায়না গ্রহীতার পরিবর্তে তার ছেলের নামে দলিল নিবন্ধন করা হয়। এ ঘটনায় এক লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরেকটি ঘটনায় বেয়ারা মৌজার একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভুয়া নামজারি ও খাজনার কাগজ ব্যবহার এবং পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অফিস খরচের নামে আরও এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বাঘৈর মৌজার একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল গ্রহীতাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই বাতিল করা হয়। এ জন্য সাব-রেজিস্ট্রার ১০ লাখ টাকা এবং অফিস খরচের নামে আরও দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, দলিল বাতিলের আগেই সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির জন্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা হাতবায়না দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। মিরপুরে স্ত্রীর নামে একটি বাড়ি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এর আগে তিনি মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও সদরপুর, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, ঢাকা উত্তরার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং ময়মনসিংহের ত্রিশালে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণে বদলি হয়ে এসে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মের সুযোগ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সিএনএমঃ

ঢাকার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল জালিয়াতি, ঘুষ, রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া দাতা দেখিয়ে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী, দলিল লেখক ও স্থানীয়রা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ বা ‘টেবিল মানি’ ছাড়া অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয় না। এছাড়া অফিসের নকল নবিস মো. ফারুক ও মেহেদী হাসান রুমেলের মাধ্যমে কাজ না করলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সেবা নিতে আসা অভিযোগ করেন, ঘুষ ছাড়া ওই অফিসে কোনো কাজ হয় না। সেখানে সেবা নিতে আসা মানুষ আগে থেকেই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক বলেন, দলিল লেখকদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। সরকারি ওমেদারদের বাদ দিয়ে কমিশনভিত্তিক দলিল নিবন্ধনের পাশাপাশি কমিশন দলিলের ক্ষেত্রে দাতার বাড়িতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলিল নিবন্ধন না করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভুয়া দাতার টিপসই ব্যবহার করে কমিশন দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের তথ্য পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে নকল নবিস মেহেদী হাসান রুমেলের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভুয়া দাতা সাজিয়ে দলিল নিবন্ধন, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি এবং পে-অর্ডার জালিয়াতির মাধ্যমেও অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

অভিযোগে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আড়াকুল মৌজার একটি জমির ২০২৫ সালের ১২ মার্চ নিবন্ধিত বায়নানামা দলিলের মূল্য পরবর্তীতে পরিবর্তন করে কম দেখানো হয়। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি পরবর্তী সাফ কবলা দলিলে মূল বায়না গ্রহীতার পরিবর্তে তার ছেলের নামে দলিল নিবন্ধন করা হয়। এ ঘটনায় এক লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরেকটি ঘটনায় বেয়ারা মৌজার একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভুয়া নামজারি ও খাজনার কাগজ ব্যবহার এবং পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অফিস খরচের নামে আরও এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বাঘৈর মৌজার একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল গ্রহীতাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই বাতিল করা হয়। এ জন্য সাব-রেজিস্ট্রার ১০ লাখ টাকা এবং অফিস খরচের নামে আরও দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, দলিল বাতিলের আগেই সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির জন্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা হাতবায়না দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। মিরপুরে স্ত্রীর নামে একটি বাড়ি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এর আগে তিনি মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও সদরপুর, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, ঢাকা উত্তরার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং ময়মনসিংহের ত্রিশালে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণে বদলি হয়ে এসে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মের সুযোগ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।