ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জার্মানির ঘটনা আধুনিক সভ্যতার উপর ইসলামি জঙ্গিবাদের হামলা’- তসলিমা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:৫০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

বার্লিনে প্রাইড উৎসবে সমকামীদের শোভযাত্রায় ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে দেয় এক আততায়ী। এইসঙ্গে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলারও অভিযোগ। এই ঘটনায় একজন নিহত, ২৯ জন আহত হয়েছেন। জার্মান পুলিশের অনুমান, ঘাতক ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। এই ঘটনায় সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করলেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর মতে, “এটি শুধু এলজিবিটি মানুষের ওপর আক্রমণ নয়, এটি স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য এবং আধুনিক সভ্যতার ওপর ইসলামি জঙ্গিবাদের আক্রমণ।” এখানেই না থেমে ‘লজ্জা’, ‘দ্বিখণ্ডিত’-এর স্রষ্টা বলেন, “ইউরোপকে বুঝতে হবে— সহিষ্ণুতা মানে অসহিষ্ণুতাকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়।”

জার্মানিতে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ সমকামী সমাজের অন্যতম বড় অনুষ্ঠান। সেই উপলক্ষে শনিবার রাতে মধ্য বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কে জমায়েত হয়েছিলেন সমকামী সদস্যরা। পার্কের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের সামনে থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। আচমকাই সেই ভিড়ের মাঝে একটা সাদা গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়েন এক ব্যক্তি। তাতেই মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তিরত, আহত অনেকে। জার্মানির চ্যান্সেলার ফ্রেডরিখ মেরজ এই হামলার তীব্র নিন্দা করে যথাযথ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এটি ‘লোন উলফ অ্যাটাক’ নাকি দলগত পরিকল্পনা, তার তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও তসলিমা নিশ্চিতভাবে বার্লিনের ঘটনার জন্য ইসলামি মৌলবাদীকেই আক্রমণ করেছেন।

লেখিকা মন্তব্য করেছেন, “ইসলামি মৌলবাদীদের কাছে সমকামী মানুষ অপরাধী, স্বাধীন নারী অপরাধী, নাস্তিক অপরাধী, ধর্মের সমালোচক অপরাধী— অর্থাৎ তাদের সংকীর্ণ ধর্মীয় বিধান মেনে না চলা প্রত্যেক স্বাধীন মানুষই অপরাধী। এই মতাদর্শ কোনও নিরীহ ‘সাংস্কৃতিক ভিন্নতা’ নয়, এটি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ।” উল্লেখ্য, ইউরোপ উদার নাগরিক অধিকারের জন্য পরিচিত। ইসলামি জঙ্গিবাদ নিয়ে তাদেরকে রীতিমতো সতর্ক করেছেন তসলিমা নাসরিন।

আমার মেয়েবেলা খ্যাত সাহিত্যিক সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, “ইউরোপকে বুঝতে হবে— সহিষ্ণুতা মানে অসহিষ্ণুতাকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়। মানবাধিকারের নামে মানবাধিকার বিরোধী মতাদর্শকে আশ্রয় দেওয়া আত্মঘাতী উদারতা। ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগের ভয়ে ইসলামি জঙ্গিবাদের নাম উচ্চারণ না করলে জঙ্গিবাদ উধাও হয় না, বরং আরও সাহসী হয়।” যোগ করেছেন, “জার্মানি-সহ গোটা ইউরোপকে এখন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে— সভ্যতার স্বাধীন মূল্যবোধ রক্ষা করবে, নাকি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের কাছে একের পর এক মানুষকে বলি দেবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

‘জার্মানির ঘটনা আধুনিক সভ্যতার উপর ইসলামি জঙ্গিবাদের হামলা’- তসলিমা

আপডেট সময় ০৭:৫০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

বার্লিনে প্রাইড উৎসবে সমকামীদের শোভযাত্রায় ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে দেয় এক আততায়ী। এইসঙ্গে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলারও অভিযোগ। এই ঘটনায় একজন নিহত, ২৯ জন আহত হয়েছেন। জার্মান পুলিশের অনুমান, ঘাতক ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। এই ঘটনায় সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করলেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর মতে, “এটি শুধু এলজিবিটি মানুষের ওপর আক্রমণ নয়, এটি স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য এবং আধুনিক সভ্যতার ওপর ইসলামি জঙ্গিবাদের আক্রমণ।” এখানেই না থেমে ‘লজ্জা’, ‘দ্বিখণ্ডিত’-এর স্রষ্টা বলেন, “ইউরোপকে বুঝতে হবে— সহিষ্ণুতা মানে অসহিষ্ণুতাকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়।”

জার্মানিতে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ সমকামী সমাজের অন্যতম বড় অনুষ্ঠান। সেই উপলক্ষে শনিবার রাতে মধ্য বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কে জমায়েত হয়েছিলেন সমকামী সদস্যরা। পার্কের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের সামনে থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। আচমকাই সেই ভিড়ের মাঝে একটা সাদা গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়েন এক ব্যক্তি। তাতেই মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তিরত, আহত অনেকে। জার্মানির চ্যান্সেলার ফ্রেডরিখ মেরজ এই হামলার তীব্র নিন্দা করে যথাযথ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এটি ‘লোন উলফ অ্যাটাক’ নাকি দলগত পরিকল্পনা, তার তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও তসলিমা নিশ্চিতভাবে বার্লিনের ঘটনার জন্য ইসলামি মৌলবাদীকেই আক্রমণ করেছেন।

লেখিকা মন্তব্য করেছেন, “ইসলামি মৌলবাদীদের কাছে সমকামী মানুষ অপরাধী, স্বাধীন নারী অপরাধী, নাস্তিক অপরাধী, ধর্মের সমালোচক অপরাধী— অর্থাৎ তাদের সংকীর্ণ ধর্মীয় বিধান মেনে না চলা প্রত্যেক স্বাধীন মানুষই অপরাধী। এই মতাদর্শ কোনও নিরীহ ‘সাংস্কৃতিক ভিন্নতা’ নয়, এটি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ।” উল্লেখ্য, ইউরোপ উদার নাগরিক অধিকারের জন্য পরিচিত। ইসলামি জঙ্গিবাদ নিয়ে তাদেরকে রীতিমতো সতর্ক করেছেন তসলিমা নাসরিন।

আমার মেয়েবেলা খ্যাত সাহিত্যিক সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, “ইউরোপকে বুঝতে হবে— সহিষ্ণুতা মানে অসহিষ্ণুতাকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়। মানবাধিকারের নামে মানবাধিকার বিরোধী মতাদর্শকে আশ্রয় দেওয়া আত্মঘাতী উদারতা। ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগের ভয়ে ইসলামি জঙ্গিবাদের নাম উচ্চারণ না করলে জঙ্গিবাদ উধাও হয় না, বরং আরও সাহসী হয়।” যোগ করেছেন, “জার্মানি-সহ গোটা ইউরোপকে এখন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে— সভ্যতার স্বাধীন মূল্যবোধ রক্ষা করবে, নাকি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের কাছে একের পর এক মানুষকে বলি দেবে।”